ডিজিটাল সেন্টারের নারী উদ্যোক্তাদের সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে গড়ে তুলবে এটুআই। এ লক্ষ্যে সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম এবং মাইক্রোসফট বাংলাদেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। এতে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) ও এটুআই প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালক কবির বিন আনোয়ার এবং মাইক্রোসফট বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোনিয়া বশির কবির।
এ চুক্তির আওতায়, দেশব্যাপী ৫ হাজার ২৭৩টি ডিজিটাল সেন্টারের নারী উদ্যোক্তাদের কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষে উক্ত ডিজিটাল সেন্টারগুলো সরাসরি সার্ভিস সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সেবা প্রদান করতে পারবে। প্রযুক্তিবিষয়ক এই প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামের মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তারা ডিজিটাল সেন্টারের যাবতীয় কাজে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারার পাশাপাশি ইউনিয়ন পর্যায়ে নাগরিকদের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার সংক্রান্ত সহায়তা প্রদান করতে সক্ষম হবে।
কবির বিন আনোয়ার বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন এবং প্রতিটি কেন্দ্রে একজন নারী এবং পুরুষ উদ্যোক্তার অবস্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তারা থাকায় গ্রামাঞ্চলে নারীদের সেবা প্রদানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এক্ষেত্রে ডিজিটাল সেন্টারের নারীদেরকে নিয়ে মাইক্রোসফটের এ প্রশিক্ষণ তাদেরকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, প্রশিক্ষণের মেয়াদ ২ দিন থেকে বাড়ানোর জন্য আমরা চেষ্টা করব। এটা কেবল প্রাথমিক প্রশিক্ষণ। আমরা অ্যাডভান্স প্রশিক্ষনের দিকে যাব।
সোনিয়া বশির কবির বলেন, আমরা বিশ্বাস করি নারীরা আমাদের সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং প্রযুক্তিতে নারীদের অংশগ্রহণের বিষয়টি আমার ব্যক্তিগত একটি আগ্রহের বিষয়। চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে মাইক্রোসফট বাংলাদেশ দেশের ডিজিটাল সেন্টারের ৫ সহস্রাধিক নারীর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাবে। আমরা বাংলাদেশের নারীদের প্রযুক্তিতে যুক্ত করার ব্যাপারে অনেক বেশি আশাবাদী। এই প্রশিক্ষণ দিয়ে আমরা নারীদের সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে গড়ে তুলেতে চাই। আর তাই সে অনুযায়ী এই খাতে নারীদের চাকরি করার যোগ্যতা অর্জনের পাশপাশি পেশাগত জীবনে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছি।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ডিজিটাল সেন্টার হলো ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ডে স্থাপিত তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর সেবা সমৃদ্ধ একটি আধুনিক কেন্দ্র। এসব ডিজিটাল সেন্টার থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২০ কোটি ৬০ লাখ সেবা প্রদান করা হয়েছে যার মধ্যে বিদেশ গমনেচ্ছু ২০ লক্ষাধিক নারী-পুরুষ শ্রমিক ও পেশাজীবীদের অনলাইন নিবন্ধন এবং সেন্টারে বসে আবেদন করে বাড়িতে বসে ৪ লাখ ৫০ হাজার জমির পড়চা লাভ, ডিজিটাল সেন্টার থেকে সেবা পাওয়ার অনন্য নজির। এখন গ্রামে বসেই ২ লাখ ৭৯ হাজার জীবন বীমা গ্রাহকসহ সরকারি ফরম পূরণ, পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল, অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, অনলাইন জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, ই-মেইল-ইন্টারনেট ব্যবহার, কম্পিউটার প্রশিক্ষণসহ ১০২ ধরনের সরকারি-বেসরকারি এবং বাণিজ্যিক সেবা পাওয়া যাচ্ছে এসব ডিজিটাল সেন্টার থেকে।
অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, ১১টি সিটি কর্পোরেশনের ৪০০ এবং ১৫টি জেলা থেকে দেড় হাজার নারী উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে মাইক্রোসফট। চলতি বছরের মধ্যে আরো ৫ হাজার ২০০ –এরবেশি নারী প্রশিক্ষনার্থী এই প্রশিক্ষণ পাবে। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে এ-গ্রেড প্রাপ্ত নারীরা সরাসরি কল সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ‘সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ার’ হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করতে পারবে।
গত বছরের মার্চে ‘উইন্ডোজ উইমেন’ শীর্ষক একটি উদ্যোগ নেয় মাইক্রোসফট বাংলাদেশ। ‘উইন্ডোজ উইমেন’-এর আওতায় কয়েকজন মাইক্রোসফট ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর নিযুক্ত করে মাইক্রোসফট বাংলাদেশ। এছাড়া ৬৪টি জেলার প্রতিটি থেকে সরকারি স্কুলের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী, ৩৪টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থী, ‘ইয়ং বাংলা’ প্রকল্প থেকে বেশ কয়েকজন নারী উদ্যোক্তা এবং ১১টি সিটি কর্পোরেশন ও ১৫টি জেলার আরো ১ হাজার ৯০০ নারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ‘উইন্ডোজ উইমেন’ শীর্ষক উদ্যোগের আওতায় মাইক্রোসফট উইন্ডোজের ওপর বিশেষ করে উইন্ডোজ ১০ ও অফিস ৩৬৫-এর ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মাইক্রোসফটের সাউথ-ইস্ট এশিয়ার নিউ মার্কেটস বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার মিশেল সিমন্স, এটুআই প্রোগ্রামের জনপ্রেক্ষিত বিশেষজ্ঞ নাইমুজ্জামান মুক্তা উপস্থিত ছিলেন।
/এইচএএইচ/








