ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ‘আমি সবসময় ইন্টারনেটের দাম কমানোর কথা বলি, এটা সত্যি। পৃথিবীতে নিচের দিক থেকে সবচেয়ে কম দামে ইন্টারনেট ব্যবহার করা দেশের মধ্যে দ্বিতীয়তে আছি আমরা। ২০০৮ সালে ১ এমবিপিএস ব্যান্ডউইথের দাম ছিল ২৭ হাজার টাকা। আমি শেষ যে ফাইলে সই করেছি তাতে এর মূল্য ছিল ৩১০ টাকা। সরকারের পক্ষ থেকে এর চেয়ে বড় ছাড় দেওয়া কঠিন। সমস্যাটা হলো— সরকারের পক্ষ থেকে ইন্টারনেটের দাম কমানোর সুফল এখনও জনগণের কাছে পৌঁছায়নি।’ বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে কম্পিউটার সিটি সেন্টারে (মাল্টিপ্ল্যান) পাঁচ দিনের ‘ডিজিটাল আইসিটি ফেয়ার’-এর উদ্বোধনকালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রীর ভাষ্য, ‘আমি খোঁজ নিয়ে দেখেছি ইন্টারনেটের দাম না কমার মূলে দুটি কারণ রয়েছে। এগুলোকে আমরা শনাক্ত করেছি। এর মধ্যে অন্যতম হলো, আমরা ব্যান্ডউইথ দেই সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে। কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও ঢাকায় ক্যাবলের মাধ্যমে ইন্টারনেটে পৌঁছানো হয়। কিন্তু ঢাকার ভেতরে অথবা ঢাকার বাইরে কোনও না কোনও প্রতিষ্ঠানের ক্যাবল লাইনের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করে সবাই। এই যে আমরা ক্যাবল লাইন ব্যবহার করি, সেজন্য ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের একটা মূল্য দিতে হয়। এ কারণে ইন্টারনেটের গ্রাহক পর্যায়ের দাম বেড়ে যায়। এই ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেলকে সহজ করতে গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি আমরা। এতে করে ইন্টারনেটের মূল্য অনেকাংশে কমে যাবে।’
মন্ত্রী জানান, সবার কাছে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেওয়া ও ইন্টারনেটের দাম কমানোর জন্য সরকার তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ইতোমধ্যে ইনফো সরকার ১ ও ২ বাস্তবায়িত হয়েছে। এবার ইনফো সরকার ৩-এর মাধ্যমে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে ফাইবার অপটিক ক্যাবলের মাধ্যমে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া হবে। আশা করা হচ্ছে, ২০১৮ সালের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন হতে পারে। এই প্ল্যাটফর্ম তৈরি হলে গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেটের দাম আরও কমবে বলে মনে করেন তিনি।
সবার কাছে কম দামে ইন্টারনেট পরিষেবা দেওয়ার আশ্বাস জানিয়ে মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি, পৃথিবীতে সবচেয়ে কম দামে যেন ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারি। এই লড়াই আমার একার নয়, আপনাদেরও। প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন, আপনাকে দুটি বড় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একটি হলো, ইন্টারনেটের মূল্য কমানো। অন্যটি ইন্টারনেটে সবাইকে নিরাপদ রাখা। আপনাদের আশ্বস্ত করতে পারি, আমি বিষয় দুটি আন্তরিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করছি।’
এর আগে মেলা উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোস্তাফা জব্বার বলেন, ৫৬০ জিবিপিএস ইন্টারনেট বর্তমানে দেশে ব্যবহার হচ্ছে। আমাদের রয়েছে ১ হাজার ৭০০ জিবিপিএস। আমরা কম্পিউটার আমদানিকারক দেশ থেকে উপাদনকারী দেশ হয়েছি। আশার কথা হলো, আমরা এই মাসেই নেপাল ও ভুটানে দেশের তৈরি কম্পিউটার রফতানি করবো। তিনি আরও বলেন, আমি দেখতে চাই এসার, ডেল স্যামসাংসহ আরও বিদেশি প্রতিষ্ঠান দেশে প্রযুক্তি পণ্য তৈরি করবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) সভাপতি আলী আশফাকসহ অনেকে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মেলার আহ্বায়ক ও কম্পিউটার সিটি সেন্টারের সভাপতি তৌফিক এহ্সোন।
ডিজিটাল আইসিটি মেলায় বিশেষ আয়োজন হিসেবে থাকছে-শিশুদের ছবি আঁকার প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গেমিং জোন ও আকর্ষণীয় নানা আয়োজন। এছাড়া মেলা চলাকালে প্রবেশ টিকেটের ওপর র্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হবে। টিকিটের দাম ১০ টাকা। তবে শিক্ষার্থীদের জন্য মেলা উন্মুক্ত। মেলা ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।








