মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে চলছে শেষ মুহূর্তের ঘষা-মাজা। মাঠে ঢুকতেই কাঠের টানেল নির্মাণে হাতুড়ি-পেরেকের শব্দ কানে বাজছিল। এছাড়া গ্যালারিও সাজছে নতুন রঙে। সব মিলিয়ে কর্মকর্তা-খেলোয়াড়দের মধ্যে রাজ্যের ব্যস্ততা। রাত পোহালেই যে স্বপ্নের ফ্র্যাঞ্চাইজি হকি লিগ টার্ফে গড়াবে। বৃহস্পতিবার বিকালে টার্ফের এক পাশে রাখা ট্রফি ঘিরে ছয় দলের অধিনায়কদের কণ্ঠে তাই প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাসই মিলেছে।
উদ্বোধনী ম্যাচেই মুখোমুখি হতে যাচ্ছে সাইফ পাওয়ার খুলনা ও একমি চট্টগ্রাম। ম্যাচটি শুরু হবে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায়। একই দিন খেলবে সাকিব আল হাসানের মোনার্ক মার্ট পদ্মাও। রাত সোয়া আটটায় তাদের প্রতিপক্ষ রূপায়ণ সিটি কুমিল্লা। এর আগে অবশ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ব্যস্ততাও রয়েছে। তবে ব্যস্ততা একপাশে রাখলে অধিনায়কদের কথায় এটা পরিষ্কার, হকিকে আরও জনপ্রিয় করতে বদ্ধপরিকর তারা।
একমি চট্টগ্রামের অধিনায়ক যেমন মনে করছেন, এই লিগের মাধ্যমে হকির চলমান অবস্থান পরিবর্তন সম্ভব, ‘এই লিগের মাধ্যমে হকির পরিবর্তন সম্ভব। প্রতিটি দল সমান। কেউ বলতে পারবেন না কোন দল এগিয়ে আছে। সবগুলোই হাই ভোল্টেজ ম্যাচ। কাল প্রথম ম্যাচ, আমাদের লক্ষ্য জয় দিয়ে শুরু করা। আমাদের ভালো অভিজ্ঞতাও হবে। সাইফ পাওয়ারটেক নিয়ে আমাদের পাকিস্তানি কোচ ওয়াসিম বিশ্লেষণ করেছেন। আমরা রক্ষণাত্মক কৌশল নেবো, তারপর পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলবো।’
সাইফ পাওয়ার খুলনার অধিনায়ক খোরশেদুর রহমান অবশ্য ভালো হকি খেলতে চাইছেন, ‘ফরমেশন ও কৌশল নির্ধারণের বিষয়গুলো নিয়ে কোচিং স্টাফরা কাজ করছেন। একমির সঙ্গে প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষ দলের পরিকল্পনা মোতাবেক আমরা খেলার চেষ্টা করবো। বিপ টেস্ট এবং পরে অনুশীলন হয়েছে। আমরা চাইবো দলের সমন্বয় বজায় রেখে ভালো হকি খেলতে।’
সাকিব আল হাসানের দল মোনার্ক পদ্মাকে ঘিরে বাড়তি আগ্রহ সবার। তাদের অধিনায়ক ইমরান হোসেন পিন্টু জানালেন, এই লিগ ঘিরে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারও, ‘এটা আমাদের জন্য সুখবর। এখান থেকে অনেক নতুন খেলোয়াড় উঠে আসবে। জুনিয়রদের বলেছি ভালো জিনিসগুলো এখান থেকে লুফে নিতে। বিদেশি খেলোয়াড় ও বিদেশি কোচিং স্টাফদের কাছ থেকে নতুন কিছু শেখার সুযোগ আছে। সাকিব আল হাসানের সঙ্গে ভার্চুয়ালি যোগাযোগ হচ্ছে। তিনি আমাদের শুভ কামনা জানিয়েছেন। সাকিবের দল হিসেবে চাপটা আমরা নিচ্ছি না। মাঠে নিজেদের সেরাটা দিতে চাই।’
সব দলের মধ্যে যে একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে; তার আভাস মিলেছে ওয়ালটন ঢাকার অধিনায়ক আশরাফুল ইসলামের কথায়, ‘এখানে ভালো মানের বিদেশি খেলোয়াড় আসছে। তাদের পাশে থেকে আমরা ও জুনিয়ররা নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করবো। এটা জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের ম্যাচের অভিজ্ঞতা বাড়াতে সহায়তা করবে। ক্লাব পর্যায়ে খেলার সময় যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়, এখানেও একই প্রতিযোগিতা হবে।’
লিগের দলগুলো এখন ১৮ সদস্যের। এরচেয়ে দল বড় হলে সবার জন্য সুবিধা হতো বলে মনে করেন মেট্রো এক্সপ্রেস বরিশালের অধিনায়ক রোমান সরকার, ‘সব দলের ফিজিক্যাল কন্ডিশন ভালো। তারপরও স্বল্প সময়ে অনেক ম্যাচ খেলতে হবে। আমার মনে হয় স্কোয়াড বড় হলে তা সব দলের জন্যই ভালো হতো। খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দিয়ে ম্যাচগুলো খেলা যেতো। কারণ, টাইট শিডিউলে ইনজুরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রকট। সেক্ষেত্রে বিকল্প খুঁজে পাওয়া কঠিন।’
নিজেদের প্রস্তুতি ভালো হওয়ার কথা শোনা গেলো রূপায়ণ গ্রুপ কুমিল্লার অধিনায়ক সোহানুর রহমান সবুজের কণ্ঠে, ‘বিকেএসপিতে ভালো সুবিধা নিয়ে আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি। রূপায়ণ গ্রুপ আমাদের ভালো সুবিধা দিচ্ছে। আমরা তা কাজে লগিয়ে মাঠে ভালো খেলতে পারবো বলে বিশ্বাস করি। এখানে সিনিয়র ও জুনিয়র মিলে গড়া দলগুলোর সঙ্গে মানসম্পন্ন বিদেশিও আছে। যাদের কম্বিনেশন ভালো হবে, তাদের এখানে ভালো করার সম্ভাবনা বেশি।’









