ইন্টারনেটের মূল্য পুনঃনির্ধারণের তথা দাম কমানোর বিষয়ে যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল সরকার, সেই উদ্যোগের বিপরীতে প্রস্তাব জমা পড়তে শুরু করেছে। ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন ‘আইএসপিএবি’ এবং দুটি মোবাইল ফোন অপারেটর কোম্পানি এরই মধ্যে প্রস্তাবনা জমা দিয়েছে। প্রস্তাবনাগুলোয় কীভাবে ইন্টারনেটের দাম কমানো সম্ভব সে বিষয়ে তথ্য এবং গ্রাফ উপস্থাপন করা হয়েছে।
জানা গেছে, শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন এরই মধ্যে তাদের প্রস্তাবনা জমা দিয়েছে। আরেক অপারেটর রবিও তাদের প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেছে বলে জানিয়েছেন অপারেটরটির এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট (কমিউনিকেশন্স ও করপোরেট রেসপন্সিবিলটি) ইকরাম কবীর।
ইকরাম কবীর বলেন, ‘আমরা রেগুলেটরকে একটি প্রেজেন্টেশন দিয়েছি। ওই প্রস্তাবনায় বিষয়গুলো সবিস্তারে উল্লেখ করা হয়েছে।’ এতে করে গ্রাহক এবং অপারেটরের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির অবসান হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে, আইএসপিএবির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা একটি প্রস্তাবনা (ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের মূল্য সংক্রান্ত) ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, আইসিটি বিভাগ ও বিটিআরসিতে দিয়েছি। এখন সংশ্লিষ্টরা বিষয়গুলো বিবেচনা করবেন।’
ইমদাদুল হক আরও বলেন, “যে মডেল আমরা দিয়েছি তাতে করে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের দাম কমানো সম্ভব। ট্যাক্স-ভ্যাট কমিয়ে এবং গ্রাহকের কাছে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছানোর ‘বহুধাপ’ কমিয়ে দুটি ধাপে নামিয়ে কম দামে ইন্টারনেট সেবা দেওয়া সম্ভব।”
আইএসপিএবির প্রস্তাবনায় বর্তমান ব্যবস্থায় গ্রাহক পর্যন্ত ব্যান্ডউইথ সেবা পৌঁছানো এবং মূল্যবৃদ্ধির কারণ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ‘ধাপ কমানো গেলে এবং সরকারের সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগির হার কমানো হলে ইন্টারনেটের দাম কমানো সম্ভব হবে।’ এই প্রস্তাবনায় গ্রাহকের কাছে ব্যান্ডউইথ সরবরাহের বেলায় আইটিসি (ইন্টারন্যাশনাল টেরিস্ট্রিয়াল ক্যাবল) বা সাবমেরিন ক্যাবল, আইআইজি (ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে) আইএসপি ও গ্রাহকের অবস্থানকে একেকটি স্তর হিসেবে দেখানো হয়েছে।
প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়েছে, চারটি নয় স্তর কমিয়ে দুটি করা হলে তা দুই পক্ষের জন্যই ভালো। আইটিসি এবং আইআইজিকে এই স্তর থেকে বাদ দেওয়া যেতে পারে তাদের অন্তর্ভুক্তি ‘যৌক্তিক’ নয় বলে। এতে আরও বলা হয়েছে, এই চারটি স্তরে ট্যাক্স-ভ্যাট ও রাজস্ব ভাগাভাগি বাবদ অপারেটরগুলো দিয়ে থাকে ৩৮ দশমিক ৫০ শতাংশ দিয়ে দিতে হয়। স্তর কমালে এগুলোও কমবে।
প্রস্তাবনায় আইএসপিগুলো আইআইজির মূল্যে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) থেকে ব্যান্ডউইথ কিনতে চায়। এছাড়া তারা নতুন করে ৫-৬টি এনটিটিএন লাইসেন্স দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৬ এপ্রিল সচিবালয়ে ইন্টারনেটের মূল্য পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত বৈঠক শেষে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম জানিয়েছিলেন ট্যাক্স, ভ্যাট ও রাজস্ব ভাগাভাগি কমিয়ে ইন্টারনেটের দাম আরও কমানো যায় কি না তা নিয়ে সরকার কাজ করছে। এই উদ্যোগ সফল হলে আগামী ছয় মাসের মধ্যে এর ফল পাওয়া যাবে।
ওই বৈঠকে উপস্থিত আইআইজি, আইটিসি, বিএসসিসিএল, এনটিটিএন ও আইএসপিসহ বিভিন্ন মোবাইল ফোন অপারেটর প্রতিনিধিদের দাম কমানোর বিষয়ে বলা হয়, ‘আপনারা প্রস্তাবনা দেন যে কিভাবে ইন্টারনেটের দাম কমাতে পারবেন। এ কাজে সরকারের কী করণীয় রয়েছে। সবার প্রস্তাবনা নিয়ে মন্ত্রণালয় ইন্টারনেটের দাম কামনোর বিষয়ে যৌক্তিক সিদ্ধান্তে আসতে চায়।’
/এমও/আপ-এআর/








