‘বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে সফল আইটি কোম্পানি খুব বেশি তৈরি হয়নি’

হিটলার এ. হালিম
০৯ এপ্রিল ২০১৮, ২০:৩৪আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০১৮, ২০:৫৮

ফাহিম মাসরুর উদ্যোক্তা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেয়েছেন বিডিজবসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ফাহিম মাসরুর। গত ৪ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘ষষ্ঠ জাতীয় এসএমই মেলার’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফাহিম মাসরুরের হাতে সেরা উদ্যোক্তার পুরস্কার তুলে দেন। এছাড়া সম্প্রতি সফটওয়্যার ও সেবাপণ্য নির্মাতাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) নির্বাচনে পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন ফাহিম মাসরুর। তিনি সেরা উদ্যোক্তার পুরস্কার প্রাপ্তি ও বেসিস পরিচালক নির্বাচিত হওয়া নিয়ে কথা বলেছেন বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে।

বাংলা ট্রিবিউন: উদ্যোক্তা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেলেন। আপনার অনুভূতি জানতে চাই।

ফাহিম মাসরুর: অবশ্যই আমি খুশি। আরও খশি এজন্য যে আমাদের দেশে তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে অনেক কথা বলা হয় কিন্তু সেভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না। অন্যান্য খাতের মতো যেমন গার্মেন্টস খাতসহ অন্যান্য খাতের মতো মতো স্বীকৃতি দেওয়া হয় না। এবার আইটির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রথম পুরস্কার দেওয়া হলো। এটা তরুণদের তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে কাজ করতে আরও উৎসাহিত করবে।

এই ইন্ডাস্ট্রি এখনও অনেক চ্যালেঞ্জের মুখে আছে। এসএমই ফাউন্ডেশনের এই পুরস্কার দেওয়ার ক্ষেত্রে একটা মানদণ্ড ছিল ‘বাণিজ্যিকভাবে সফল’ কোম্পানি হতে হবে। বিডিজবস গত ১৫ বছর ধরে বাণিজ্যিকভাবে সফলতার পথে আছে।

বাংলা ট্রিবিউন: দেরিতে হলেও তো শুরু হলো?

ফাহিম মাসরুর: আমার দৃষ্টিতে বাংলাদেশে সামগ্রিকভাবে ‘বাণিজ্যিক সফল’ আইটি কোম্পানি আসলে খুব বেশি তৈরি হয়নি। এই ইন্ডাস্ট্রি এখনও অনেক চ্যালেঞ্জের মুখে আছে। এসএমই ফাউন্ডেশনের এই পুরস্কার দেওয়ার ক্ষেত্রে একটা মানদণ্ড ছিল ‘বাণিজ্যিকভাবে সফল’ কোম্পানি হতে হবে। বিডিজবস গত ১৫ বছর ধরে বাণিজ্যিকভাবে সফলতার পথে আছে। হয়তো আমরা একদিক থেকে অন্যদের তুলনায় এগিয়ে আছি- এ কারণে পুরস্কার পেয়েছি।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনি একটা ‘ইন্টারনেট পণ্য’ তৈরি করে তরুণ প্রজন্মের চাকরি খোঁজার প্রচলিত পথকে ভিন্ন মাধ্যমে নিয়ে গেছেন।

ফাহিম মাসরুর: আমরা মাঝারি উদ্যোক্তা হিসেবে পুরস্কার পেয়েছি। আমাকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে সেবা ক্যাটাগরিতে। আমরা যখন অনলাইনে চাকরির খবর দেওয়া শুরু করি (২০০০ সালে) তখন এটা আমাদের দেশে নতুন হলেও বিশ্বে এটা কোনও নতুন ফর্মুলা ছিল না। আমরা আমাদের মতো করে এটা দাঁড় করাই। তরুণরা এটা লুফে নেয়।

বাংলা ট্রিবিউন: এই স্বীকৃতি কী তরুণদের এ পথে আসতে উৎসাহ জোগাবে?

