বাংলাদেশের দ্রুততম মানবী শিরিন আক্তার ১৫তম বারের মতো সেরা হয়েছেন ১০০ মিটার স্প্রিন্টে। আজ ৪৭তম জাতীয় অ্যাথলেটিকসের শেষ দিনে আরও তিনটি স্বর্ণ জিতেছেন তিনি। চারটি স্বর্ণের মধ্যে দুটি ব্যক্তিগতভাবে আর দুটি দলগত।
গতকাল শুক্রবার দ্রুততম মানবী হয়েছেন। আজ শনিবার দিনের তিন ইভেন্টেও স্বর্ণ জিতে নিজেকে নতুন করে জানান দিয়েছেন শিরিন। সকালে সেরা হয়েছেন ৪ গুণিতক ১০০ মিটার রিলেতে। দুপুরে ২০০ মিটার ইভেন্টে নিজের রেকর্ড ভেঙে স্বর্ণ জিতেছেন ২১.৬৮ সেকেন্ডে। রেকর্ড গড়ার পর ৪ গুণিতক ৪০০ মিটার রিলেতেও স্বর্ণপদক গলায় ঝুলিছেন।
এবারের জাতীয় প্রতিযোগিতার সবচেয়ে আকর্ষণীয় মুহূর্ত ছিল ৪ গুণিতক ৪০০ মিটার রিলে। সেখানে অসাধারণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে নৌবাহিনীকে আরেকটি স্বর্ণ এনে দেওয়া শিরিন বলেন, ‘৩০০ মিটার আসা পর্যন্ত আমি আমার মতো দৌড়েছিলাম, বাকিটা দর্শকের জন্য দৌড়েছিলাম। আমি জানি না, আল্লাহ আমাকে কীভাবে নিয়ে এলেন! আমার মনে হয় টাইমিং ধরলে চারশ মিটারে এটা সেরা টাইমিং। আমার কাছাকাছি কেউ থাকলে আমি ফিনিশিং লাইন স্পর্শ করতে পারবো- এমনটা আশা করেছিলাম। আল্লাহ যদি চান। আল্লাহর অশেষ রহমতে তা হয়েছেও।’
চারটি স্বর্ণ জিতে শিরিন অনুভূতি ব্যক্ত করলেন এভাবে, ‘অনুভূতি কখনোই বোঝানোর মতো নয়। সব মানুষেরই নিজস্ব অনুভূতি থাকে। অনেক অসাধারণ কিছু থাকে। অনেক গল্প থাকে পেছনে, কষ্ট থাকে। আমার পেছনে যত বাধাই থাকুক, আমার কোচ আব্দুল্লাহ হেল কাফি, বিকেএসপি কিংবা বাংলাদেশ নৌবাহিনী, যখন কিছু প্রয়োজন হয়েছে, সবসময় চেষ্টা করেছে আমাকে সেটা দেওয়ার।’
শিরিনের কারিগর বিকেএসপির সাবেক কোচ আব্দুল্লাহ হেল কাফী বলেছেন, ‘শিরিন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও নিয়মিত অনুশীলন করে। এটাই তার সাফল্যের মূল কারণ। কোথাও বেড়াতে গেলেও সে ট্র্যাকসুট নিয়ে যায়। বিউটি ও অন্য দ্রুততম মানবীদের মতো মেধাবী না হলেও সে পরিশ্রম ও অধ্যাবসায় দিয়ে সবাইকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে।’
শিরিনের বয়স ত্রিশ বছরের কাছাকাছি। এই বয়সেও ট্র্যাকে অপ্রতিরোধ্য। এই প্রসঙ্গে শিরিনের বক্তব্য, ‘আসলে এই বয়স বলতে কিছু নেই। ২০১৩ থেকে আমি সিনিয়রে খেলি। ক্লাস সেভেন থেকে আমি দ্রুততম বালিকা, দ্রুততম কিশোরী হয়েছি। দ্রুততম মানবী হয়েছি, যেটা এবার ১৫তম বারে এসে দাঁড়ালো। ২০০ মিটারের রেকর্ডটিও আমার ছিল (২৪.৯৭), সেটি আবার নতুন করে মজবুত করতে পেরেছি, নতুন রেকর্ড গড়তে পেরেছি, এটা আসলে অসাধরণ। কোচ আমার জন্য অনেক পরিশ্রম করেছেন। আগেও বলেছি আরও কিছু কিছু মানুষ আছে, যারা পেছন থেকে আমাকে অনেক সমর্থন করে। যে জন্য আমি নিজের কাজটা করতে পারছি।’









