যেভাবে ৫-১০ বছরের নিষেধাজ্ঞা থেকে বেঁচেছেন সাকিব

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২০:২১, জুন ২৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:২৩, জুন ২৪, ২০২০

জুয়াড়ির সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য গোপন করার শাস্তি হিসেবে দুই বছর নিষিদ্ধ হয়েছেন সাকিব আল হাসান। অবশ্য এক বছরের স্থগিত নিষেধাজ্ঞা থাকায় আগামী অক্টোবরেই মাঠে ফিরতে পারবেন তিনি। তবে এই শাস্তিটা ৫ থেকে ১০ বছরেরও হতে পারতো! সাকিব নিজেই বিষয়টি জানিয়েছেন ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজ-এ ধারাভাষ্যকার হর্ষ ভোগলেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে। আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিটকে সহায়তা করায় কম শাস্তি পেয়েছেন এই অলরাউন্ডার।

সাকিব আগেই জানিয়েছিলেন, দীপক আগারওয়াল নামের জুয়াড়ির সঙ্গে যোগাযোগের বিয়য়টি তিনি হালকাভাবে নিয়েছিলেন। ভিডিও কলে হর্ষ ভোগলের সঙ্গে আলোচনার সময়ও বললেন একই কথা। তবে শুরু থেকেই আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিটকে সাহায্য করায় বড় শাস্তির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন তিনি।

সাকিবের ভাষায়, ‘আমি বিষয়টাকে খুব হালকাভাবে নিয়েছিলাম। যখন আমি দুর্নীতি দমন ইউনিটের লোকজনের সঙ্গে দেখা করলাম এবং বললাম, দেখি তারা সবকিছুই জানে। তাদের আমি সব তথ্য-উপাত্ত দিলাম, তারাও সবকিছু জানতো। সত্যি কথা বলতে এই কারণেই আমাকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে, নইলে আমি ৫ বা ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হতাম।’

নিজের ভুল বুঝতে পারছেন সাকিব। এই ভুলকে জীবনের বড় শিক্ষা হিসেবে দেখছেন তিনি, ‘আমি মনে করি এটা আমার বাজে একটা ভুল। কারণ আমার অভিজ্ঞতা, আমি যে পরিমাণ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছি এবং আইসিসির দুর্নীতি বিরোধী নিয়ম-নীতি নিয়ে যে পরিমাণ ক্লাস করেছি, তাতে আমার ওই ব্যাপারে রিপোর্ট না করা উচিত হয়নি। এজন্য আমি দুঃখিত। আমি মনে করি এই ধরনের বার্তা বা কল (বুকিদের কাছ থেকে) পেলে তা হালকাভাবে নেওয়া বা এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। এটা আমার জন্য বড় একটা শিক্ষা।’

সাকিব কয়েক দফা ওই জুয়াড়ির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, যার মধ্যে অন্যতম ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ঘরের মাঠের ত্রিদেশীয় সিরিজ ও তিন মাস পর আইপিএলে। এতবার যোগাযোগের ব্যাখ্যায় সাকিবের বক্তব্য, “দেখুন, আমরা হাজারও ফোনকল পাই, মেসেজ পাই, কয়টা আর মনে থাকে! একটা উদাহরণ দিতে পারি, ওই লোকটি যখন শেষবার বার্তা পাঠিয়েছিল, আমি জবাব দিয়েছিলাম, ‘স্যরি, কার সঙ্গে কথা বলছি?’ তার মানে, আমার মনেও ছিল না, কার সঙ্গে কথা বলছি। তার সঙ্গে কথা বলেছিলাম ২-৩ বছর আগে। ওই সময় আমি জানতামও না লোকটা কে, তার নম্বরও আমার কাছে ছিল না।”

সাকিবের উপলব্ধি, ‘যাই হোক, তারা যখন (আইসিসি দুর্নীতি দমন ইউনিট) তদন্ত করেছে, এসব তারা জানতো এবং পরিস্থিতি বুঝেছে। তবে সত্যি বলতে, কারও উচিত নয় এসব হালকাভাবে নেওয়া। ওই ধরনের বার্তা বা কল কারও হালকাভাবে নেওয়া বা ওভাবেই ফেলে রাখা উচিত নয়। দুর্নীতি দমন কর্তাদের জানানো উচিত। এই শিক্ষা আমি পেয়েছি, আর এটা বড় শিক্ষা।’

/কেআর/পিকে/

লাইভ

টপ