‘ভবিষ্যতে উড়ন্ত গাড়ি থাকবে- এ কথা সত্যি হলো।’ এমন মন্তব্য করে টেসলার বহুল প্রতীক্ষিত রোডস্টারের উড্ডয়নক্ষমতার প্রদর্শনী সামনে এনেছেন ইলন মাস্ক। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে স্পেসএক্সের রকেট উন্নয়ন কেন্দ্রে গাড়িটির বিশেষ সংস্করণকে মাটি থেকে ওপরে উঠতে, শূন্যে ভাসতে এবং আকাশে নানা কসরত করতে দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে গাড়িটির একটি ভিডিও শেয়ার করেন মাস্ক। এতে সাদা রঙের বৈদ্যুতিক স্পোর্টস কারটিকে মাটি থেকে উঠে শূন্যে ভাসতে, উল্টে যেতে এবং নানা কৌশলে চলাচল করতে দেখা যায়। প্রদর্শনীতে স্পটলাইটের নিচে দ্রুতগতির কসরতের পাশাপাশি ঘন ধোঁয়ার ব্যবহারও ছিল।
টেক্সাসের ম্যাকগ্রেগরে স্পেসএক্সের রকেট উন্নয়ন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উচ্ছ্বসিত দর্শকদের সামনে গাড়িটির সক্ষমতা তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে মাস্ক বলেন, ‘আমার বন্ধু পিটার থিয়েল একবার বলেছিলেন, ভবিষ্যতে আমাদের উড়ন্ত গাড়ির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা পেয়েছি ১৪০ অক্ষর।’ ২০২২ সালে টুইটার কেনার আগে সেখানে পোস্টের সর্বোচ্চ অক্ষরসীমার প্রসঙ্গ টেনে রসিকতা করেন তিনি। পরে বলেন, ‘এখন আর তা নয়।’
টেসলা জানিয়েছে, রোডস্টারটির বিশেষ প্রদর্শনীতে ঠান্ডা গ্যাসের থ্রাস্টার এবং ফ্যানভিত্তিক সাকশন ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে। স্পেসএক্সের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি থ্রাস্টারগুলো গাড়িটিকে মাটি থেকে ওপরে তুলতে এবং এর গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করার জন্য তৈরি।
টেক্সাসের অনুষ্ঠানে গাড়িটিকে একটি ঢাল বেয়ে উঠে কিছুক্ষণের জন্য উল্টো অবস্থায় থাকতে এবং পরে আবার মাটিতে ফিরে আসতে দেখা যায়। স্থির অবস্থান থেকেও গাড়িটি মাটি থেকে উঠে সারিবদ্ধভাবে রাখা কয়েকটি টেসলা গাড়ি পার হতে সক্ষম হয়।
মাস্কের ভাষ্য অনুযায়ী, রোডস্টার প্রকল্পটি টেসলা ও স্পেসএক্সের যৌথ উদ্যোগ। কোম্পানির দাবি, গাড়িটি ঘণ্টায় শূন্য থেকে ৬০ মাইল বা প্রায় ৯৭ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছাতে সময় নেয় মাত্র ০.৮১ সেকেন্ড।
রোডস্টারের দুটি সংস্করণ রয়েছে- মাটি থেকে উড্ডয়নে সক্ষম বিশেষ ‘রকেট’ সংস্করণ এবং সড়কে চলাচলের জন্য তৈরি ‘থ্রাস্ট’ সংস্করণ। রকেট সংস্করণটি এখনও জনসাধারণের ব্যবহারের সড়কে চলাচলের অনুমোদন পায়নি।
গাড়িটি সব জায়গায় আইনগতভাবে চলাচলের অনুমতি পাবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা স্বীকার করেছেন মাস্ক। তিনি আরও বলেছেন, গাড়িটি বিশেষভাবে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তৈরি করা হয়নি।
অনুষ্ঠানে মাস্ক বলেন, ‘আমি নিশ্চিত নই, এটি সব জায়গায় আইনসম্মত কি না। তবে এমন একটি গাড়ি থাকবে, যার মালিক হওয়া সম্ভব।’
টেসলার ওয়েবসাইটে রোডস্টারকে ‘পদার্থবিজ্ঞানের সীমার বাইরে’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে মাস্কের বক্তব্য অনুযায়ী, গাড়িটি শেষ পর্যন্ত সড়কে চলাচলের উপযোগী একটি বাস্তব যান হিসেবেই বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
২০১৭ সালে দ্বিতীয় প্রজন্মের রোডস্টার উন্মোচনের পর থেকেই গাড়িটি মাস্কের অন্যতম আলোচিত প্রকল্প। শুরুতে ২০২০ সালে গাড়িটির সরবরাহ শুরুর কথা থাকলেও বারবার পিছিয়েছে সেই সময়সীমা। এখন টেসলা ২০২৮ সালে গাড়িটির উৎপাদন শুরুর আশা করছে। তবে নতুন করে প্রদর্শিত গাড়িটির উৎপাদন ও দাম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও জানায়নি কোম্পানিটি।
সূত্র: উইয়ন নিউজ
Turns out the future does have flying cars https://t.co/6fexPp6SXI
— Elon Musk (@elonmusk) October 16, 2026
ডিজিটাল রূপান্তরে দ্রুত অগ্রগতি সৌদি আরবের
প্রতারণামূলক বার্তা থেকে সুরক্ষায় জেমিনাই ব্যবহার করবে অ্যান্ড্রয়েড