এশিয়ান গেমসে অ্যাথলেটদের থাকার জন্য কাঠের তৈরি অস্থায়ী কনটেইনার-ধাঁচের কেবিন নিয়ে সমালোচনা কম হয়নি। কারও অভিযোগ, থাকার জায়গা খুব ছোট। কারও দাবি, বিছানাগুলোও অ্যাথলেটদের জন্য যথেষ্ট লম্বা নয়। কিন্তু সব সমালোচনাকে পাশ কাটিয়ে সেই আবাসন দেখে বেশ মুগ্ধ আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) সভাপতি কার্স্টি কভেন্ট্রি। বরং সমালোচনার কারণই বুঝতে পারছেন না তিনি।
রবিবার এশিয়ান গেমসের অ্যাথলেটদের আবাসন ঘুরে দেখেছেন কভেন্ট্রি। পরে তিনি বলেন, মিলান-কোর্তিনা শীতকালীন অলিম্পিকে ব্যবহৃত অস্থায়ী কেবিনগুলোর সঙ্গে জাপানের নাগোয়ার কেবিনগুলোর যথেষ্ট মিল রয়েছে। তবে সেগুলো কিছুটা ছোট- এ কথা স্বীকার করেও নেতিবাচক কিছু দেখছেন না আইওসি সভাপতি।
জাপানের নাগোয়া শহরে শনিবার শুরু হয়েছে এশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসর এশিয়ান গেমস। এবারের আসরে আগের গেমসগুলোর মতো ঐতিহ্যবাহী অ্যাথলেট ভিলেজ রাখা হয়নি। খরচ কমানোর লক্ষ্যে ১৭ হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারীর থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে অস্থায়ী কেবিন, হোটেল ও একটি ক্রুজ জাহাজে।
অস্থায়ী কাঠের কেবিনগুলো নিয়ে এরই মধ্যে কয়েকটি দেশ সমালোচনা করেছে। বিশেষ করে কেবিনের আকার এবং বিছানার দৈর্ঘ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে আবাসন ঘুরে দেখার পর কভেন্ট্রির অভিজ্ঞতা ছিল ভিন্ন। জিম্বাবুয়ের সাবেক অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন সাঁতারু বলেছেন, ‘মিলান-কোর্তিনা শীতকালীন অলিম্পিকেও আমাদের একই ধরনের কেবিন ছিল এবং অ্যাথলেটরা সেখানে খুব খুশি ছিল। এখানকার কেবিনগুলোও সত্যিই সুন্দর।’
তবে আকারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এগুলো একটু বেশি আঁটসাঁট। তাই আপনি যদি নেতিবাচক কিছু খুঁজতে চান, তাহলে বলতে পারেন এগুলো একটু ছোট। কিন্তু আমি এটাকে নেতিবাচক কিছু মনে করি না। আমি এই ভিলেজটি পছন্দ করি।’
জাপানের নাগোয়া বন্দর এলাকায় তৈরি করা এই কনটেইনার ধাঁচের আবাসনে প্রায় ২ হাজার অংশগ্রহণকারী থাকছেন। সেখানকার পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা নিয়েও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন কভেন্ট্রি।
তিনি বলেন, ‘কেবিনগুলো শান্ত, বেশ ঠান্ডা। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও ভালোভাবে কাজ করছে। মেঝে ও দেয়ালগুলো সুন্দর। আমি যে কয়েকটি ভিলেজে থেকেছি, সেগুলোর কয়েকটির চেয়েও এটি ভালো।’
জাপান ও আয়োজক কমিটির প্রশংসা করে কভেন্ট্রি আরও বলেন, ‘জাপান ও আয়োজক কমিটির প্রতি ন্যায্যতা দেখাতে হলে বলতে হবে, আমি সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি। আমি এর আগে শুধু এসব নিয়ে যা বলা হয়েছে, সেগুলোই পড়ছিলাম। এখানে আসার পর আমি যা দেখেছি, তার সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছু প্রত্যাশা করেছিলাম।’
এএফপি তাকে প্রশ্ন করেছিল, অলিম্পিকেও কি অস্থায়ী কেবিন এবং ক্রুজ জাহাজকে অ্যাথলেটদের আবাসন হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে বলে তিনি মনে করেন কিনা। জবাবে কভেন্ট্রি জানান, তিনি ক্রুজ জাহাজটি ঘুরে দেখেননি। তবে মিলান-কোর্তিনার আবাসনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, নাগোয়ার কেবিনগুলোর সঙ্গে সেগুলোর ‘খুব মিল’ রয়েছে। কভেন্ট্রির ভাষায়, ‘এটা নতুন কোনও ধারণা নয়।’









