বাংলাদেশের মানুষের দুঃখ-কষ্টের শেষ নেই। নিরন্তর লড়াই চালিয়ে দিন কাটে এদেশের বহু মানুষের। অনেক কষ্টের মাঝে ক্রিকেটই যেন আজ আশার আলো। কিছু দিন পর পর জয় উপহার দিয়ে এদেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর কৃতিত্ব ক্রিকেটারদের। এবার ঈদের আগে তারা উপহার দিলেন অস্ট্রেলিয়া-বধের উল্লাস। কোরবানির ঈদের ঠিক তিন দিন আগে মিরপুর টেস্টে ২০ রানের জয়ের আনন্দে মাতোয়ারা পুরো দেশ।
ওয়ানডেতে বাংলাদেশের কীর্তির কথা নতুন করে বলার কিছু নেই। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে যেন ‘ব্যাটে বলে সংযোগ’ হচ্ছিল না। পাঁচ দিনের ক্রিকেট খেলার জন্য যে ‘টেম্পারমেন্ট’ প্রয়োজন, সেটারই যেন অভাব ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। অবশ্য ভাগ্যও কয়েকবার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে গিয়েছিল। ২০০৩ সালে মুলতানে জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছেও পাকিস্তানের কাছে ১ উইকেটে হারের দুঃখ কখনও ভোলা যাবে? কিংবা তার তিন বছর পর ফতুল্লায় এই অস্ট্রেলিয়ার কাছেই আশা জাগিয়েও ৩ উইকেটে হারের যন্ত্রণা? অনেকেরই ধারণা, ওই দুটো জয় পেলে অনেক এগিয়ে যেত এদেশের ক্রিকেট।
যা হয়নি, তা নিয়ে আফসোস করে লাভ নেই অবশ্য। পেছনের হতাশা পেছনেই ফেলে রেখে বাংলাদেশ আজ অন্য দল; অনেক আত্মবিশ্বাসী, আগ্রাসী, জয়ের জন্য উন্মুখ। তাই ক্রিকেটের সবচেয়ে সফল দলও পরাস্ত।
২০০০ সালের জুনে টেস্ট মর্যাদা পাওয়া বাংলাদেশ অভিষেক টেস্ট খেলেছিল সেই বছরের নভেম্বরে। ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে প্রথম টেস্ট জয়ের মধুর স্বাদ পেয়েছিল টাইগাররা। চট্টগ্রামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওই জয়ের পর আরও ৬টি টেস্ট জিতলেও সে সব জয় সেভাবে উপভোগ করতে পারেননি ক্রিকেটপ্রেমীরা। কারণ সেগুলো ছিল ‘দুর্বল’ ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল দ্বিতীয় সারির দল। খেলোয়াড়দের বিদ্রোহের কারণে সেবার পূর্ণশক্তির দল গড়তে পারেনি ক্যারিবীয়রা। আর জিম্বাবুয়ের ভঙ্গুর অবস্থা তো সবারই জানা।
তাই গত অক্টোবরে বাংলাদেশ যখন ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দিয়েছিল, নড়েচড়ে বসেছিল ক্রিকেট দুনিয়া। ক্রিকেটের আদিভূমি এবং অন্যতম পরাশক্তিকে হারালে গুরুত্ব না দিয়ে উপায় নেই। এ বছরের মার্চে শ্রীলঙ্কা সফরে আরেক কীর্তি, ‘ঐতিহাসিক’ শততম টেস্ট জয়। আর এবার একেবারে অস্ট্রেলিয়া ‘বধ’। আগের সেই প্রতাপ না থাকলেও দলটার নাম অস্ট্রেলিয়া। যে দলটি সবচেয়ে বেশি টেস্ট জিতেছে, যাদের টেস্ট জয়ের হার সবচেয়ে বেশি, তাদের বিপক্ষে এমন সাফল্য এক কথায় অসাধারণ।
অবশ্য এই সাফল্যের আত্মবিশ্বাস সিরিজ শুরুর আগেই উচ্চারিত হচ্ছিল দলের সবার কণ্ঠে। কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে নির্দ্বিধায় বলেছিলেন, বাংলাদেশের পক্ষে অস্ট্রেলিয়াকে দুই টেস্টেই হারানো সম্ভব। সাকিব আল হাসানও কোচের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে জানিয়েছিলেন একই কথা। টাইগারদের এমন আত্মবিশ্বাস বিস্মিত করেছিল অস্ট্রেলিয়াকে। অথচ এখন বিস্ময় ভুলে হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর পরিকল্পনায় ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে অতিথিদের!
বলার অপেক্ষা রাখে না, চট্টগ্রামে ৪ সেপ্টেম্বর শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশ মানসিকভাবে এগিয়ে থাকবে। ওই ম্যাচেও জিতলে অস্ট্রেলিয়া শুধু হোয়াইটওয়াশই হবে না, আরেকটি অর্জনেও সমৃদ্ধ হবে টাইগাররা। অর্জনটা অনন্য— কলম্বো, ঢাকা আর চট্টগ্রামে টানা তিন টেস্ট জয়ের ‘হ্যাটট্রিক’! সেটা পরের কথা, আপাতত প্রথম টেস্ট জিতে ঈদের আগেই সবার মনে উৎসবের আমেজ।







