খুলনা নগরের রায়েরমহল এলাকায় ছেলেধরা সন্দেহে রাজু শিকদার (২৬) নামের এক তরুণকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে স্থানীয় কয়েকজন তাকে আটক করে মারধর করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশ উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সন্ধ্যায় সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়।
নিহত রাজু শিকদার খুলনার ফুলতলা উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা। মারধরের ঘটনায় জড়িত দুজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে রাজু নগরের আড়ংঘাটা থানা এলাকার রায়েরমহল বাজারের বড় মসজিদের পাশ থেকে একটি শিশুকে সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এতে আশপাশের লোকজনের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন রাজুকে আটক করেন। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাকে ছেলেধরা সন্দেহে মারধর করা হয়। পরে আশপাশের আরও লোকজন সেখানে জড়ো হয়ে তাকে পিটুনি দেন।
৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (সোনাডাঙ্গা জোন) হুমায়ুন কবির বলেন, রাজুর সঙ্গে থাকা শিশুটি তার পরিচিত ছিল কিনা, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজনের অনেকেই ঘটনাস্থল থেকে সরে যান। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আড়ংঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হালিমুর রহমান বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগ চার বছরের এক শিশুকে নিয়ে যাওয়ার সময় লোকজন তাকে ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করে। কিন্তু রাজুর উত্তর তাদের কাছে সন্তোষজনক মনে হয়নি। পরে তারা রাজুকে পিটুনি দেয়। একপর্যায়ে মারা যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। পাশাপাশি মারধরের ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন হিসেবে দুজনকে ধরে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।
রাজুর বাবা জানান, রাজু ফুলতলায় কাপড়ের দোকানের কাজ করতো। ছুটির দিন হওয়ায় মঙ্গলবার রাজু ঘুরতে বের হয়েছিল। এর মধ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করবেন তিনি।









