জার্মানিতে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ফুল-ডিস্ট্যান্স ট্রায়াথলন প্রতিযোগিতা চ্যালেঞ্জ রথ সফলভাবে শেষ করেছেন বাংলাদেশের মোস্তাফিজুর রহমান। ২০২৬ সালের আসরে বাংলাদেশ থেকে একমাত্র অংশগ্রহণকারী ছিলেন তিনি।
পিরোজপুরে জন্ম নেওয়া মোস্তাফিজুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি এন্ডুরেন্স স্পোর্টস কোচ, ট্রায়াথলেট ও ওপেন ওয়াটার সাঁতারু হিসেবে কাজ করছেন।
চ্যালেঞ্জ রথ ট্রায়াথলেটদের কাছে অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতা হিসেবে পরিচিত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পেশাদার ও বয়সভিত্তিক ট্রায়াথলেটরা এতে অংশ নেন। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিযোগিতাটির নিবন্ধন শুরুর মাত্র এক মিনিটের মধ্যে সব আসন পূর্ণ হয়ে যায়। ২০২৬ সালের আসরে প্রায় ৩ হাজার ট্রায়াথলেট অংশ নেন। প্রতিযোগিতা পরিচালনায় বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৫ হাজার ৫০০ স্বেচ্ছাসেবক কাজ করেন। রেস দেখতে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ৩ লাখ দর্শক।
ফুল-ডিস্ট্যান্স ট্রায়াথলনে একজন প্রতিযোগীকে ধারাবাহিকভাবে ৩ দশমিক ৮ কিলোমিটার সাঁতার, ১৮০ কিলোমিটার সাইক্লিং এবং ৪২ দশমিক ২ কিলোমিটার দৌড় সম্পন্ন করতে হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনটি ধাপ শেষ করলেই একজন প্রতিযোগীকে চ্যালেঞ্জ রথের ফিনিশার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
মোস্তাফিজুরের জন্য এবারের প্রতিযোগিতার বিশেষত্ব আরও বেশি। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চ্যালেঞ্জ রথের দীর্ঘ ইতিহাসে বাংলাদেশ থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র দুজন অ্যাথলেট অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। এবারের আসরে দেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে লাল-সবুজের পতাকা হাতে ফিনিশ লাইন অতিক্রম করেন তিনি।
এর আগে আয়রনম্যানের ৭০ দশমিক ৩ মাইলের প্রতিযোগিতা সফলভাবে শেষ করে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন মোস্তাফিজুর। পরে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি। নেপালের ফিশটেইল রেসেও প্রথম বাংলাদেশি ফিনিশার হওয়ার কৃতিত্ব রয়েছে তার।
ট্রায়াথলনের পাশাপাশি দীর্ঘ দূরত্বের ওপেন ওয়াটার সাঁতারেও সাফল্য রয়েছে মোস্তাফিজুরের। তিনি টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিন পর্যন্ত ১৬ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ বাংলা চ্যানেল সাঁতার সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। দেশের বিভিন্ন নদ-নদীতে আয়োজিত দীর্ঘ দূরত্বের সাঁতার প্রতিযোগিতায়ও নিয়মিত অংশ নেন তিনি। চলতি বছর থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ওশানম্যান প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে মাস্টার সাঁতারু হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।
খেলাধুলার পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সাঁতার শেখাতেও কাজ করছেন মোস্তাফিজুর। পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০০ শিশুকে বিনামূল্যে সাঁতার শিখিয়েছেন তিনি।
নিজের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য সম্পর্কে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বের মর্যাদাপূর্ণ এন্ডুরেন্স প্রতিযোগিতাগুলোতে বাংলাদেশের পতাকা আরও বেশি করে তুলে ধরতে চান তিনি। একই সঙ্গে সাঁতার শেখানোর মাধ্যমে পানিতে ডুবে মৃত্যুর হার কমাতে ভূমিকা রাখতে চান। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়া তার অন্যতম বড় স্বপ্ন।









