তিনি বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের কিংবদন্তি। তিনি মুষ্টিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী। আর সেই মানুষটার সঙ্গে মুষ্টিযুদ্ধ করার ঘটনা নিজেকে কেমন শিহরিত করতে পারে একবার ভাবুন! তাই আজও শিহরিত হন গিয়াসউদ্দীন। ১৯৭৮ সালে পল্টন ময়দানস্থ মোহাম্মদ আলী বক্সিং স্টেডিয়ামে সেই কিংবদন্তির সঙ্গে লড়াইয়ে নেমেছিলেন সে সময়ের ১২ বছরের কিশোর গিয়াসউদ্দীন।
বাসাবোর নিজ বাসায় বসে ‘দ্য গ্রেটেস্ট’ খ্যাত মোহাম্মদ আলীর সান্নিধ্য ও স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আসলে আমি এখন বুঝতে পারছি কী বিশাল এক ঘটনার সাক্ষী আমি। কিংবদন্তি এই বক্সারের সঙ্গে লড়াই করার সেই স্মৃতি আজও আমাকে শিহরিত করে। তার পাঞ্চের ছোঁয়াগুলো যেন আজও আমাকে দেয় অনন্য অনুভূতি।'
প্রথম দর্শনে মোহাম্মদ আলীর কী ভালো লেগেছিল এমন প্রশ্নের উত্তরে গিয়াসউদ্দীন বলেন, ‘‘আমি তো হতবাক ছিলাম। অবাক নয়নে তাকে দেখছিলাম আর ভাবছিলাম বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ মুষ্টিযোদ্ধার বিপক্ষে লড়বো আমি! এটা কী করে সম্ভব! পরে ভয় কাটিয়ে নেমে পড়ি, তবে উনি আমাকে আশ্বস্ত করেছিলেন- এটি নিতান্তই ‘ফান বক্সিং’। তার মজার মজার অভিব্যক্তিগুলোও ছিল আনন্দের। তবে আমার চোখে সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছিল তার প্রাণচাঞ্চল্য, পুরো শরীর যেন এক উড়ন্ত প্রজাপতি, প্রজাপতির ছন্দের মতো তার বক্সিং স্টেপগুলো- এসব ভুলে যাওয়ার নয়।’’
মোহাম্মদ আলীর বাংলাদেশ আগমন নিয়ে বেরিয়েছিল পাক্ষিক ক্রীড়াজগতের বিশেষ সংখ্যা। পুরোটাই ছিল মোহাম্মদ আলীর বাংলাদেশ সফরের বিভিন্ন প্রতিবেদন ও ছবি দিয়ে। তার মধ্যে একটি প্রতিবেদন ছিল মোহাম্মদ আলী ও গিয়াসউদ্দীনের লড়াই নিয়ে। সেটির পাতা উল্টাতে উল্টাতে গিয়াসউদ্দীন বললেন তার দুঃখের কথা। তিনি বলেন, ‘বক্সিং পুরোপুরি টেকনিক ও বুদ্ধিমত্তার খেলা, শারীরিক শক্তির প্রয়োজন আছে এবং সেটিও অর্জন করা যায়। আমাদের সময়ে বক্সিংয়ের যে চর্চা ছিল তা আজ আর নেই। মানুষর মধ্যে এটি ছড়িয়ে দিতে বক্সিং ফেডারেশনও কোনও উদ্যোগ নেয় না।'
এ সময় স্মৃতিচারণ করে গিয়াসউদ্দীন বলেন, ‘‘আমি বাসাবো মাঠে দেখতাম তৎকালীন বক্সিং ফেডারেশেনের সাধারণ সম্পাদক আসাদউল্লাহ স্থাপন করেছিলেন পাঞ্চিং ব্যাগ। আমি দেখতাম কিভাবে পাড়ার বক্সাররা সেটিতে ঘুষি মারতো। একদিন আসাদউল্লাহ সাহেব আমাকে ডেকে বললেন, ‘তুমি বক্সিং করবে?’ আমি রাজি হলাম আর সেই থেকে তিনি আমার গুরু। আমি ৭৪ ও ৭৬ সালে জাতীয় জুনিয়র পর্যায়ে স্বর্ণপদক জিতেছি। ৮২ সালে একটি মোটরবাইক দুর্ঘটনায় পা ভাঙার পর আর বক্সিং করিনি।’’
পল্টন ময়দানে মোহাম্মদ আলীকে দেখতে সেদিন লাখো মানুষের সমাগম হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে গিয়াসউদ্দীন বলেন, ‘আজ তথ্যপ্রযুক্তির জোয়ারে অনেক কিছুই অনেক বড় হয়ে ওঠে। কিন্তু ১৯৭৮ সালে মোহাম্মদ আলীর জন্য যে স্বতস্ফূর্ত জনসমাগম ছিল, সেটা এক বিরাট বিস্ময়। মোহাম্মদ আলী যে কত বড় ব্যক্তিত্ব তা বলার অপেক্ষা রাখে না। মোহাম্মদ আলীর তুলনা তিনি নিজেই, আর কোনও মোহাম্মদ আলীর সৃষ্টি হবে না।'
/এমআর /এএইচ /
আরও খবর পড়ুন-








