ব্যক্তিগত ন্যুড ছবির বিস্তার রোধে কাজ শুরু করেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। প্রাথমিকভাবে অস্ট্রেলিয়ায় উদ্যোগটি চালু করা হয়েছে। সেখানে সফল হলে বিশ্বজুড়ে চালু হতে পারে এই কার্যক্রম। তাদের ভাষ্য, প্রকল্পটিতে সাফল্য এলে পর্নো ভিডিও ছড়িয়ে যাওয়ার মাত্রা অনেকটা কমে আসবে। এতে নারীরা অনেক উপকৃত হবেন বলেও মনে করছে ফেসবুক।
দেখা যায়, ব্যক্তিগত সম্পর্কের অংশ হিসেবে অনেক নারী তাদের পছন্দের মানুষের কাছে ন্যুড ছবি পাঠিয়ে থাকেন। কিন্তু সম্পর্ক ভেঙে গেলে প্রতিশোধ নিতে গিয়ে কিছু পুরুষ তার সঙ্গীর নগ্ন ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেন। এতে সংশ্লিষ্ট নারী সামাজিকভাবে বিপর্যস্ত হন। এ কারণে কোনও কোনও সময় আত্মহত্যার পথ বেছে নেন অনেকে। গুরুতর একটি সমস্যা হলেও এতদিন এ থেকে পরিত্রাণের কোনও উপায় ছিল না। তবে ফেসবুকের বর্তমান উদ্যোগটি এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কয়েকদিন ধরে ফেসবুকের নতুন উদ্যোগটি নিয়ে আলোচনা চলছে। এতদিন এ বিষয়ে কিছু না জানালেও সম্প্রতি পদ্ধতিটি সম্পর্কে মুখ খুলেছেন ফেসবুকের বৈশ্বিক নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান অ্যান্টিগন ডেভিস। এক ব্লগ পোস্টে তিনি জানান, প্রথমেই ব্যবহারকারীকে ফেসবুকের নির্ধারণ করে দেওয়া স্থানে নিজের একটি ন্যুড ছবি দিতে হবে। এক্ষেত্রে যে ছবিটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা আছে সেটি আপলোড করতে হবে।
পরবর্তী পদক্ষেপ প্রসঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার প্রেক্ষাপট থেকে অ্যান্টিগন ডেভিস বলেন, ‘ছবি দেওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার ই-সেফটি কমিশনারের কাছ থেকে ব্যবহারকারীকে একটি আবেদন পূরণ করতে হবে অনলাইনে। এরপর দেশটির ই-সেফটি ও ফেসবুকের কমিউনিটি অপারেশন্স দলের সদস্যরা ছবিটি দেখে বিশেষভাবে চিহ্নিত করে রাখবেন। এতে ছবিটির মালিক ছাড়া কেউ তা ব্যবহারের সুযোগ পাবে না। ফলে কমে আসতে পারে অনাকাঙ্ক্ষিত ন্যুড ছবি ও ভিডিওর বিস্তার।’
এই পদ্ধতিতে অবশ্য ব্যবহারকারীর নগ্ন ছবি দেখতে পারবেন কিছু সংখ্যক মানুষ। যারা ই-সেফটি কমিশন ও ফেসবুকের কমিউনিটি অপারেশন্স দলে থাকবেন, শুধু তাদের কাছেই এসব ন্যুড ছবি যাবে। এ কারণে এটাকে বড় সমস্যা হিসেবে দেখছে না ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। তারা জানিয়েছেন, এসব কর্মী থাকবে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত। ফলে নতুন করে কোনও সমস্যা তৈরি হবে না।
ফেসবুকের নিরাপত্তা প্রধান অ্যালেক্স স্টামোস বলেছেন, ‘আমরা সবাইকে ন্যুড ছবি আপলোড করতে বলছি না। শুধু যারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তাদেরই কাজটি করতে বলা হচ্ছে। ইন্টারনেটে অসংখ্য মানুষের কাছে ন্যুড ছবি ছড়ানোর চেয়ে আমাদের প্রশিক্ষিত কর্মীদের কাছে এসব ছবি দেওয়া বেশি নিরাপদ। কারণ আমাদের কর্মীরা এসব ছবি নিয়ে বাজে কিছু করবেন না।’
ফেসবুকের এই পদ্ধতি সম্পর্কে বলা হচ্ছে, নিজের ন্যুড ছবির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর আবারও সেই নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া। বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটির চলমান উদ্যোগ সফল হলে সারাবিশ্ব এর সুফল পাবে বলে অভিমত প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের।
অস্ট্রেলিয়ায় বর্তমানে ‘রিভেঞ্জ পর্ন’ বা প্রতিশোধ নিতে গিয়ে নগ্ন ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে। দেশটির বিভিন্ন গবেষণা বলছে, ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সী নারীদের প্রতি পাঁচ জনের একজনের এই সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই চলমান ঝুঁকি মোকাবিলায় অস্ট্রেলিয়ায় পরীক্ষামূলকভাবে ‘রিভেঞ্জ পর্ন’ প্রতিরোধে কাজ শুরু করেছে ফেসবুক।
সূত্র: বিবিসি, দ্য ভার্জ, টাইমস নাউ, আর্স টেকনিকা








