দক্ষিণ কোরিয়ান বান্ধবী যখন জানলেন আরিফুল ইসলাম একজন অলিম্পিয়ান, সেসময় তার অবয়বে ফুটে উঠলো বিস্ময়। প্যারিসে এখন অলিম্পিক গেমস চলছে তাই খেলার প্রসঙ্গ যেখানেই উঠুক না কেন, আরিফুলের প্রতি সবার অন্যরকম ভালোবাসা। টোকিও অলিম্পিকে বাংলাদেশের হয়ে খেলা সাঁতারু আরিফুল অংশ নিয়েছিলেন। এরপর নানান পথ পরিক্রমায় পেশাদার সাঁতারু হয়ে আর ক্যারিয়ার সামনের দিকে টেনে নেওয়া হয়নি। বছর কয়েক ধরে ফ্রান্সে থিতু হয়েছেন। এখানেই খুঁজে নিয়েছেন নতুন ঠিকানা। অথচ আরিফুলের এখনও বিশ্বাস, পেশাদার সাঁতারু থাকলে হয়তো আজ প্যারিস অলিম্পিকেও সুযোগ হতো তার।
প্যারিস থেকে দূরের শহর ব্রেস্টে থাকেন আরিফুল। সেখানে একটি সৌখিন সাঁতার ট্রেনিং সেন্টারে সাঁতার শেখান। পাশাপাশি রেস্টুরেন্টেও কাজ করছেন। সবমিলিয়ে বেশ ভালোই আছেন। প্যারিস অলিম্পিক নিয়ে প্রসঙ্গ উঠতেই ২৫ বছর বয়সী সাঁতারু কিছুটা আক্ষেপ নিয়েই বললেন, ‘টোকিওর পর প্যারিস অলিম্পিকে আজ আমিও থাকতে পারতাম। অবশ্যই তা পারফরম্যান্স দিয়ে। এর আগে কারার সামেদুল ও ডলি আক্তারের একাধিকবার গেমসে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে পেশাদার ক্যারিয়ার শেষ হয়েছে আগেই। তাই এ নিয়ে তেমন ভাবি না। এখানে সবাই আমি অলিম্পিয়ান জেনে সম্মান দেয়। আমার এক কোরিয়ান বান্ধবী তো শুনে বেশ অবাক। তার যেন বিশ্বাসই হতে চায় না।’
২০২০ টোকিও অলিম্পিকে আরিফুল খেলেছিলেন ওয়াইল্ড কার্ড নিয়ে। কিছু দিন যেতে না যেতে পেশাদার সাঁতার থেকেই নিজের সংযোগটা কেটে দেন। এ নিয়ে আরিফুলের ব্যাখ্যা, ‘টোকিও অলিম্পিক খেলে আমি তিন মাস দেশে ছিলাম। আমার সংস্থায় চাকরিও ছিল। তবে সেখানে তেমন সম্মান পাইনি। ফেডারেশনকে বিষয়টি জানিয়েছিলাম। তারা অপেক্ষা করতে বলেছিল। অপেক্ষাও করেছিলাম, পরবর্তীতে দেশে আর ভালো না লাগায় ফ্রান্সে এসে পড়ি। ফেডারেশনকে এটি জানালেও আমার সংস্থাকে তখন জানাইনি।’
আরিফুল অলিম্পিকের অধীনে ফ্রান্সে বৃত্তি সম্পন্ন করে টোকিও অলিম্পিক খেলেছেন। ফের ফ্রান্সে এসে থিতু হয়েছেন।
ব্রেস্ট শহর থেকে আরিফুল বললেন, ‘বিদেশে আসা ও থাকার কোনও ইচ্ছে ছিল না আমার। পরিবার, বন্ধু-বান্ধব ছেড়ে বিদেশ থাকা অনেক কষ্টের। নিজের ভাষায় কথা বলতে না পারার কষ্ট প্রবাসী ছাড়া সবাই বুঝবে না। আমি অলিম্পিক খেলে দেশে ফিরেছিলাম সাঁতারে থাকতে। তবে যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা না পাওয়ায় আবার ফ্রান্সে ফিরে আসি। ফ্রান্সে ফেরার কয়েক মাস পর ফেডারেশনও আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। এখানেই থিতু হয়ে যাই।’
উন্নত জীবনের আশায় অনেক ক্রীড়াবিদ বাংলাদেশ ছেড়েছেন। কেউ পালিয়ে কেউবা স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতে। ফেডারেশনগুলো সময়ের সঙ্গে ক্রীড়াবিদদের আর্থিকভাবে সেভাবে স্বাবলম্বী করতে না পারায় এমন অবস্থা। এই অবস্থার উত্তরনের পথ খোঁজাই বড় চ্যালেঞ্জ।









