একই ম্যাচে মাশরাফি মর্তুজা, তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস ইনজুরিতে পড়েছেন। তবে মাশরাফির ইনজুরিটা গুরুতর। তাকে ছয় থেকে আট সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে। ক্যাচ ধরতে গিয়ে চোট পাওয়ার পর ফুলে গেছে তামিমের আঙুল। তবে এক্সরেতে খারাপ কিছু ধরা পড়েনি। তাকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। ফিল্ডিংয়ের সময় হাঁটুতে চোট পান ইমরুল। তাকে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।
সোমবার আপাতত টিম থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবেন মাশরাফি। টেস্ট খেলতে দল চলে যাবে ওয়েলিংটনে। আর মাশরাফি ডাক্তার দেখাতে অকল্যান্ড যাবেন। উল্লেখ্য মাশরাফি টেস্ট দলে নেই।
রবিবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচের ১৮তম ওভারে নিজের বলে আঘাত পান মাশরাফি। কোরি অ্যান্ডারসনের বল থামাতে গেলে বল তার ডানহাতে লেগে লংঅফে চলে যায়। স্কাই স্পোর্টস টিভির রিপ্লেতে দেখা যায় ওই সময় ডান হাত ধরে ব্যথায় কুকড়ে ওঠে মাশরাফির চোখমুখ। মাশরাফির মনে হচ্ছিল তার ডান হাত ছিঁড়ে যাচ্ছে।
এরপর আবার দেখা যায় ওই অবস্থাতেই মাশরাফি পরের বল করার জন্যে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু পারেননি। ফিজিও ডিন কনওয়ে ছুটে গিয়ে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। কিন্তু ওই প্রাথমিক চিকিৎসায় তার হাতের ব্যথা আরও বেড়ে গেলে মাঠের বাইরে চলে যান বাংলাদেশ কাপ্তান। এর পরপরই তাকে এমআরআই’র জন্য তারঙ্গা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এমআরআই রিপোর্টে মাশরাফির ডানহাতের বুড়ো আঙুল থেকে নিচের দিকে ফেটে আলগা হয়ে গেছে। ডাক্তারি ভাষায় এই চোটের নাম রাইট মেটাকার্পেল।
তারঙ্গা হাসপাতালের চিকিৎসকরা মাশরাফির হাতে প্লাস্টার করে দিয়েছেন। আর ধারণা দিয়েছেন এই চোট থেকে সেরে উঠতে ছয় থেকে আট সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। মাশরাফি টেস্ট দলে নেই। এর জন্য তার স্ত্রী-সন্তানরা তার সঙ্গে ছুটি কাটাতে ৬ জানুয়ারি নিউজিল্যান্ড এসে পৌঁছেছেন। সোমবার মাশরাফি পরিবার নিয়ে অকল্যান্ড যাবেন। সেখানে এমআরআই রিপোর্টসহ হাতের অবস্থা দেখাবেন একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারকে। নিউজিল্যান্ড থেকে মাশরাফি যাবেন সিডনিতে। চাইলে সেখানেও তিনি ডাক্তার দেখাতে পারেন। ডাক্তাররা বললে অপারেশনও করা লাগতে পারে।
রবিবার রাতে টিম হোটেলে গিয়ে দেখা যায় হাতে ব্যান্ডেজ বাঁধা অবস্থায় সোফায় বসে আছেন মাশরাফি। তাঁর খোঁজ নিতে মিডিয়ায় লোকজনও সেখানে ভিড় করেন। এটি রিপোর্টের চাইতে মাশরাফির প্রতি রিপোর্টারদের ভালোবাসার কারণে।
উল্লেখ্য মাশরাফি জীবনে অনেকবার ইনজুরিতে পড়েছেন। কিন্তু এভাবে হাতের ইনজুরিতে এর আগে পড়েননি। সে কথা উল্লেখ করে মাশরাফি বলেন, ‘খারাপের মধ্যে ভালোটা হলো ইনজুরি হয়েছে শেষ ম্যাচে। আশা করি শ্রীলংকা সফরের আগেই ভালো হয়ে যাব।’
শ্রীলংকা সফরে আগে টেস্ট পরে ওয়ানডে। মাঠে ইনজুরির ওই অবস্থাতে আবার বল হাতে নিয়েছিলেন কেন? মাশরাফি বলেন, ‘তখন দল আর প্রতিপক্ষের রানের যে অবস্থা, কাকে বল দেই সে চিন্তায় আবার বল হাতে নিয়েছিলাম।’ এই হলেন বাংলাদেশ দলের ক্যাপ্টেন মাশরাফি।
/এফএইচএম/








