এসএসসিতে আবারও হোঁচট বাংলাদেশের

Send
রবিউল ইসলাম, শ্রীলঙ্কা (কলম্বো) থেকে
প্রকাশিত : ২১:২২, এপ্রিল ০১, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:২৮, এপ্রিল ০১, ২০১৭

আজ সারা দিন ঝকঝকে ছিল কলম্বোর আকাশ। ম্যাচ শেষেও আকাশের চেহারা উজ্জ্বল। দ্বিতীয় টেস্ট আর প্রথম ওয়ানডে হারের দুঃখে কাতর লঙ্কান ড্রেসিংরুমও আনন্দে উচ্ছ্বল অনেকদিন পর। খুশি তাদের সমর্থকরাও। নুয়ান কুলাসাকারার বলে তাসকিন আহমেদ ক্যাচ তুলে দেওয়ার সঙ্গে-সঙ্গে স্বপ্নের অপমৃত্যু ঘটলো টাইগারদের। প্রথম ম্যাচ জিতেও তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ভাগাভাগি করতে হলো, শ্রীলঙ্কার মাটিতে সিরিজ জয়ের স্বপ্ন পূরণ হলো না।

সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচটি শুরু হয়েছিল বৃষ্টির শঙ্কা মাথায় নিয়ে। কিন্তু শ্রীলঙ্কানদের ফিরে আসার দিনে আকাশ কাঁদেনি, কেঁদেছে বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তরা।

ব্যাটসম্যানদের ‘আত্মাহুতি’ই মূলত ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছে বাংলাদেশকে। অবশ্য প্রথম ১০ ওভারে বাংলাদেশের বোলারদের ছন্নছাড়া বোলিংও কম দায়ী নয় হারের জন্য।

আগের দিন মাশরাফি জানিয়েছিলেন, লঙ্কানদের হারাতে হলে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা খোলস থেকে বের হতে পারেননি। ১১ রানে তিন উইকেট হারিয়ে শুরুতেই বিপদে পড়ে যাওয়া দলকে উদ্ধারের চেষ্টা করেছিলেন সৌম্য সরকার ও সাকিব আল হাসান। কিন্তু তাতে শেষ রক্ষা হয়নি। পায়ের পেশিতে টান পড়লেও তা অগ্রাহ্য করে সাকিব লড়াই করেছিলেন। কিন্তু তাকে ফিরতে হয়েছে ৫৪ রান করে। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের আউটের সঙ্গে-সঙ্গেই আসলে শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের জয়ের স্বপ্ন!

আট নম্বরে নামা তরুণ অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ অবশ্য যথেষ্ট চেষ্টা করেছিলেন। জীবনের তৃতীয় ওয়ানডে হলেও ব্যাট হাতে আজই প্রথম নামলেন তিনি। আর নেমেই দলের ঘোর বিপদের সময় খেললেন ছয়টি বাউন্ডারি সমৃদ্ধ ৫১ রানের  এক দুর্দান্ত ইনিংস। ওই সময় মিরাজ বুক চিতিয়ে না দাঁড়ালে ৭০ রান নয়, নির্ঘাত আরও বড় ব্যবধানে হারতো টাইগাররা।

সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব গ্রাউন্ড বা এসএসসিতে একাদশ ম্যাচে দশম হারের পেছনে অনেকেই অধিনায়ককে ‘আসামীর কাঠগড়া’য় দাঁড় করাতে চাইছেন। বাংলাদেশের ক্রিকেটকে বদলে দেওয়া মাশরাফির ‘অপরাধ’-তিনি টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে স্পষ্টবাদী মাশরাফির বক্তব্য, তার সিদ্ধান্তটা ভুল ছিল না। এমনকি শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক উপুল থারাঙ্গাও জানিয়েছেন, টস জিতলে তিনিও ফিল্ডিং নিতেন।

আজ জেতার জন্য লঙ্কানরা কতটা মরিয়া ছিল, তা বোঝা যায় ম্যাচ শুরু হওয়ার ঘণ্টাখানেক আগে। সকাল সাড়ে আটটার দিকে শ্রীলঙ্কার প্রধান নির্বাচক সনাৎ জয়াসুরিয়া সাবেক সতীর্থ রোমেশ কালুভিথারানাকে নিয়ে সরাসরি চলে যান উইকেটের কাছে। সেখানে কোচ গ্রাহাম ফোর্ড ও অধিনায়ক থারাঙ্গা দু’জনই ছিলেন। হয়তো সেরা একাদশ কেমন হবে, সেটা নিয়ে আলোচনা করেন তারা। ডাম্বুলাতে আগের ম্যাচেও একই দায়িত্ব পালন করেছিলেন ওয়ানডে ইতিহাসের অন্যতম বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান জয়াসুরিয়া। প্রথম ওয়ানডে হেরে যাওয়ার পর ‘মাতারা হারিকেন’ দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছেন দলকে, যার সুফলও পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। দ্বিতীয় ম্যাচে তিন শ’র ওপরে রান করার পর শেষ ম্যাচে সব বিভাগেই ঔজ্জ্বল্য ছড়িয়ে যোগ্য দল হিসেবেই জিতেছে স্বাগতিকরা।

এসএসসি বেশ পুরোনো মাঠ। কিন্তু টাইগারদের জন্য এটা ‘ব্যর্থতার মাঠ’। সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে বাংলাদেশ এর আগে ১০টি ওয়ানডে খেলেছিল। তবে বর্তমান দলের কেউই এসএসসিতে আগে কোনও ওয়ানডে খেলেননি,  যার প্রভাব দেখা গেছে আজকের ম্যাচে।

হেরে যাওয়ায় মাশরাফি-সাকিব-তামিম-মুশফিকদের আফসোস করতেই হচ্ছে। বদলে যাওয়া বাংলাদেশের সামনে শ্রীলঙ্কার মাটিতে প্রথম সিরিজ জয়ের হাতছানি ছিল। কিন্তু হারের হতাশায় স্বপ্নপূরণে ব্যর্থ টাইগাররা। অধিনায়ক মাশরাফি সম্ভবত এমন সুযোগ আর পাবেন না। তবে আপাতত তিনি ওয়ানডে সিরিজ নিয়ে ভাবতে চান না। ‘নড়াইল এক্সপ্রেসে’র ভাবনায় এখন শুধুই টি-টোয়েন্টি সিরিজ। দুই ম্যাচের সিরিজটি শুরু হবে ৪ এপ্রিল।

এএআর/

আরও পড়ুন : 

হলো না সিরিজ জয়ের স্বপ্ন পূরণ

 

লাইভ

টপ