আগামী ৫ আগস্ট ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে শুরু হতে যাওয়া অলিম্পিক গেমসে ২০৬টি দেশ অংশগ্রহণ করলেও এর মাঝে ৮২ টি দেশ আছে যার এখন পর্যন্ত একাধিকবার অলিম্পিক্সে অংশ নিয়ে কোনও স্বর্ণ, রৌপ্য বা ব্রোঞ্জ পদক জিততে পারেনি। বাংলাদেশও রয়েছে এ দেশগগুলোর মাঝে এবং বাংলাদেশের একটি অনভিপ্রেত রেকর্ডও আছে। রেকর্ডটি হলো কোনও পদক না জেতা দেশগুলোর মাঝে বাংলাদেশ হচ্ছে সবচেয়ে জনবহুল দেশ।
পূর্বের অভিজ্ঞতা যাই হোক এবারও কি ভাঙবে সেই পদক খরা? টুর্নামেন্ট শুরু হলে সময়ই বলে দেবে এর উত্তর। তবে বাংলাদেশের অ্যাথলেটদের পারফরম্যান্স পর্যালোচনা করলে মনে হয় অলিম্পিক পদক এখনও বহু দূরে।
প্রথমেই বলা যাক গলফার সিদ্দিকুর রহমানের কথা। অলিম্পিক র্যাংকিংয়ে ৫৬তম হয়ে সর্বপ্রথম বাংলাদেশি খেলোয়াড় হিসেবে অলিম্পিকে কোয়ালিফাই করা সিদ্দিকুরের বর্তমান বিশ্ব র্যাংকিং ৩১০। তার চেয়ে র্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা বহু গলফারই খেলবেন ১১২ বছর পর অলিম্পিক গেমসে ফেরা গলফে। তবুও যেহেতু গলফ হবে ইন্ডিভিজুয়াল ইভেন্ট তাই আশাবাদী সিদ্দিকুর।
অলিম্পিক্সের ৫০ মিটার ফ্রি-স্টাইল সাঁতারে অংশ নেবেন মাহফিজুর রহমান সাগর ও সোনিয়া আকতার টুম্পা। বাংলাশের সেরা সাঁতারু সাগরের এটি টানা দ্বিতীয় অলিম্পিক্স। ২০১২ সালে সাগর লন্ডনে ২৪.৬৪ সেকেন্ড সময় নিয়ে ৫৮ জন প্রতিযোগীর মাঝে ৩৯তম হয়েছিলেন, নিজ হিটে হয়েছিলেন চতুর্থ। বর্তমানে তার সেরা টাইমিং ২৪:০২ সেকেন্ড। এ ইভেন্টে ফ্রান্সের ফ্লোরেন্স মানডাউ ২১:৩৪ সেকেন্ড নিয়ে অলিম্পিক্সের স্বর্ণ জিতেছিলেন, আর লন্ডনে যিনি অষ্টম হয়েছিলেন সেই অস্ট্রেলিয়ান ইমন সুলিভানের সময় চার বছর আগেই। যার সময় ছিল ২১:৯৮ সেকেন্ড। বর্তমানে বিশ্ব চ্যাম্পয়নশিপে এটি ২১ সেকেন্ডের কাছে চলে এসেছে।
এছাড়া টুম্পার সেরা টাইমিং ৩০:৮৫ সেকেন্ড যা দিয়ে প্রাথমিক পর্ব পার হওয়ার আশাও করা যায় না। কারণ গত অলিম্পিক্সে মহিলাদের সর্ব নিম্ন টাইমিং ছিল ২৪:৬৯।
বাংলাদেশের শ্যুটার আবদুল্লাহ হেল বাকি অংশ নেবেন ১০ মিটার এয়ার রাইফেল ইভেন্টে। তার সেরা স্কোর ৬২৭/৬২৮। কিছুদিন আগে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ৬২২.৮ স্কোর করে তিনি ৩০তম স্থান অর্জন করেছিলেন। বাকী যদি তার এ স্কোর অব্যাহত রাখতে পারেন তবে তিনি ফাইনালে হয়তো পৌঁছাতে পারবেন তবে পদক অনেক দূরে কারণ গত অলিম্পিক্সে রোমানিয়ার অ্যালিন মোলদিভিয়ানু ৭০২.১ স্কোর করে জিতেছিলেন স্বর্ণ আর অষ্টম র্যাংকিংয়ের ড্যানিশ শ্যুটার মাগনুস বাকেনের স্কোর ছিল ৬৯১.৫। বলাই বাহুল্য চার বছরে এ স্কোরলাইনের আরও উন্নতি হয়েছে।
বাংলাদেশের দুই স্প্রিন্টার মেজবাহ আহমেদ ও শিরিন আকতার দৌড়াবেন ১০০ মিটার স্প্রিন্টে। পুরুষদের ইভেন্টে ৭১ ও মহিলাদের ইভেন্টে ৫৬ জন প্রতিযোগীর নাম এন্ট্রি হয়েছে। লন্ডনে উসাইন বোল্ট ৯:৬৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে স্বর্ণ জিতেছিলেন আর অষ্টম স্থান অধিকারী আসাফা পাওয়েল নিয়েছিলেন ১১:৯৯ সেকেন্ড। মেজবাহর সেরা টাইমিং ১০:৪৩ তবে এটা হাতে স্টপওয়াচে ধরা, ইলেকট্রনিক টাইমিংয়ে আরও আধা থেকে এক সেকেন্ড বেড়ে যাবে। শিলি আকতারের সেরা টাইমিং ১১:৯৯। অলিম্পিক হিটের এন্ট্রি স্ট্যান্ডার্ড পুরুষদের ক্ষেত্রে ১০:১৬ ও মহিলাদের ক্ষেত্রে ১১:৩২ সেকেন্ড। বলাই বাহুল্য দুজনেই এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছেন।
আর্চার শ্যামলী রায় রিকার্ভ বো ইভেন্টে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন আর ৬১৮ পয়েন্ট তার সেরা স্কোর। এর চার বছর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার কি কোবে ৬৭১ পয়েন্ট অর্জন করে জিতে নিয়েছেলেন স্বর্ণ।
পরিসংখ্যান যাই হোক অলিম্পিক আন্দোলনে অংশগ্রহণই বড় কথা। দ্রুততর, উচ্চতর ও অদম্য মনোভাবে এগিয়ে চলাই হলো অলিম্পিক গেমসের বাণী। আর এরমধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অ্যাথলেটরা অলিম্পিক থেকে নিয়ে আসবেন মূল্যবান অভিজ্ঞতা যা দিয়ে মহাদেশীয় ও উপমহাদেশীয় সার্কিটে আসবে সাফল্য; এটিই দেশবাসীর প্রত্যাশা।
/এফআইআর/








