জিম্বাবুয়ে নিজেরাই যখন নিজেদের প্রতিপক্ষ

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ২১:৪৫, নভেম্বর ১৩, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৪৫, নভেম্বর ১৩, ২০১৮

64c635701ff7a20d171d519d94ea9229-5be9a3571ea0bএই মুহূর্তে বাংলাদেশ সন্দেহাতীতভাবে ঢাকা টেস্ট জয়ের সুবাস পাচ্ছে। জিম্বাবুয়ের ইনিংসে বাংলাদেশ ফিল্ডিংয়ে অগণিত ক্যাচ ফেলেছে। কিন্তু জিম্বাবুয়ের কোনও ব্যাটসম্যান মুমিনুল হকের মতো সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পারলে এই টেস্ট ড্র করে সিরিজ জেতার একটা উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকতো।

হ্যামিলটন মাসাকাদজা, পিটার মুর বা ব্রেন্ডন টেলর তাদের প্রাপ্ত সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পারলে দিন শেষে অন্তত চারটি উইকেট জিম্বাবুয়ের হাতে থাকতো।

তৃতীয় দিনের পিচ যথেষ্ট ব্যাটিং সহায়ক ছিল। এই ইনিংসে ক্যাচ ফেলার কারণে নতুন বলের বোলাররা সফলতার মুখ দেখেননি। তুলনামূলক বিশ্লেষণে লাইন-লেন্থের ক্ষেত্রে জিম্বাবুয়ের পেসাররাই আনুপাতিক হারে ভালো বল করেছে এবং বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের প্যাভিলিয়নে পাঠিয়েছে। খণ্ডকালীন বোলার আরিফুল হকের বলটি ছিল তৃতীয় দিনের সেরা ডেলিভারি, যা দুর্দান্ত ব্যাট করা মুরের উইকেটের পতন ঘটায় এবং এই জুটি বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণেই দিন শেষে বাংলাদেশ অনেকটা নির্ভার।

টেস্ট ম্যাচে সেরা দুজন বিশেষজ্ঞ স্পিনার খেললে প্রত্যেকেই তাদের সেরাটা মেলে ধরার জন্য পর্যাপ্ত বল করার সুযোগ পান। নিজেদের দায়িত্ব ও করণীয় সম্পর্কে অনেক সচেতন থাকেন তারা। জিম্বাবুয়ে দুর্বল দল হলেও তাইজুল ইসলাম বাঁহাতি মুখ্য স্পিনার হিসেবে একাধিক স্পেলে লম্বা সময় বল করতে পেরেছেন এবং আবারও এই ম্যাচে ৫ উইকটে নিয়ে তার বোলিং মেধা তুলে ধরতে পেরেছেন, যেটা সম্ভবত সাকিব আল হাসানেরও নজর এড়ায়নি।

এরকম বিশেষ ব্যাটসম্যান সবসময়ই ব্যাট হাতে তার নৈপুণ্য মেলে ধরার সুযোগ পান। কিন্তু দলে যদি দুইজন বাঁহাতি স্পিনার থাকেন, তখন বিশেষজ্ঞ স্পিনার হিসেবে দলে অন্তর্ভুক্ত হয়েও তাইজুল বল করার যথেষ্ট সুযোগ পাননি। তাই এই সুবর্ণ সুযোগ এই সিরিজে তাকে কাজে লাগাতে দেখে আমি যথেষ্ট আনন্দিত। একটি অসাধারণ ক্যাচ ধরলেও ক্যাচিং ও ফিল্ডিংয়ে তাকে আরও উন্নতি করতে হবে।

একজন নাইট ওয়াচম্যানকে সকালের সেশনে আউট করতে না পারাটা নিশ্চয়ই বোলারদের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ। বল ব্যাটে খেলতে বাধ্য করার মতো লাইনে আমরা বল করতে পারিনি। মোস্তাফিজুর রহমান তার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি এবং তরুণ খালেদ আহমেদকে শর্ট পিচ লেন্থে বল করার প্রবণতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

স্পিনে দুর্বল সিকান্দার রাজাকে মুরের আগে কেন ব্যাট করতে পাঠানো হলো সেটা আমার বোধগম্য নয়। তবে স্পিনের বিপক্ষে মাসাকাদজা, টেলর ও মুরের ব্যাটিং কৌশল দলের অন্য খেলোয়াড়দের চেয়ে তুলনামূলকভাবে অনেক ভালো। তবে তারা আনুপাতিক হারে এই টেস্ট ম্যাচে রিভার্স সুইপের চেয়ে প্রথাগত ব্যাকরণ সম্মত সুইপের দিকে মনোনিবেশ করেছেন, এজন্য সিলেট টেস্টে তাদের প্রথম সারির দুইজন ব্যাটসম্যানের মতো কেউ বোল্ড হননি। তারপরও আমাদের ক্যাচ ফেলে দেওয়ায় প্রাপ্ত সুযোগ কাজে লাগানোর অনীহার কারণে এখন তারাই তাদের প্রতিপক্ষ।

পায়ের পেশিতে চোট পাওয়া তেন্দাই চাতারা যদি ব্যাট করতে নামতেনও, তাকে দ্রুত আউট করা মোটেই কঠিন কাজ হতো না বাংলাদেশের। চাতারাহীন দুর্বল পেস আক্রমণের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে দ্রুত প্যাভিলিয়নে ফেরা ইমরুল কায়েস ও লিটন দাসদের জন্য চতুর্থ দিনের মন্থর পিচের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার কাজটা অনেক সহজ হবে বলে আমার বিশ্বাস।

আসন্ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের কথা মাথায় রেখে ও এই সিরিজে সমতা আনার বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে জিম্বাবুয়েকে ফলো অনে ফেলে ব্যাট করতে পাঠাবে না বলেই আমার ধারণা। পেস বোলারদের বিশ্রামের প্রয়োজন এবং চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করার কোনও ঝুঁকি নেওয়া হবে একেবারেই অপ্রয়োজনীয়।

ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখন বাংলাদেশের হাতে এবং সেটি আরও মজবুত করে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে কতটা একতরফা জয় নিশ্চিত করা যায়, সেটার চিত্র চতুর্থ দিনে পরিষ্কার ফুটে উঠবে বলে আমার বিশ্বাস। এই টেস্টে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সেরা সুযোগটা প্রথম ইনিংসে ব্যাটসম্যানরা হাতছাড়া করেছে, এখন বল ও ব্যাট হাতে তা পুনরুদ্ধার হবে ইতিহাসের পাতায় গৌরবের নতুন কোনও কাব্য রচনার শামিল।

/এফএইচএম/

লাইভ

টপ