‘রাইফেল একজন শুটারের কাছে কলিজার মতো’

Send
তানজীম আহমেদ
প্রকাশিত : ২২:৪৩, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৪৪, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২০

দুই শুটার শাকিল আহমেদ (বাঁয়ে) ও আব্দুল্লাহ হেল বাকীশুটিং ফেডারেশনে যেন উৎসবের আমেজ। সবার মনেই ‘চাপমুক্ত’ হওয়ার স্বস্তি। সভাপতি ও মহাসচিবের দ্বন্দ্ব যে এখন আর নেই! নেই বলতে নতুন কমিটিতে আগের সভাপতি নেই। আছেন পুরোনো মহাসচিব। এছাড়া অস্ত্র সংক্রান্ত ঝামেলারও অবসান হতে যাচ্ছে- এমন খবর শুনে স্বভাবতই উৎফুল্ল শুটাররা। এরই মধ্যে নতুন সভাপতিকে ফুল দিয়ে বরণ করেছেন তারা। আগামী দিনে আবারও আগের মতো চাপহীন অনুশীলন কিংবা খেলতে উদগ্রীব আব্দুল্লাহ হেল বাকী-শাকিল আহমেদরা।

এই তো দুই দিন আগেও শুটারদের বিকেএসপিতে অনুশীলনে করতে হয়েছিল। সেখানে নিজেদের নিয়মিত অস্ত্র দিয়ে অনুশীলন করতে পারেননি। বরং রাজস্ব বোর্ড থেকে ছিল নিষেধাজ্ঞা। এখন ফেডারেশনে সদ্য নতুন কমিটি আসায় আগের সমস্যাগুলোর অবসানের আশ্বাস মিলেছে।

সে কারণেই টানা দুটি কমনওয়েলথ গেমসে রুপা জয়ী শুটার আব্দুল্লাহ হেল বাকী অন্যদের মতো খুশি, ‘আমরা এখন চাপমুক্ত হয়ে অনুশীলন করতে পারবো। খেলতে পারবো। এতেই অনেক ভালো লাগছে। এছাড়া আমরা যখন শুটিংয়ে ছিলাম তখন সভাপতি আমাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছেন। বললেন, গতকালই (সোমবার) তিনি লোক পাঠিয়েছেন, আজ-কালকের মধ্যে অস্ত্রগুলো ব্যবহারের অনুমতি পাওয়া যাবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।’

এরই মধ্যে বিদেশি কোচের আশ্বাস পেয়েছেন শুটাররা। শিগগিরই এয়ার রাইফেল ও পিস্তলে কোচ আনতে যাচ্ছে ফেডারেশন। বাকীর কথায়, ‘গতকাল (সোমবার) মহাসচিব আমাদের সঙ্গে বসেছিলেন। বিদেশি কোচের ৪-৫ জনের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হয়েছে। এর মধ্যে থেকে সম্ভবত দুজনকে বেছে নেওয়া হবে। এই শর্টলিস্ট করার পেছনে সাবেক কোচ ক্লাভস ও কিম সহায়তা করেছেন।’

আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আগের ফর্মে ফেরার লক্ষ্য বাকীর, ‘অনেক ভালো সম্ভাবনা আছে ঘুরে দাঁড়ানোর। কারণ এ মুহূর্তে শুটারদের ওপর কোনও রকম মানসিক চাপ নেই। অনেকদিনের একটা বিরতি গেছে। এ কারণে মানিয়ে নেওয়া সমস্যা। তবে আগের রাইফেলটা দিয়ে যদি আমরা শুরু করতে পারি, তাহলে আশা করি ৫-৬ মাসের মধ্যে মানিয়ে নিতে পারবো।’

কথাটা শেষ করেই বাকী যোগ করলেন, ‘রাইফেল একজন শুটারের কাছে কলিজার মতো। সেটাই যদি না থাকে, তাহলে ভালোভাবে শুটিং করা কঠিন। তবে আমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। আশা করি, ওটা দ্রুতই ব্যবহারের সুযোগ পেয়ে যাব। শুটিং করি ভালোবাসা থেকে। বেতন নেই, স্পন্সর নেই। সবাই ভালোবাসার জয়গা থেকেই করে।’

টোকিও অলিম্পিকে ওয়াইল্ড কার্ড প্রত্যাশী বাংলাদেশের শুটাররা। বাকী যেমন বলেছেন, ‘মিক্স টিমে আমরা কিন্তু ভালো করি। এর আগে আমি ও সুরাইয়া আপা ভারতের বিশ্বকাপে ফাইনাল এবং তারও আগে দিশাকে নিয়ে বাকু ইসলামী গেমসে সোনা জিতেছিলাম। আশা করছি, মিক্স টিমে আমরা ওয়াইল্ড কার্ড পাবো। সেটা পেলে ব্যক্তিগত ইভেন্টেও খেলার সুযোগ পাওয়া যাবে।’

বাকীর মতো শাকিলও আশাবাদী, ‘কমনওয়েলথ গেমসের আগে আমাদের বিদেশি কোচ ছিল, আমরা ভালো করেছিলাম। এসএ গেমসে আমাদের বিদেশি কোচ ছিল না, তেমন ভালো কোচও ছিল না, আমরা ভালো করতে পারিনি। আশা করি, অলিম্পিকের আগে আমরা ভালো কোচ পাবো। এতে করে সাফল্য পেতে সুবিধা হবে।’

/কেআর/

লাইভ

টপ