২৭ বছর পর অবশেষে অবসর দেওয়া হলো মাইক্রোসফটের ওয়েব ব্রাউজার ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারকে। মাইক্রোসফট জানিয়েছে ১৫ জুন থেকে ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারে তারা আর কোনও সাপোর্ট দেবে না।
বিবিসি জানিয়েছে, গত বছর এর ১১তম রিলিজ বাজারে ছাড়ার সময়ই তার অবসরের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ১৯৯৫ সালে উইন্ডোজের ডেস্কটপ সংস্করণ থেকে এর আত্মপ্রকাশ ঘটে আর ২০০৪ সালের মধ্যে এটি ৯৫ শতাংশ বাজার দখল করে। এখন এর বদলে ক্রোম, অ্যাপলের সাফারি আর মজিলা ফায়ারফক্স দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বাজার।
তবে এটি ছাড়াও মাইক্রোসফটের আরও একটি ব্রাউজার রয়েছে যার নাম মাইক্রোসফট এজ। এটি চালু হয় ২০১৫ সালে। এক্সপ্লোরারের বাজার মূলত পড়তে থাকে যখন এর চেয়েও দ্রুত গতির ক্রোম আর ফায়ারফক্স বাজারে আসে। এগুলো ব্যবহার করে ব্যবহারকারীরা সহজেই গুগল সার্চ, ফেসবুক এবং ইউটিউব ব্যবহার করতে পারে। এরপরে স্মার্টফোন এসে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়ে যায় আরও ব্যাপক আকারে। অ্যান্ড্রয়েডের ক্রোম আর অ্যাপলের সাফারি মূলত বড় একটি অংশ দখল করে নেয়।
২০১৬ সালে স্টেট-কাউন্টারের রিপোর্টে দেখা যায় ডেস্কটপ ইন্টারনেটের ৬০ শতাংশই ব্যবহার হয় ক্রোম দিয়ে। অপরদিকে এক্সপ্লোরার এবং এজ’র সম্মিলিত ব্যবহার ফায়ারফক্সেরও পেছনে পড়ে যায়।
তবে ১৯৯৫ সালে মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস’র উইন্ডোজ ‘৯৫ আর ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার চালুর মাধ্যমেই মূলত ইন্টারনেট জগতে এই বিশাল ঢেউয়ের শুরু হয়। তখনই তার ভিশন ছিল প্রতিটি ঘরে একটি করে মাইক্রো কম্পিউটার থাকবে এবং সেখানে মাইক্রোসফটের সফটওয়্যার ব্যবহার হবে। কথাটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় সেই ডায়াল আপ ইন্টারনেটের যুগ যখন ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারই ছিল আমাদের একমাত্র ভরসা। এর হাত ধরেই আমাদের আজকের এই ইন্টারনেটের জগত।








