যেভাবে তৈরি হলো ইউএন বাংলা ফন্ট

আসির আহবাব নির্ঝর
০১ মার্চ ২০২০, ১৯:৫২আপডেট : ০১ মার্চ ২০২০, ২০:২৩

রাজন জাতিসংঘের জন্য তৈরি ইউএন বাংলা ফন্ট উদ্বোধনের খবর দেশজুড়ে সাড়া ফেলেছে। ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এই ফন্টের উদ্বোধন করে জাতিসংঘ। পরবর্তী সময়ে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) তাদের নিজেদের ওয়েবসাইটে আসকি (ASCII) লে-আউটের রেগুলার ফন্টটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে।

জাতিসংঘের ‘ইউএন বাংলা ফন্ট’ উদ্বোধন বাংলাদেশের জন্য বড় একটি অর্জন। এই অর্জনের পেছনে যারা কাজ করেছেনে, তাদের একজন মুহিববুর রহমান রাজন। মূলত তিনিই ইউএন বাংলা ফন্ট এর ডিজাইনার। নতুন এই ফন্ট তৈরি করতে রাজনের লেগেছে প্রায় চার মাস। যদিও কিছু কাজ এখনও বাকি আছে। পুরো কাজটি শেষ করতে আরও কয়েক মাস সময় লাগবে তার।

ফন্ট তৈরি সম্পর্কে মুহিববুর রহমান রাজন বলেন, কী কাজে ব্যবহার করা হবে তার ওপর নির্ভর করেই একটি ফন্ট এর নকশা নির্ধারিত হয়। ইউএন বাংলা ফন্ট ডিজাইনের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকজনের একটি টিম কাজ করেছে এবং এই ফন্টটি ফাইনাল করার আগে বেশ কয়েকটি ফন্ট ডিজাইনও করা হয়েছে। মূলত ৪-৫ টি ফন্ট স্টাইল থেকে আমার এই ফন্টটি সিলেক্ট করার পর এ নিয়ে আমার কাজ শুরু হয়। এই ফন্টটি ইংরেজি মিরিয়াদ প্রো (Myriad Pro) ফন্ট এর সঙ্গে মিল রেখে করা হয়েছে। যেন ইংরেজি মিরিয়াদ প্রো এবং ইউএন বাংলা ফন্ট দু’টি পাশাপাশি ব্যবহার করলে ভিন্ন মনে না হয়।

ফন্ট তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, একটি বর্ণমালার সৌন্দর্য এবং ব্যবহার উপযোগিতা নির্ভর করে এর স্ট্রোক ও স্পেসের ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবহারের ওপর। স্ট্রোক ও স্পেসের বিষয়টি মাথায় রেখে প্রথমে একটি ফন্ট এর রূপ কল্পনা করে স্কেচবুকে পেন্সিলের সাহায্যে বিভিন্ন অক্ষরের কয়েকটা স্কেচ তৈরি করি। তারপর একটি অক্ষরের আদলে অন্য অক্ষরগুলো তৈরি করে নিই।

তিনি আরও বলেন, পরবর্তী পর্যায়ে স্কেচবুক বা কাগজে আঁকা অক্ষরগুলো স্ক্যান করে কম্পিউটারে নিয়ে অ্যাডবি ইলাস্ট্রেটর সফটওয়্যার ব্যবহার করে ভেক্টর গ্রাফিকস তৈরি করি। ডিজিটালে নিয়ে যাওয়ার পর কখনও মনে হয়েছে, কোনও একটি অক্ষরের আকার অন্যগুলোর সঙ্গে যাচ্ছে না। ফলে আবার নতুন করে ওই অক্ষরটির স্কেচ তৈরি করে ভেক্টর করতে হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ফন্ট তৈরির সফটওয়্যারে ভেক্টর করা হরফগুলোকে বসিয়ে বিভিন্ন পরিবর্তন ও পরিমার্জনের পর ব্যবহার উপযোগী করে আউটপুট দিই।

শুধু ইউএন বাংলা ফন্টই নয়, আরও কয়েকটি ফন্টের জনক মুহিববুর রহমান রাজন। এর মধ্যে আছে রাজন শৈলী, রাজন প্রাংশু। এছাড়া দেশের শীর্ষ একটি সংবাদপত্রের ফন্টও তার তৈরি করা তার হাতে। ভবিষ্যতে বাংলা ফন্ট নিয়ে আরও অনেক বড় পরিসরে কাজ করতে চান তিনি। সঙ্গে বাংলা ভাষাকে দেখতে চান বিশ্বের সর্বোচ্চ স্থানে।

/এইচএএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম