বাংলাদেশের হ্যান্ডবলে ডালিয়া আক্তারের নাম সুপরিচিত। বিশেষ করে ছেলেদের কোচ হয়ে দেশে ও দেশের বাইরে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন ৪৩ বছর বয়সী সাবেক খেলোয়াড়। দেশে আগেই ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় একজন মেয়ে হয়ে ছেলেদের দলের কোচিং করিয়ে আলোড়ন তুলেছেন। এবার ভারতের লখনউতে জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৮ ছেলেদের দল নিয়ে গিয়ে আন্তর্জাতিক হ্যান্ডবল ফেডারেশনের (আইএইচএফ) দৃষ্টি কেড়েছেন। আইএইচএফ থেকে আসা টেকনিক্যাল ডিরেক্টর মিশরের সালেহ বিন আশুরের প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি।
প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৮ দল আইএইচএফ ট্রফির দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলেছে। যদিও সেখানে স্বাগতিক ভারত, উজবেকিস্তানসহ অন্য দেশের বিপক্ষে জয় আসেনি। তবে লড়াই করে হারতে হয়েছে। ডালিয়ার মতে, আগে বড় ব্যবধানে হারলেও এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই হয়েছে।
দেশে ফিরে ডালিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘আমি যুবদলের প্রধান প্রশিক্ষকের দায়িত্বে ছিলাম। আমরা এবার মাত্র ১৩ দিনের প্রস্তুতি নিয়ে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করেছি। সেখানে রাতে পৌঁছে পরের দিন থেকে টানা পাঁচটি ম্যাচ খেলেছি। আলহামদুলিল্লাহ আমাদের খেলোয়াড়রা তাদের সামর্থ্যের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছে। সব ম্যাচ হারলেও লড়াই করেছি। হারের ব্যবধানও আগের চেয়ে কমেছে।’
প্রতিদ্বন্দ্বী সব দলই র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ওপরে। এর আগে প্রথম রাউন্ডে জয়পুরে রানার্সআপ হয়েছিল দল। যদিও এবার র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা সব দলের বিপক্ষে ম্যাচ হেরেছে। ডালিয়ার কথা, ‘উজবেকিস্তান কিংবা ভারত তো সবসময় এগিয়ে থাকা দল। উচ্চতা কিংবা স্কিলের দিক দিয়ে তো বটেই। তাদের প্রস্তুতিও অনেক দিনের। সেই জায়গায় আমরা লড়াই করেছি। সীমিত সামর্থ্য দিয়ে। অন্তত কাউকে সহজেই জিততে দেইনি।’
টুর্নামেন্টে ডালিয়া ছাড়া অন্য কোনও নারী কোচ ছিলেন না। তাই আলাদা দৃষ্টি ছিল তার দিকে। টেকনিক্যাল ডিরেক্টর মিশরের আশুর তো খেলার পর কোর্টে ডালিয়ার সঙ্গে আলাদা করে কথা বলে তাকে উৎসাহিত করেছেন। কোচিংয়ের প্রশংসাও ঝরেছে। ডালিয়া এক প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, ‘সালেহ বিন আশুর নিজেই খেলা শেষে আমাকে নানানভাবে উৎসাহিত করেছেন। বললেন এশিয়াতে এমনিতে নারী কোচ কম। তারওপর ছেলেদের কোচ হয়ে এসেছি তা দেখে তিনি কিছুটা অবাক। আমার কোচিংয়ে দল লড়াই করেছে। তারও প্রশংসা করেছেন। কোনোভাবেই যেন কোচিং না ছাড়ি, লেগে থাকি, সেটাও বললেন। এছাড়া যে কোনও প্রকার সহযোগিতার কথাও জানালেন। আমি নিজেও তার সঙ্গে কথা বলে অনুপ্রাণিত হয়েছি।’
ডালিয়া কোচিংয়ে আইএইচএফ লেভেল দুই সার্টিফিকেট নিয়েছেন। সামনে কোচিং ডিগ্রি বাড়ানোর পরিকল্পনা আছে। আছে যুব দল পেরিয়ে একসময় জাতীয় সিনিয়র দলের হয়ে ডাগআউটে থাকার স্বপ্নও। সেই স্বপ্ন সত্যি করতেই ছুটে চলা।









