দেশের কম্পিউটার ও হার্ডওয়্যার পণ্যের ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) কম্পিউটারের ওপর এখনই কোনও ধরনের শুল্ক ও করারোপ চায় না। দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আরও কয়েক বছর কম্পিউটার আমদানিতে শুল্ক ও কর মুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিসিএস চায় দেশ আগে কম্পিউটার উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হোক। উৎপাদিত কম্পিউটার বিদেশে রফতানি হোক। তারপরে কর আরোপ করা হোক। সংগঠনটি মনে করে সবকিছুই বাস্তবতার নিরিখে হওয়া উচিত।
বিসিএস-এর সভাপতি মো. শাহিদ উল মুনীর বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত কম্পিউটারে ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপ হতে পারে এমন খবরে আমরা শঙ্কিত। কারণ আমরা এখনও প্রস্তুত নই। এখনই করারোপ হলে বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়বে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটবে। তিনি মনে করেন, এখন ল্যাপটপ, ট্যাব কোনও বিলাসী পণ্য নয়। প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ। কিন্তু দেশে এগুলো তৈরির মতো সক্ষমতা আমরা এখনও অর্জন করিনি। এজন্য যৌক্তিক সময় প্রয়োজন। তিনি জানান, এরই মধ্যে (করোনাকালে) ৪০ হাজারের ল্যাপটপ ৫০ হাজার টাকা হয়ে গেছে। শুল্ক ও কর আরোপ হলে দাম হয়ে যাবে ৬০-৭০ হাজার টাকা। যা সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাবে।
বিসিএস সভাপতি বলেন, দেশে প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনকে আমরা সবসময় সাধুবাদ জানাই। দেশে যারা প্রযুক্তি পণ্য উৎপাদনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং সফলতা অর্জন করেছে তারাও বিসিএস’র সদস্য। দেশীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি আমরা বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানকেও আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছি। তবে এই প্রচেষ্টা এক দিনেই বাস্তবায়ন হওয়ার বিষয় নয়। পর্যায়ক্রমে উৎপাদনকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি আমদানির ওপর করারোপ করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
তার মতে, হঠাৎ করে কম্পিউটারের ওপর অধিক হারে কর আরোপ হওয়া ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের অন্তরায়।
বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি মনে করে, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের সময় হঠাৎ করে কম্পিউটারের উপর ভ্যাট ট্যাক্স যুক্ত হলে সাধারণ মানুষ প্রযুক্তি পণ্যের ওপর আগ্রহ হারাবে।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরে কম্পিউটার পণ্যের ওপর থেকে আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। আর তখন থেকে এখনও পর্যন্ত এ খাত আমদানিতে শুল্ক ও করমুক্ত রয়েছে।