ফাহিম মাসরুর: এটা একটা বিষয় প্রমাণ করবে যে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে অনেক সুযোগ আছে। ব্যবসা করে বাণিজ্যিকভাবে সফল হওয়া যায়। এই খাতে যারা বিনিয়োগকারী আছে, নির্দিষ্ট করে বললে ব্যাংক হতে পারে, ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট হতে পারে বা অন্যান্য গ্রুপ অব কোম্পানি আছে তারা বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে আগের চেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে।

বাংলা ট্রিবিউন: তাহলে তথ্যপ্রযুক্তি কী ব্যবসায়ের মূল ধারায় আসতে পারলো?

ফাহিম মাসরুর: আমার মনে হয় তথ্যপ্রযুক্তি এখন মূলধারার ব্যবসা হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। এমন না যে এটা আগে ছিল না। স্বীকৃতিটা একটা ফ্যাক্টর হিসেবে এ খাতকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।

পুরস্কার নিচ্ছেন ফাহিম মাসরুর

বাংলা ট্রিবিউন: সম্প্রতি আপনি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন। আপনার মন্তব্য জানতে চাই।

ফাহিম মাসরুর: বেসিসে এবার আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ছিলাম। গত ৭-৮টা নির্বাচনে কোনও স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হয়নি। সে হিসেবে একদিক থেকে এটা আমার জন্য একটা সন্তুষ্টির জায়গা। এছাড়া আমি আনন্দিত যে শেষ পর্যন্ত একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। প্রথম দিকে একটা আশঙ্কা ছিল যে নির্বাচন হবে কি হবে না। কারণ, এবার নির্বাচনের মাঝামাঝি সময়ে অনেক কাদা ছোঁড়াছুড়ি হয়েছে। বিভিন্ন ফেক অনলাইনে আজেবাজে নিউজ হয়েছে। আসলে এগুলো করানো হয়েছে। ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হয়েছে। যা আগে কখনও বেসিস নির্বাচনে হয়নি। নির্বাচনে প্রতিযোগিতা থাকবেই কিন্তু এবার অসুস্থ প্রতিযোগিতা হয়েছে। যা কাম্য ছিল না। আশঙ্কার কথা এই যে, এভাবে চলতে থাকলে আগামীতে বেসিস নির্বাচনে যাদের আসার কথা ছিল বা কন্ট্রিবিউট করার ইচ্ছে ছিল সেইসব ভদ্র মানুষরা আসার আগে দুইবার চিন্তা করবে।   

পলিসি লেভেলে কাজ করাকে আমি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবো। ‘বিটুবি’, ‘বিটুজি’র মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়া বেসিসকে তিনি আইটি সার্ভিস দিয়ে ‘এন্ড কনজ্যুমার’ তথা ভোক্তা পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই। ইন্টারনেটের দাম ও নেট নিউট্রালিটি (নিরপেক্ষতা) নিয়েও কাজ করতে চাই।

বাংলা ট্রিবিউন: বেসিস নিয়ে আপনার পরিকল্পনা জানতে চাই।

ফাহিম মাসরুর: বেসিস নিয়ে আমার কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। পলিসি লেভেলে কাজ করাকে আমি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবো। ‘বিটুবি’, ‘বিটুজি’র মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়া বেসিসকে তিনি আইটি সার্ভিস দিয়ে ‘এন্ড কনজ্যুমার’ তথা ভোক্তা পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই। ইন্টারনেটের দাম ও নেট নিউট্রালিটি (নিরপেক্ষতা) নিয়েও কাজ করতে চাই।

বাংলা ট্রিবিউন: একটা বদনাম আছে, বেসিস এখন একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। সেই বদনাম দূর করতে আপনার কী উদ্যোগ থাকবে?

ফাহিম মাসরুর: এ কথা তো আমিও বলি। আমরা আসলেই অতিরিক্ত ইভেন্টবেজড হয়ে গেছি। এখন বেসিসের ভূমিকা হওয়া উচিত ‘পলিসি লেভেলে’ কাজ করার। কারণ, ব্যবসা, কাজের ধরনে পরিবর্তন হচ্ছে। ভবিষ্যতে সেগুলো কেমনরূপে চলবে তার দিকনির্দেশনা তৈরি করা উচিত।  

বাংলা ট্রিবিউন: সময় দেওয়ায় আপনাকে ধন্যবাদ।

ফাহিম মাসরুর: বাংলা ট্রিবিউনকে শুভেচ্ছা

 

/এইচএএইচ/চেক-এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম