উপমহাদেশে হকির জনপ্রিয়তা এখন কিছুটা তলানির দিকে। যদিও একসময় এই অঞ্চলে স্টিক-বলের খেলাটি রাজ করেছে। আর এই দাপট দেখানো খেলার খেলোয়াড়দের মধ্যে অন্যতম পাকিস্তানের শাহবাজ আহমেদ। যাকে ‘হকির ম্যারাডোনা’ অভিহিত করা হয়ে থাকে। ১৯৯৪ বিশ্বকাপ জয়ী সেই তারকা এবার গাঁটছড়া বাঁধতে আসতে পারেন বাংলাদেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে।
সাকিব আল হাসানের মোনার্ক মার্ট পদ্মা দলের পরামর্শক হয়ে ঢাকায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে ৫৪ বছর বয়সী সাবেক ফরোয়ার্ডের। এ নিয়ে ঢাকার দলটির সঙ্গে আলোচনা চলছে। আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে চূড়ান্ত হতে পারে তার আসা। লাহোর থেকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বাংলা ট্রিবিউনকে শাহবাজ বলেছেন, ‘আমার সঙ্গে এখনও দলটির চূড়ান্ত কিছু হয়নি। আলোচনা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কথাবার্তা ইতিবাচক। আমি ঢাকায় এলে পরামর্শক হয়ে কাজ করবো। যতদূর সম্ভব নিজের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করে নেবো। সোম কিংবা মঙ্গলবার চূড়ান্ত হতে পারে সবকিছু।’
তবে ঢাকায় আসুক বা না আসুক, শাহবাজ কিন্তু বাংলাদেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগকে নিজ দেশের চেয়ে এগিয়ে রেখেছেন। একসময় পাকিস্তান বিশ্ব হকিতে ওপরের সারিতে থাকলেও বর্তমানে কিছুটা ধুঁকছে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতে প্রো-হকি শুরু হয়েছে আগেই। সেটি করে নিজেদের আরও উন্নতি করেছে ধনরাজ পিল্লাই-সাবু বার্কিদের দেশ।
সেই জায়গায় পাকিস্তানের হকির জৌলুস অনেকটাই কমেছে। তাদের অতীত উজ্জ্বল হলেও বর্তমানে তা ক্ষয়িষ্ণু। ঠিক সেই জায়গায় এই অঞ্চলে ভারতের পরই হকির উজ্জ্বল অতীত ফেরাতে বাংলাদেশে শুরু হতে যাচ্ছে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ। বিষয়টি শাহবাজকে মনে করিয়ে দিতেই ফয়সালাবাদে জন্ম নেওয়া ফরোয়ার্ডের স্বীকারোক্তি, ‘তা ঠিক, আমাদের এখানে হকির ঐতিহ্য থাকলেও আমরা পারিনি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আয়োজন করতে। ভারতে প্রো-লিগ করে এগিয়ে রয়েছে। এখন বাংলাদেশও শুরু করতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে এই দেশের হকিতে নতুন করে জৌলুস ফিরবে। পাকিস্তানের চেয়ে তাই বাংলাদেশ এই জায়গায় এগিয়ে রয়েছে, তা মানতে হচ্ছে। আমাদের এখানে আর্থিক সীমাবদ্ধতা ও পরিকল্পনার কারণে পিছিয়ে রয়েছি।’
পাকিস্তানের হয়ে ৩০০ ম্যাচ খেলা শাহবাজের নামের পাশে গোলও কম নয়, প্রায় ১০০। যখন খেলতেন স্টিকের নৈপুণ্য দিয়ে দর্শকদের মোহিত করে রাখতেন। গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে দারুণ পাসে গোল করিয়ে মুন্সিয়ানা দেখানোর কারুকাজ অনেকের চোখে এখনও জ্বলজ্বলে। বিশেষ করে, ১৯৯৪ সালে পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে ঢাকায় মোহামেডানের হয়ে খেলতে আসেন (যদিও আসার কথা ছিল আবাহনীতে)। মাঠভর্তি দর্শক বিমোহিত হয়েছেন তখনই।
সেই স্মৃতি রোমন্থন করলেন শাহবাজ, ‘এখনও সেই দিনগুলোর কথা মনে আছে। ঢাকার মাঠে তখন ২৫ থেকে ৩০ হাজার দর্শক। তাদের উপস্থিতিতে মোহামেডানকে চ্যাম্পিয়ন করেছিলাম। এখানকার (বাংলাদেশ) হকির জনপ্রিয়তা তখনই বেশ ভালো বুঝতে পারছিলাম। আবাহনীতে তখন ধনরাজ পিল্লাইসহ অন্যরা খেলেছিল।’
’৯০-এর দশকে হকির বড় তারকা শাহবাজকে তুলনা করা হতো ম্যারাডোনার সঙ্গে। শাহবাজ বলছেন, ‘আসলে মানুষের ভালোবাসার কারণে আমি এই পর্যন্ত আসতে পেরেছি। পাকিস্তান, বাংলাদেশ, জার্মানি কিংবা হল্যান্ড- যেখানে খেলেতে গিয়েছি, চেষ্টা করেছি স্টিকের কারুকার্য করে দেখাতে। হয়তো সেই কারণে আমাকে হকির ম্যারাডোনা বলা হয়ে থাকে।’
হকির জনপ্রিয়তা ফিরিয়ে আনতে হলে ফ্র্যাঞ্চাইজি হকি ছাড়াও তৃণমূলে জোর দিতে বলেছেন শাহবাজ। ঘরোয়া হকি নিয়মিত হলে, সারা দেশে এর চর্চা থাকলে তখন হকির কথা মানুষের মুখে ফিরবে বলে তার প্রত্যাশা।









