আগামী ১৬ ডিসেম্বর ১০ হাজার শিক্ষার্থীর হাতে দেশীয় ট্যাবলেট পিসি তুলে দেওয়ার কথা ছিল সরকারের। দায়িত্ব ছিল রাষ্ট্রায়াত্ত প্রতিষ্ঠান টেলিফোন শিল্প সংস্থার (টেশিস)। কিন্তু সেই ট্যাবেই গুরুতর অনিয়ম খুঁজে পেয়ে সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসাদুল ইসলামকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হুসনুল মাহমুদ খানকে।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বৃহস্পতিবার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, শিক্ষার্থীদের ট্যাবে গুরুতর অনিয়ম করায় টেশিস এমডিকে (আসাদুল ইসলাম) অপসারণ করা হয়েছে। টেশিসে যোগদানের আগে তিনি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) সদস্য (রক্ষণাবেক্ষণ ও চালনা) ছিলেন। জানা যায়, গত বছরের ২৩ নভেম্বর এক অফিস আদেশে (প্রজ্ঞাপন) তাকে প্রেষণে টেশিসে বদলি করা হয়।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, টেশিসে যোগদানের বিষয়ে হুসনুল মাহমুদ খানের অফিস অর্ডার হয়ে গেছে।
তারানা হালিম বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা ছিল শিক্ষার্থীদের হাতে সম্পূর্ণ দেশীয় ট্যাব তুলে দেওয়া। সে মতোই কাজ চলছিল। কিন্তু শেষ দিকে এসে দেখলাম কোনও কিছুই ঠিকমতো হয়নি। দেশীয় ট্যাব তৈরিতে টেশিসের সক্ষমতা আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারপরও দেশীয় ট্যাব তৈরি করা হয়নি। তাহলে ওই ট্যাব কেন শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। আমরা তো শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করতে পারি না। আমরা শিক্ষার্থীদের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলাম।’
মূল ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘টেশিসকে দায়িত্ব দেওয়ার পরে বলা ছিল সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রতি সপ্তাহে কাজের আপডেট জানাবেন। প্রথম দুই সপ্তাহ ঠিক ছিল। এরপর আপডেট জানানো অনিয়মিত হয়ে গেল। আপডেট তথ্য চেয়েও পেতাম না। সর্বশেষ আমি ট্যাব দেখতে চাইলাম। আমাকে যে ট্যাব দেখানো হলো তা দেখে তো আমি হতভম্ব। দেখি ট্যাবের শুধু খোলসটা (কেসিং) দেশীয় আর এর হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার সব বিদেশি। সঙ্গে সঙ্গে তা বাতিল করে দিয়ে আমি জানতে চেয়েছি, এটা তো দেশীয় ট্যাব হলো না। কাদের স্বার্থ দেখতে এমনটা করা হয়েছে তার তদন্ত হবে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১ ডিসেম্বর প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমকে টেশিস থেকে ট্যাব দেখানো হলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। দেশীয় ট্যাব না হওয়া এবং মানসম্মত না হওয়ায় তিনি চরম ক্ষুব্ধ হন টেশিস এমডির ওপর। জানা যায়, টেশিস এমডির সঙ্গে চরম বাদানুবাদও হয় তারানা হালিমের। মূলত তখনই তাকে অপসারণের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।২ ডিসেম্বর আসাদুল ইসলামকে সরিয়ে হুসনুল মাহমুদ খানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
সূত্র জানায়, দেশীয় হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার ব্যবহার না করে ‘বিশেষ কোনও মহলকে’ খুশি করতে এ কাজ করা হয়েছে বলে প্রতিমন্ত্রীর ধারণা।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক দায়িত্ব নিয়ে কাজটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন করবেন বলেই আমার আশা। আমি যে ক’দিন দায়িত্বে আছি কোনও ধরনের অনিয়ম সহ্য করব না।
/এইচএএইচ/টিএন/ আপ-এফএস/








