স্মার্টফোনের প্রচলিত ধারণায় নতুনত্ব এনে চীনের বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে অনার রোবট ফোন। ফোনটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ পেছনে থাকা মোটরচালিত টাইটানিয়াম গিম্বল ক্যামেরা, যা প্রয়োজন অনুযায়ী নড়াচড়া করতে পারে। এর সঙ্গে রয়েছে ২০০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় বিষয় অনুসরণ, শক্তিশালী প্রসেসর এবং ৭০৬০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার-আওয়ারের ব্যাটারি।
ফোনের পেছনে ক্যামেরাই যেন ছোট রোবট
অনার রোবট ফোনের মূল আকর্ষণ এর বিশেষ গিম্বল ব্যবস্থা। ফোনের পেছনে থাকা ক্যামেরাটি শুধু স্থির অবস্থায় ছবি তোলে না, বরং মোটরের সাহায্যে বিভিন্ন দিকে নড়াচড়া করতে পারে। এর ফলে ভিডিও ধারণের সময় ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবহারকারী বা নির্দিষ্ট কোনো বিষয়কে অনুসরণ করতে পারে।
অনারের তথ্য অনুযায়ী, গিম্বল ব্যবস্থাটিতে টাইটানিয়াম ধাতু ব্যবহার করা হয়েছে এবং এটি চারটি দিকে স্বাধীনভাবে নড়াচড়া করতে পারে। গিম্বলের মোটরটির ওজন মাত্র ২.৬ গ্রাম। পুরো ব্যবস্থাটি ফোনের প্রায় ৯.৬ মিলিমিটার পুরু শরীরের মধ্যেই রাখা হয়েছে।
২০০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরায় স্বয়ংক্রিয় অনুসরণ
ফোনটির প্রধান গিম্বল ক্যামেরায় রয়েছে ২০০ মেগাপিক্সেলের সেন্সর এবং এফ/১.৬ অ্যাপারচার। ভিডিও ধারণের সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে বিষয়বস্তুকে অনুসরণ করে ক্যামেরা নিজেই ফ্রেম ঠিক রাখতে পারে। ভ্লগ তৈরি, সরাসরি সম্প্রচার কিংবা ভিডিও কলে এই সুবিধা কাজে লাগবে।
এ ছাড়া ফোনটিতে আরও রয়েছে ২০০ মেগাপিক্সেলের পেরিস্কোপ টেলিফটো ক্যামেরা এবং ৫০ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরা। টেলিফটো ক্যামেরায় ২.৭ গুণ অপটিক্যাল জুম সুবিধা রয়েছে।
ক্যামেরার সঙ্গে যুক্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
অনার রোবট ফোনকে শুধু ক্যামেরা-কেন্দ্রিক স্মার্টফোন হিসেবে তৈরি করেনি প্রতিষ্ঠানটি। ফোনটির গিম্বল ক্যামেরাকে অনারের ইয়োইয়ো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহকারীর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
ফলে কণ্ঠস্বর ও বিভিন্ন নির্দেশের মাধ্যমে ক্যামেরার কিছু কাজ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। ফোনটি ব্যবহারকারী বা কোনো বিষয়কে অনুসরণ করার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের নড়াচড়া ও প্রতিক্রিয়াও দেখাতে পারে। অনার জানিয়েছে, ইয়োইয়ো ব্যবস্থায় ১০০টির বেশি ধরনের মুখভঙ্গি ও অঙ্গভঙ্গির প্রতিক্রিয়া রাখা হয়েছে।
চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রযুক্তিও থাকছে
পেশাদার ভিডিও নির্মাতাদের কথা মাথায় রেখে অনার রোবট ফোনে জার্মান চলচ্চিত্র সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আরআই-এর সঙ্গে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা করেছে।
ফোনটিতে আরআইয়ের লগ-সি৩ ভিডিও ফরম্যাট, সিনেমাভিত্তিক রঙের ধরন এবং বিশেষ সিনেমা মোড রয়েছে। এর ফলে মোবাইল ফোন থেকেই তুলনামূলকভাবে পেশাদার মানের ভিডিও ধারণ ও রঙ নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাওয়া যাবে। ফোনটিতে এ জন্য অনারের নিজস্ব এইচ১ ইমেজিং চিপও ব্যবহার করা হয়েছে।
৬.৩১ ইঞ্চির উজ্জ্বল পর্দা
ফোনটিতে রয়েছে ৬.৩১ ইঞ্চির এলটিপিও ওএলইডি পর্দা। এর রেজল্যুশন ২৬৪০ × ১২১৬ পিক্সেল এবং রিফ্রেশ রেট সর্বোচ্চ ১২০ হার্টজ। পর্দাটির সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা ৬৮০০ নিট বলে জানিয়েছে অনার।
ফোনটির পুরুত্ব প্রায় ৯.৬ মিলিমিটার এবং ওজন ২৪৮ গ্রাম। রঙের ক্ষেত্রে রয়েছে স্টার ট্র্যাক সিলভার ও মুন শ্যাডো গ্রে সংস্করণ।
শক্তিশালী প্রসেসর, বড় ব্যাটারি
পারফরম্যান্সের জন্য অনার রোবট ফোনে ব্যবহার করা হয়েছে স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট জেন ৫ প্রসেসর। সর্বোচ্চ ১৬ জিবি র্যাম ও ১ টেরাবাইট পর্যন্ত স্টোরেজ সুবিধা রয়েছে।
ফোনটিতে ৭০৬০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার-আওয়ারের ব্যাটারি দেওয়া হয়েছে। দ্রুত চার্জের জন্য রয়েছে ১২০ ওয়াট তারযুক্ত এবং ৫০ ওয়াট তারবিহীন চার্জিং সুবিধা। সফটওয়্যারের দিক থেকে ফোনটি অ্যান্ড্রয়েড ১৬-ভিত্তিক ম্যাজিকওএস ১০ দিয়ে পরিচালিত।
দাম কত? বাংলাদেশি টাকায় কত পড়বে
চীনের বাজারে ১২ জিবি র্যাম ও ৫১২ জিবি স্টোরেজের সংস্করণটির দাম ৯৯৯৯ ইউয়ান। বাংলাদেশি মুদ্রায় বর্তমান বিনিময় হারের কাছাকাছি হিসাবে এটি প্রায় ১ লাখ ৮২ হাজার টাকা।
অপরদিকে ১৬ জিবি র্যাম ও ১ টেরাবাইট স্টোরেজের সংস্করণটির দাম ১২৯৯৯ ইউয়ান, যা বাংলাদেশি টাকায় আনুমানিক ২ লাখ ৩৭ হাজার টাকা।
চীনের বাইরে কবে আসবে?
অনার রোবট ফোনের আন্তর্জাতিক বাজারে আসার বিষয়ে এখনো নিশ্চিত ঘোষণা পাওয়া যায়নি। আপাতত ফোনটির আনুষ্ঠানিক বিক্রি চীনেই শুরু হয়েছে। ফলে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশে কবে ফোনটি পাওয়া যাবে, সেটি এখনো অনিশ্চিত।









