সেনাবাহিনীর হার্ডলার তানভীর ফয়সাল টানা দুইবারের চ্যাম্পিয়ন। শনিবারও শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছেন তিনি। শেষ দুটি ধাপ পেরিয়ে ১১০ মিটার হার্ডলসে হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন তানভীর। ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে জাজদের বিচারে ১১০ মিটার হার্ডলসে ১৪ দশমিক ৭০ সেকেন্ড সময় নিয়ে সোনা জিতেছেন তিনি। একই বাহিনীর নারী হার্ডলার রোকসানা বেগমও ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় স্বর্ণ জিতেছেন। ১০০ মিটার হার্ডলস পেরুতে সময় নিয়েছেন ১৫ সেকেন্ড।
কোচ রফিকউল্লাহ মিলনের কাছে অ্যাথলেটিকসে হাতেখড়ি নোয়াখালীর মেয়ে রোকসানার। তবে শুরুতে লংজাম্পে খেললেও পরে কোচের কথায় চলে আসেন হার্ডলসে। রোকসানা সেরা হয়ে বলেছেন, ‘‘রফিক স্যার বলেছিলেন, ‘লংজাম্প নয় তুই হার্ডলস কর। কারণ এখানে ফাঁকা রয়েছে।’’
নোয়াখালীতে অ্যাথলেটিকস করে কটূ কথা শুনতে হয়েছে রোকসানাকে। এ নিয়ে তার কথা, ‘মানুষদের অনেক কথা সইতে হয়েছে আমাকে। অ্যাথলেটিকস খেলতে খেলতে সন্ধ্যা হলে মা-বাবাকে অনেক কথা শুনতে হতো।’
রোকসানার আয়ে সংসার চলে। বাবা মাইক্রোবাস চালিয়ে সংসার চালাতেন। এখন অবশ্য কাজ করতে পারেন না। সংসারে তিন বোন ও এক ভাই। গত ফেব্রুয়ারি জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথমবার স্বর্ণপদক জিতেছিলেন। না খেললে কী করতেন? রোকসানার উত্তর, ‘না খেললে বাড়ি থেকে বিয়ে দিয়ে দিতো। এটাই গ্রামের নিয়ম। এখন এসএ গেমসে পদক জিততে চাই।’
অন্যদিকে, সেনাবাহিনীর তানভীর ফয়সাল ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো স্বর্ণ জিতেছেন। আগের দুটি জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপেও জিতেছেন। এবার জিতলেন সামার অ্যাথলেটিকসে। ২০২২ সাল থেকে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে খেলা শুরু করা তানভীরের প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। বিষয়টি স্বীকারও করে এই হার্ডলার বলেছেন , ‘আমার মনে হয় ১১০ মিটার হার্ডলসে তেমন কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। তবে আমার সতীর্থরা যখন দেখি স্প্রিন্টে খেলে প্রচারের আলোয় আসছে, সেখানে আমাদের দিকে তাকায় না কেউ। এটাই আমার কষ্ট।’









