শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ উডেন ফ্লোরে পিং পং বল নিয়ে ব্যস্ত এক দল কিশোর-কিশোরী। তাদের প্রশিক্ষণে আছেন ভারতীয় টেবিল টেনিস কোচ অনশুল গর্গ। স্বল্পমেয়াদী অনুশীলন ক্যাম্প পরিচালনা করতে গত ২৭ জানুয়ারি ঢাকায় এসেছেন এই কোচ, থাকবেন ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। তিনিই জানিয়েছেন, টেবিল টেনিসে বাংলাদেশের উজ্জ্বল সম্ভাবনার কথা।
আন্তর্জাতিক টেবিল টেনিস ফেডারেশনের বিশেষজ্ঞ কোচ হিসেবে বাংলাদেশের ১২ জন কিশোর-কিশোরী অনশুলের কাছে শিখছে নতুন কৌশল। এই কয়েকদিনেই ৩০ বছর বয়সী ভারতীয় কোচ ধারণা পেয়েছেন বাংলাদেশের টেবিল টেনিস সম্পর্কে। যে ধারণায় তিনি মনে করছেন, ‘টিটিতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা আছে। শুধু দরকার নিবিড় পরিচর্যা আর পৃষ্ঠপোষকতা।’
চারদিনের অভিজ্ঞতায় অনশুল আরও বলেছেন, ‘টিটির সম্ভাবনা বাংলাদেশেও আছে। তবে আমার মনে হয়েছে বাংলাদেশের মূল সমস্যা হলো এখানে খেলোয়াড়দের অনেক সঙ্কট। যখন খেলোয়াড় সংখ্যা কম থাকে, তখন মানটা নিচের দিকেই থাকে। বেশি খেলোয়াড় থাকলে প্রতিভাবান খেলোয়াড়ও পাওয়া যায়। যেটা এদেশে মনে হয় তেমন নেই।’
তার দেশ ভারতকে উদাহরণ হিসেবে টেনে অনশুল বললেন, ‘উপমহাদেশের দেশগুলোর মধ্যে ভারত অনেকটাই এগিয়ে গেছে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো খেলাটাকে সরকার এবং ভারতীয় টেবিল টেনিস ফেডারেশন বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে। আমাদের শীর্ষ পর্যায়ে অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে, যাদের পেছনে বছরে সরকার ৩০ থেকে ৪০ লাখ রুপি খরচ করে। বছরে দেশে-বিদেশে প্রচুর টুর্নামেন্ট খেলারও সুযোগ পায় তারা। তাছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে চাকরি পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকায় খেলোয়াড়রা শুধু খেলাটা নিয়ে ভাবতে পারেন।’
গত কয়েকদিনে ভারতীয় কোচ জোর দিয়েছেন মৌলিক বিষয়ের ওপর। কারণটাও ব্যাখ্যা করেছেন অনশুল, ‘ভারতে ৬ বছর বয়স থেকে ছেলে-মেয়েরা খেলা শুরু করে। বেসিকটা শেখার জন্য এটা একেবারে আদর্শ বয়স। ৬ বছরে খেলা শুরু করে যখন ওদের ১২ বছর হয়, তখন ওদের নিয়ে দেশব্যাপী বেশ কয়েকটি টুর্নামেন্ট হয়। যেখানে তারা অংশ নেয় ৬ বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে। আর খুব অল্প বয়সেই তাদের মান সিনিয়র পর্যায়ে নিয়ে আসতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশে শুরুটা হচ্ছে দেরিতে। এখানে যদি আমাদের (ভারতের) মতো এগোনো যায়, তাহলে বাংলাদেশও পারবে ভালো করতে।’








