‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে পারবো, আশাও করিনি’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৪:৪৮, জুলাই ১০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:৫৮, জুলাই ১০, ২০২০

গত বছরের সেপ্টেম্বরে গণভবনে গিয়েছিলেন টোকিও অলিম্পিক নিশ্চিত করা রোমান সানা। বাংলাদেশের আর্চারিকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া এই আর্চারকে মিষ্টিমুখ করান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।করোনাকালে খুলনার বাসায় ব্যক্তিগতভাবে অনুশীলন করে যাচ্ছেন রোমান সানা। পরিস্থিতির উন্নতি হলে আবারও তীর-ধনুক নিয়ে মাঠের অনুশীলনে মেতে ওঠার অপেক্ষায় বাংলাদেশি আর্চার। আগামী বছরের টোকিও অলিম্পিক ঘিরে তার বড় স্বপ্ন। করোনাভাইরাসের কারণে একবছর পিছিয়ে যাওয়া টোকিও অলিম্পিকের ওয়েবসাইট ‘টোকিও ২০২০’-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেই স্বপ্ন স্বার্থক করে তুলতে চেষ্টার সঙ্গে নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে অনেক কথা বলেছেন রোমান।

২০১৯ সালে বিশ্ব আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ জিতে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন রোমান। এর আগে প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে উঠে প্রথমবারের মতো অলিম্পিকে নাম লেখান তিনি। সেই স্মৃতি এখনও টাটকা রোমানের মনে, ‘নেদারল্যান্ডসের সেই প্রতিযোগিতায় বিশ্বের চার নম্বর তারকা ইতালির মাউরো নেসপোলিকে হারানো আমার ক্যারিয়ারে বড় অর্জন। এটা বড় ম্যাচ ছিল। আমি আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ। এছাড়া যারা আমাকে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন তাদের প্রতিও। অলিম্পিকে সরাসরি খেলাটা আমার স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়াতে অনেক খুশি।’

অলিম্পিকে জায়গা করে নেওয়ার পর দেশে ফিরে রোমান পেয়েছিলেন দেশের মানুষের ভালোবাসা। ডাক পড়েছিল গণভবনেও। রোমানের কাছে এটা অন্যরকম পাওয়া, ‘আমি অলিম্পিকে জায়গা করে নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করি। তিনি আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। প্রত্যেক দেশেরই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করা কঠিন। তবে আমি অবাক হয়েছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে পারবো, আশাও করিনি।’

বাংলাদেশে আর্চারি একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছে। সেটাই তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের আর্চারির ‘পোস্টার বয়’, ‘আমার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ফুটবল ও ক্রিকেট বেশ জনপ্রিয় ছিল। কিছু মানুষ জানতো আর্চারির কথা। গত ছয় বছর ধরে আর্চারি একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছে। জনপ্রিয়ও হচ্ছে। এছাড়া আমি সত্যি আর্চারি ভালোবাসি। এটা ভদ্রলোকদের খেলা। যে কারণে একটু বেশিই ভালোবাসি।’

২০১৪ সালে এশিয়ান গ্র্যান্ড প্রিক্সে প্রথম সোনা জয়, তারপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। রোমান এখনও কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তার মতে, পরিশ্রমই আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে, ‘এটি ব্যক্তিগত খেলা। ইচ্ছা করলেই আপনি অনেক পদক জিততে পারবেন। নিজে যত শক্তিশালী হবেন তত পদক জেতার সুযোগ আসবে। যে কারণে খেলাটি আমি পছন্দ করি। কঠোর পরিশ্রমই আমাকে এই পর্যন্ত নিয়ে এসেছে। যখন আমি হারি, সেই হার থেকে শিক্ষা নেই। কোন অবস্থান থেকে খারাপ করেছি, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করি। নিজেকে শোধরানোর চেষ্টা করি।’

দুই বছর ধরে আর্চার কোচ হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন জার্মানির মার্টিন ফ্রেডরিক। তার অধীনে আর্চাররা আশাতীত ভালো ফল করছেন। নিজের প্রাপ্তিতে কোচের প্রশংসাও ঝরলো রোমানের কণ্ঠে, ‘তিনি দারুণ এক মানুষ। তার কোচিং করোনার পদ্ধতি যুক্তরাষ্ট্র কিংবা কোরিয়ানদের মতো। আমরা তার নির্দেশনা মেনে চলছি। সেভাবে এগিয়ে যাচ্ছি। তিনি আমাদের নানাভাবে আধুনিক কৌশল শিখিয়ে যাচ্ছেন।’

রোমান আগেও বলেছেন, টোকিও অলিম্পিকে ভালো করতে চান। কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার আশা তার। সেই কথাটা বললেন আরেকবার, ‘আমি প্রথমবারের মতো অলিম্পিকে খেলবো। সেখানে পদক জেতার আশা করছি না, তবে যদি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে পারি তাহলে ভালো লাগবে।’

বাংলাদেশ আর্চারি দল নিয়ে আশাবাদী এই তরুণ, ‘আশা করছি আমরা ভবিষ্যতে অন্যদের মতো শক্তিশালী দল হবো। তখন অনেক পদকও জেতার সুযোগ হবে। আমার স্বপ্ন আমাদের দল একসময় আরও ভালো করবে। আমরা একটি আর্চারি পরিবার হিসেবে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবো।’

/টিএ/কেআর/

লাইভ

টপ