মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে কল কেটে যাওয়া, কথা না শোনা, গ্রাহক কল রিসিভ না করলেও রিসিভ দেখিয়ে টাকা কেটে নেওয়া, মোবাইল ইন্টারনেটে ধীরগতি বা কখনও কখনও নেট না পাওয়া মোবাইল ব্যবহারকারীদের কাছে খুবই পরিচিত ঘটনা। কয়েক বছর ধরেই মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীরা এই ভোগান্তি পোহাচ্ছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বারবারই মোবাইল অপারেটরগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের স্পেকট্রাম (তরঙ্গ) কম। তবে গত ৮ মার্চ সেই সমস্যার সমাধানও হয়েছে।
টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি আয়োজিত তরঙ্গ নিলাম অনুষ্ঠান থেকে অপারেটরগুলো পর্যাপ্ত তরঙ্গ বরাদ্দ নিয়েছে। এখন আর মোবাইলে এসব সমস্যা হওয়ার কথা নয়। জানা গেছে, অপারেটরগুলো যে তরঙ্গ বরাদ্দ নিয়েছে তা আগামী ৯ এপ্রিল থেকে ব্যবহার করতে পারবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন বরাদ্দ পাওয়া তরঙ্গ ব্যবহার শুরু হলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে টেলিযোগাযোগ সেবায়।
এ বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, তরঙ্গ কম, তরঙ্গ নেই—এই কথা আর অপারেটরগুলো আর বলতে পারবে না। তাদের সেবার মান (কোয়ালিটি অব সার্ভিস) ভালো হবে। এবার তাদের সেবার মান ভালো করতেই হবে।
বর্তমানে এক মেগাহার্টজ তরঙ্গ দিয়ে গ্রামীণ ফোন ২১ লাখ ৬০ হাজার, রবি ১৪ লাখ, বাংলালিংক ১১ লাখ ৬০ হাজার এবং টেলিটক ২ লাখ ২০ হাজার গ্রাহককে সেবা দিচ্ছে।
৯ এপ্রিলের পরে বরাদ্দ নেওয়া নতুন তরঙ্গ যুক্ত হলে সেবার মান বাড়বে বলে মনে করেন অপারেটরগুলোর শীর্ষ নির্বাহীরা। তখন ভয়েস কল ও ইন্টারনেট সেবার মানও বাড়বে। কল-ড্রপ, কথা না শোনা, ইন্টারনেটে ধীরগতির সমস্যা দূর হবে। নতুন তরঙ্গ নেটওয়ার্কে যুক্ত হলে এক মেগাহার্টজ তরঙ্গে গ্রামীণফোন ১৬ লাখ ৮০ হাজার, রবি ১১ লাখ ৬০ হাজার, বাংলালিংক ৮ লাখ ৯০ হাজার গ্রাহককে সেবা দেবে। এক মেগাহার্টজ তরঙ্গ প্রতি গ্রাহকের চাপ কমায় সেবার উন্নতির কথা ভাবছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে বিটিআরসির এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত কল-ড্রপ হয়েছে ১১২ কোটি ৯৪ লাখ। এরমধ্যে রবির ৪৮ কোটি ১৭ লাখ, গ্রামীণফোনের ৪৬ কোটির কিছু বেশি, বাংলালিংকের ১৪ কোটি ৬৫ লাখ এবং টেলিটকের ৪ কোটি ১১ লাখ। সম্প্রতি এটি ভয়াবহ অবস্থায় পৌঁছেছে। বিটিআরসির নির্দেশনা রয়েছে, প্রতি ১০০টি কলের মধ্যে দুটির বেশি কল-ড্রপ হাতে পারবে না। টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মনে করেন, অপারেটরগুলোর কল-ড্রপের হার বিটিআরসি নির্ধারিত মানের চেয়ে অনেক বেশি। যদিও বাংলালিংক দাবি করে তাদের কল-ড্রপ ১ শতাংশেরও নিচে।
জানতে চাইলে রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার শাহেদ আলম বলেন, আমাদের সার্ভিস অবশ্যই ভালো হবে। সিগনিফিকেন্ট ক্যাপাসিটি ডেভেলপ করবে। ভয়েস কলে আমাদের সমস্যা ছিল না। ইন্টারনেটে কিছু সমস্যা ছিল, সেটার মান আরও ভালো হবে। অন্যদেরও কিছু কিছু ভালো হবে। তবে তিনি এটাকে শর্ট-টার্ম সলিউশন বলে মনে করেন। এক থেকে দেড় বছর পরে আবার এই সমস্যা হবে।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে অপারেটরগুলোর মধ্যে গ্রামীণফোনের ৪৭ দশমিক ৪, রবির ৪৪, বাংলালিংকের ৪০ ও টেলিটকের ২৫ দশমিক ২ মেগাহার্টজ তরঙ্গ রয়েছে। সর্বশেষ নিলামের আগে যার পরিমাণ ছিল গ্রামীণফোন ৩৭, রবি ৩৬ দশমিক ৪, রবি ৩০ দশমিক ৬ ও টেলিটকের ছিল ২৫ দশমিক ২ মেগাহার্টজ তরঙ্গ।









