প্
রাচীনকাল থেকেই তৈলাক্ত বাঁশ বাংলার সংস্কৃতিতে সর্বদাই আলোচনার একটি বিষয় হয়েছিল। বাংলায় প্রাচীন ক্রীড়ার নিদর্শন হিসেবেও এর স্থান অনন্য। সেই প্রাচীন ক্রীড়ার নিদর্শন হিসেবে আজ শনিবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে উপস্থাপিত হয়েছিল একটি ব্যতিক্রমী গ্রামীণ খেলাধুলা প্রতিযোগিতা। যার সবচেয়ে আকর্ষণীয় ইভেন্ট হয়ে ওঠে এই বাঁশকেন্দ্রিক খেলা!
ব্যতিক্রমী ও চল ছিল না বলেই প্রচার মাধ্যম ও সাধারণ দর্শকদের উৎসুক্য ছিল এর প্রতি। আয়োজকরা তা বুঝতে পেরে দিনের শেষ ইভেন্ট হিসেবে খেলাটিকে রাখেন। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. শ্রী বীরেণ শিকদার ও উপ-মন্ত্রী আরিফ খান জয়ও উপভোগ করেন তৈলাক্ত বাঁশ বেয়ে উপরে ওঠার প্রতিযোগিতা।
সাত বিভাগের জন্য সাতটি বাঁশ প্রস্তুত হলেও পাঁচ বিভাগের পাঁচজন প্রতিযোগী প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। প্রতিযোগিতার নিয়ম ছিল ১৫ ফুট দীর্ঘ যে বাঁশটি মাটিতে পুঁতে রাখা আছে তা বেয়ে যথাসম্ভব উপরে উঠবেন প্রতিযোগী। তাকে সময় দেওয়া হবে দুই মিনিট। প্রতিযোগীর কেউই অবশ্য দুই মিনিট পিচ্ছিল বাঁশে ঝুলে থাকতে পারেননি; প্রথম ধাক্কায় যে যত উপরে উঠতে পারেন তাতেই মূলত সাফল্য নির্ভর করে। আর এ কৌশল কাজে লাগিয়ে ১২ ফিট পর্যন্ত উঠে প্রথম হয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগের ছেলে শাহ জালাল। দ্বিতীয় হন বরিশালের মুরাদ, তিনি ছুঁতে পেরেছিলেন ১১.৫ ফিটের দাগ। আর তৃতীয় হন সিলেটের রায়হান; তিনি স্পর্শ করেন ১০.৫ ফিটের দাগ।
৭ বিভাগের এই জাতীয় প্রতিযোগিতায় ৪টি স্বর্ণ, ১টি রৌপ্য এবং ১টি তাম্র পদক জিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রংপুর বিভাগ। চট্টগ্রাম বিভাগ ৩টি স্বর্ণ, ২টি রৌপ্য এবং ১টি তাম্র পদক জিতে হয়েছে প্রথম রানার্স আপ এবং ২টি স্বর্ণ, ১টি রৌপ্য এবং ১টি তাম্র পদক জিতে দ্বিতীয় রানার্স আপ হয়েছে রাজশাহী বিভাগ। মোট ১০টি ইভেন্টে প্রতিযোগিতা হয়েছে। ইভেন্টগুলো হলো- বালক(দলীয়): হা-ডু-ডু, দাঁড়িয়াবান্ধা, সাতচাড়া;
বালক (একক) : মোরগলড়াই, তৈলাক্ত বাঁশে ওঠা;
বালিকা (দলীয়) : গোল্লাছুট, বউ-চি, কানামাছি ভোঁ ভোঁ এবং বালিকা (একক) : এক্কা-দোক্কা, দড়িলাফ।
এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, বরিশাল ও সিলেট বিভাগ।
/আরএম/এফআইআর/








