মোবাইলে সম্পূর্ণ ৪জি কভারেজ থাকা সত্ত্বেও ওয়েবসাইট ভিজিট করা, ভিডিও দেখা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম চালানোর সময় ইন্টারনেট ধীর হয়ে গেলে প্রায়ই ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এমন সময় ছবি লোড হতে দেরি হয়, ভিডিও বারবার আটকে যায় কিংবা ফাইল ডাউনলোড করতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগে। দুর্বল নেটওয়ার্ক সিগন্যাল, মোবাইল ডেটা ভলিউম হয়ে যাওয়া, নেটওয়ার্কে অতিরিক্ত ব্যবহারকারীর চাপ কিংবা ফোনের সেটিংসের কারণে এমন সমস্যা হতে পারে। তবে কয়েকটি সহজ পদ্ধতি অনুসরণ করার মাধ্যমেই ইন্টারনেট ব্যবহারের অভিজ্ঞতা হতে পারে আরও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ।
এপিএন সেটিংস যাচাই করুন
এপিএন বা অ্যাকসেস পয়েন্ট নেম হলো মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপনের জন্য ব্যবহৃত সেটিংস। এতে ভুল তথ্য থাকলে ইন্টারনেট সংযোগে সমস্যা দেখা দিতে পারে। বাংলাদেশের মোবাইল অপারেটরগুলোর এপিএন তথ্য হলো-
- গ্রামীণফোন: এপিএন নাম GP-INTERNET, এপিএন মান gpinternet
- রবি ও এয়ারটেল: এপিএন নাম Robi-INTERNET, এপিএন মান internet
- বাংলালিংক: এপিএন নাম Banglalink Internet, এপিএন মান blinternet
- টেলিটক: এপিএন নাম Teletalk Internet, এপিএন মান teletalk
এপিএন যাচাই করতে ফোনের ‘সেটিংস’ থেকে ‘মোবাইল নেটওয়ার্ক’ বিভাগে যান। এরপর ‘অ্যাকসেস পয়েন্ট নেম’ বা ‘এপিএন’ অপশন খুলে অপারেটরের নির্ধারিত তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন। ভুল থাকলে সঠিক তথ্য দিয়ে এপিএন তৈরি বা নির্বাচন করুন। এরপর ফোন রিস্টার্ট দিয়ে ইন্টারনেটের গতি পরীক্ষা করুন। ফোনের ব্র্যান্ড ও অপারেটরভেদে মেনুর নাম বা সেটিংসের অবস্থান আলাদা হতে পারে। তাই পরিবর্তনের আগে অপারেটরের কাছ থেকে এপিএন তথ্য যাচাই করে নেওয়া ভালো।
নেটওয়ার্কের চাপ এড়িয়ে চলুন
রাত ৮টা থেকে ১১টার মধ্যে অনেক এলাকায় ইন্টারনেট ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় মোবাইল নেটওয়ার্কে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। এ সময়ে ইন্টারনেট ধীর হলে সম্ভব হলে অন্য সময়ে বড় ফাইল ডাউনলোড করুন বা ওয়াই-ফাই ব্যবহার করুন। তবে সমস্যা শুধু নির্দিষ্ট সময়ে দেখা গেলেই যে নেটওয়ার্কে অতিরিক্ত চাপ রয়েছে, তা নিশ্চিত নয়।
ফোনে ৪জি বা এলটিই নির্বাচন করুন
ফোনের নেটওয়ার্ক সেটিংসে ৩জি নির্বাচন করা থাকলে ইন্টারনেটের গতি কম হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ‘সেটিংস’ থেকে ‘মোবাইল নেটওয়ার্ক’ বা ‘নেটওয়ার্ক’ বিভাগে যান। এরপর ‘প্রেফারড নেটওয়ার্ক টাইপ’ অপশনে গিয়ে ৪জি বা এলটিই নির্বাচন করুন। ফোন, সিম ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় অপারেটরের ৪জি সেবা সমর্থিত কি না, সেটিও নিশ্চিত হতে হবে এবং সে অনুযায়ী ৩জি বা ৪জি সেবা নির্বাচন করতে হবে।
দুর্বল সিগন্যালের সমাধান করুন
ঘরের ভেতরে, বেসমেন্টে কিংবা ভবনের এমন জায়গায় যেখানে মোবাইল সিগন্যাল দুর্বল, সেখানে ইন্টারনেটের গতি কম পাওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে জানালার কাছে বা খোলা জায়গায় গিয়ে গতি পরীক্ষা করুন। ফোনে ধাতব কেস ব্যবহার করলে সেটি খুলে ব্যবহার করুন। তবে অপারেটরের দুর্বল নেটওয়ার্ক কভারেজ সমস্যার মূল কারণ হয়ে থাকলে হলে শুধু ফোনের অবস্থান পরিবর্তন করে সব সময় সমাধান পাওয়া যাবে না।
ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা ও সফটওয়্যার পরীক্ষা করুন
ফোনে ব্যাকগ্রাউন্ডে চলা অ্যাপ, স্বয়ংক্রিয় ভিডিও চালু হওয়া এবং অ্যাপের আপডেট মোবাইল ডেটা ব্যবহার করতে পারে। অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা বন্ধ করুন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও অটোপ্লে সুবিধা নিষ্ক্রিয় রাখুন। পাশাপাশি ফোনের সফটওয়্যার হালনাগাদ আছে কি না, তা পরীক্ষা করুন।
সবকিছু পরীক্ষা করার পরও ইন্টারনেট ধীর থাকলে অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করে সিম, নেটওয়ার্ক কভারেজ ও সংযোগসংক্রান্ত সমস্যা যাচাই করা যেতে পারে।
ফেসবুকে লিংক শেয়ারে অর্থ দাবি মেটার, বিপাকে সরকারি ও নন-প্রফিট পেজ
পাসওয়ার্ড ছাড়াই এআই এজেন্টের লগইন, ‘ওয়ান পাসওয়ার্ডে’র নতুন ফিচার