বাংলাদেশ ফুটবল লিগের আজ ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিং ২-০ গোলে হারায় পিডাব্লিউডি এসসিকে। অন্য ম্যাচে বসুন্ধরা কিংস ৩-০ গোলে জিতেছে সিটি ক্লাবকে।
মানিকগঞ্জের শহীদ মিরাজ তপন স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ফুটবল লিগের চতুর্থ রাউন্ডের ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে দলের হয়ে গোল দুটি গোল করেন সোলেমান দিয়াবাতে ও মিনহাজ রাকিব।
ম্যাচের ৪২ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল পিডব্লিউডি। সেট পিস থেকে এমবিদা ইয়োহানের নেওয়া বুলেট গতির শটটি গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসায় গোলবঞ্চিত হয় তারা।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সোহেল রানার দুরপাল্লার শট ডান দিকে ঝাঁপিয়ে দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন পিডব্লিউডির গোলকিপার সাজু আহমেদ।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ইমানুয়েল সানডেকে মাঠে নামান মোহামেডানের কোচ ফার্নান্দো সান্তিয়াগো ভারেলা। তার মাঠে নামার পরপরই ডেডলক ভাঙে মোহামেডান। সানডের ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে বল জালে জড়িয়ে মোহামেডানকে এগিয়ে দেন সোলেমান দিয়াবাতে।
৫১মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে জোড়ালো শট নেন সানডে। তবে সরাসরি আসা শটটি ফিরিয়ে দেন পিডব্লিউডির গোলকিপার। পাঁচ মিনিট পর পিডব্লিউডির আবু বক্কর আলির শট পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়া যায়।
৭৮ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে মোহামেডান।দিয়াবাতের কাটব্যাক থেকে মিনহাজ হেডে বল জালে জড়িয়ে দলের লিড ২-০ করেন মিনহাজ রাকিব। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধানেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মোহামেডান।
তিন ম্যাচে শতভাগ জয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মোহামেডান। সমান ম্যাচে সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শীর্ষে বাংলাদেশ পুলিশ। চার ম্যাচে তিন ড্র ও এক হারে ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের সপ্তম স্থানে রয়েছে পিডব্লিউডি।
কিংসের জয়
এদিকে গাজীপুরের শহীদ বরকত স্টেডিয়ামে বসুন্ধরা কিংসের মুখোমুখি হয় সিটি ক্লাব। ৩-০ গোলে জেতা ম্যাচে রবসন রবিনিও, এমেকা ওজবুগ এবং কাজেম শাহ কিরমানি জাল কাঁপান।
৩৪ মিনিটে রবসন নিচু শটে বাঁদিকের জাল খুঁজে নিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু গোলকিপার ইসাক দারুণ সেভে তার শট আটকে দেন।
৩৯ মিনিটে এগিয়ে যাওযার সুবর্ণ সুযোগ আসে সিটির সামনে। কিন্তু সাইদির লং বলে প্রতিপক্ষের বিপদ সীমায় পেলেও কার্যকরী টোকা দিতে পারেননি এনামুল গাজী। তাকে অবশ্য কড়া পাহাড়ায় রাখেন কিংস ডিফেন্ডার ইউসুফ।
৪৯ মিনিটে কাইকে জেসুসের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ায় বল দেওয়া নেওয়া করে বক্সে ঢোকেন রবসন। এরপর দারুণ প্লেসিং শটে বাঁদিকের কোনা দিয়ে জাল কাঁপান তিনি। কিংস এগিয়ে যায় ১-০ গোলে।
৬৩ মিনিটে এমেকা ওজবুগকে মাঠে নামায় কিংস। সিটি আনে দুই পরিবর্তন, আফরোজ এবং সায়েখ দোস্তকে মাঠে নামান কোচ সেন্টু। ৬৯ মিনিটেই পাকিস্তানি ফরোয়ার্ড দলকে সমতায় ফেরাতে পারতেন। মধ্য মাঠ থেকে রফিকের উড়িয়ে মারা বলে বক্সে লাফিয়ে হেড নেন শায়েখ। শ্রবণের মাথার ওপর দিয়ে মনে হচ্ছিল জাল খুঁজে নেবে বল, শেষ মুহূর্তে দারুণ ক্ষিপ্রতায় লাফিয়ে ফিস্ট করে দেন কিংস গোলকিপার।
৭১ মিনিটে এমেকাকে পেছন থেকে ট্যাকল করেন সিটির ডিফেন্ডার ফরহাদ মনা। সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি সায়মন হাসান। এরপর স্পটকিকে গোলকিপার ইসাককে উল্টো দিকে পাঠিয়ে বাঁদিকের কোনা দিয়ে কিংসের লিড ২-০ করেন এমেকা।
ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে সিটি। কিন্তু যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে তাদের ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে দেন বসুন্ধরা কিংস মিডফিল্ডার কাজেম শাহ।আবদুল্লাহর বাড়িয়ে দেওয়া বলে বক্সের সামনে থেকে নিচু শটে নিজের নতুন ক্লাবের জার্সিতে গোল তুলে নেন কাজেম। মেষ পর্যন্ত ৩-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে দেশের অন্যতম সফল ক্লাবটি।