ক্লাউড স্টোরেজে ছবি-ভিডিও, পেশাদার নথিপত্র ও ফাইল থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে গুগল ড্রাইভ বহুল ব্যবহৃত একটি সেবা। সহজে যেকোনো ডিভাইস থেকে ফাইল দেখা, সম্পাদনা ও অন্যের সঙ্গে শেয়ার করার সুবিধাসহ গুগলের অন্যান্য সেবারগুলোর সাথে বা সার্বিক ইকোসিস্টেমে যুক্ত থাকায় ব্যবহারকারীদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে বহুবছর ধরে অবস্থান পাকা করে আছে গুগল ড্রাইভ। তবে এসব সুবিধার আড়ালে ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়—ড্রাইভে রাখা ফাইল আসলে কতটা সুরক্ষিত? বর্তমানে নিরাপত্তার ঝুঁকি শুধু গুগলের সার্ভার বা সম্ভাব্য সাইবার হামলাতেই সীমাবদ্ধ নয়; ভুল শেয়ারিং সেটিংস, প্রয়োজনের অতিরিক্ত অ্যাক্সেস এবং দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা পুরোনো লিংকের কারণেও ব্যক্তিগত ফাইল অনিচ্ছাকৃতভাবে অন্যের হাতে পৌঁছে যেতে পারে।
‘এনিওয়ান উইথ দা লিংক’ চালু করলেই বাড়ে ঝুঁকি
গুগল ড্রাইভের ‘এনিওয়ান উইথ দা লিংক’ অপশনটি চালু করলে নির্দিষ্ট ব্যক্তির বদলে লিংকটি যার কাছেই থাকবে, তিনি ফাইলটি দেখতে বা নির্ধারিত অনুমতি অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারবেন।অনেক ক্ষেত্রে এর জন্য গুগল অ্যাকাউন্টে সাইন ইন করারও প্রয়োজন হয় না। ফলে কোনো ফাইল সাময়িকভাবে শেয়ার করার জন্য এই অপশন চালু করে পরে সেটি বন্ধ করতে ভুলে গেলে, লিংকটি দীর্ঘদিন অন্যদের কাছে প্রবেশযোগ্য থেকে যেতে পারে। লিংকটি ফরওয়ার্ড বা অন্য কোথাও প্রকাশ হলে ফাইলটির নিয়ন্ত্রণও ব্যবহারকারীর হাতের বাইরে চলে যেতে পারে।
ভিউয়ার, কমেন্টার নাকি এডিটর—কোনটিতে কতটা অ্যাক্সেস?
শুধু কার সঙ্গে ফাইল শেয়ার করা হচ্ছে তা নয়, কী ধরনের অ্যাক্সেস দেওয়া হচ্ছে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ড্রাইভে ব্যবহারকারীকে ভিউয়ার, কমেন্টার বা এডিটর—এই তিন ধরনের অনুমতি দেওয়া যায়। যেখানে শুধু ফাইল দেখার প্রয়োজন, সেখানে ভিউয়ার হিসেবে অ্যাক্সেস দেয়াই যথেষ্ট। অন্যদিকে কমেন্টার হলে ফাইলে মন্তব্য যোগ করার অনুমতি থাকবে, আর এডিটর অ্যাক্সেস থাকলে ফাইলের মূল কনটেন্টেও পরিবর্তন করতে আনা। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক অ্যাক্সেস দেয়াটা সবচেয়ে নিরাপদ, অতিরিক্ত অ্যাক্সেস ফাইলের নিরাপত্তা লঙ্ঘন করতে পারে।
পুরোনো শেয়ারিং লিংকেও থেকে যেতে পারে ঝুঁকি
কোনো ফাইলের কাজ শেষ হয়ে গেলেও পুরোনো শেয়ারিং সেটিংস সক্রিয় থাকলে সেটি ভবিষ্যতেও অন্যের কাছে অ্যাক্সেসযোগ্য থাকতে পারে। বিশেষ করে একাধিক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার সময় কোন ফাইল কার সঙ্গে শেয়ার করা আছে, তা নিয়মিত পর্যালোচনা না করলে অপ্রয়োজনীয় অ্যাক্সেস জমতে থাকে। তাই গুরুত্বপূর্ণ ফাইলের জেনারেল অ্যাক্সেস ‘রেস্ট্রিকটেড’ রাখা এবং প্রয়োজন শেষ হলে নির্দিষ্ট ব্যক্তির অ্যাক্সেসও সরিয়ে দেওয়াই নিরাপদ পদ্ধতি।
গুগল ড্রাইভ কি তাহলে অনিরাপদ?
গুগল ড্রাইভকে সরাসরি অনিরাপদ বলা যায় না। ড্রাইভে থাকা ফাইল সংরক্ষণ ও স্থানান্তরের সময় এনক্রিপশন পদ্ধতিতে সুরক্ষিত থাকে এবং অ্যাকাউন্ট নিরাপত্তায় একাধিক সুরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়। তবে সাধারণ ড্রাইভ ফাইলে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন ডিফল্টভাবে নেই, অর্থাৎ ফাইলের এনক্রিপশন-কী এর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবহারকারীর হাতে থাকে না। তাই অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্যের ক্ষেত্রে শুধু গুগলের এনক্রিপশনের ওপর নির্ভর করাই যথেষ্ট নয়; কারণ শেয়ারিং সেটিংস ভুল হলে শক্তিশালী এনক্রিপশনও ফাইলকে অননুমোদিত ব্যক্তির হাতে পৌঁছানো থেকে আটকাতে পারে না। ফলে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এনক্রিপশনের পাশাপাশি অ্যাক্সেস নিয়ন্ত্রণ ও অ্যাকাউন্ট সুরক্ষাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।









