থ্রিজি নয়, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটেই কর্মসংস্থান

হিটলার এ. হালিম
২০ জুন ২০১৬, ০৮:৪৭আপডেট : ২০ জুন ২০১৬, ০৮:৪৮

থ্রিজি

হালে তৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল ইন্টারনেট থ্রিজি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেলেও তা প্রত্যাশীত কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারছে না। উৎপাদনশীলতা ও কর্মসংস্থানের জন্য ব্রডব্যান্ড (উচ্চগতি) ইন্টারনেট প্রয়োজন বলে মনে করছেন এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।   

তারা বলছেন,উন্নত দেশ বা শহরাঞ্চলে নাগরিক সুবিধার জন্য থ্রি বা ফোরজি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় ম্যাপ, ঠিকানা, হোটেল, রেস্তোরাঁ খুঁজে বের করতে। ব্যাংকিং বা ভ্রমণের কাজেও নানান অ্যাপ্লিকেশন দিয়ে চটজলদি সেবা গ্রহণের ফলে এই প্রযুক্তি জনপ্রিয় হয়েছে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারেনি। মোবাইল ফোন বা ডিজিটাল ডিভাইসে থ্রিজি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলেও সাধারণত অফিস, কর্মক্ষেত্র, গবেষণাগার, বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবহার হচ্ছে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট। এমনকি যে ফ্রিল্যান্সাররা আউটসোর্সিং করেন তারাও থ্রিজি নয়, ব্রডব্যান্ডের পক্ষে।

প্রসঙ্গত, বিটিআরসির পরিসংখ্যান অনুযায়ী এপ্রিল মাস পর্যন্ত দেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩৩ লাখ ৪৩ হাজার। অন্যদিকে দেশের মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ৬ কোটি ২০ লাখ।

বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, বিএসসিসিএল দেশে ২০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ আনছে। বর্তমানে এর ব্যবহার ২৭ গিগা থেকে বেড়ে ১১১ গিগা হয়েছে। এরমধ্যে ১০ গিগা ব্যান্ডউইথ ভারতেও রফতানি হচ্ছে। অবশিষ্ট ব্যান্ডউইথ অব্যবহৃত থাকে। অন্যদিকে আইটিসিগুলো স্থলপথে ভারত থেকে ১৭০-১৮০ গিগা ব্যান্ডউইথ আমদানি করছে। তিনি মনে করেন, উৎপাদনমুখী কাজের জন্য ব্রডব্যান্ডের কোনও বিকল্প নেই।  

উন্নয়নের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি প্রকল্প আমাদের গ্রামের পরিচালক রেজা সেলিম বলেন,২০০৯ সালে গৃহীত জাতীয় ব্রডব্যান্ড নীতিমালা ত্রি-স্তর উদ্দেশ্য সম্বলিত যেসব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল, সেসব বাস্তবায়ন হওয়ার কথা ২০১৫ সালের মধ্যে। এই নীতিমালা প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ করলে খুব সহজেই বোঝা যায় একে প্রায় উপেক্ষা করা হয়েছে। সে তুলনায় মোবাইলফোনের ইন্টারনেট ব্যবহার সম্প্রসারণে নিয়েই আমরা অনেক বেশি ব্যস্ত থেকেছি। এই নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে ইতোমধ্যে সারা দেশের পোস্ট আফিস, হাসপাতাল, প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পেতো। গ্রামে গ্রামে যদি এই সেবা সম্প্রসারিত হতো ঘরে বসে বা পাড়ায় পাড়ায় আইটি খাতে সৃজনশীল কর্ম ব্যবস্থা গড়ে উঠতো। গ্রামে গ্রামে গড়ে উঠতো তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক নানামুখী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। শুধু বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর উপাত্ত সংগ্রহের কাজ করে দিয়েই গ্রামে গ্রামে গড়ে উঠতো সৃজনশীল জ্ঞানকর্মী। জনমিতিক তথ্য সংগ্রহ, স্বাস্থ্য তথ্য, হাঁস-মুরগী, গবাদি পশু, গাছপালা, এমন কী প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় তাৎক্ষণিক তথ্য সরবরাহের এমন সহজ সুযোগ সংশ্লিষ্ট সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহার করতে পারছে না। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগের পরিকল্পনা উপেক্ষা করে এই কাজের সুযোগ নষ্ট করা হচ্ছে।

ওই নীতিমালায় মধ্যমেয়াদি লক্ষ্যে বলা হয়, ১০ শতাংশ গ্রামকে ২০১২ সালের মধ্যে ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্কের আওতায় আনা। অথচ ২০১৫ সালের তথ্য অনুযায়ী (আইটিইউ-এর গবেষণা অনুযায়ী) দেশের ব্রডব্যান্ড ব্যবহারের হার মাত্র ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। সব ইউনিয়ন পরিষদ ভবনকে ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্কের আওতায় আনার কথা থাকলেও ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারগুলোতে (ইউডিসি) এখনও ব্রডব্যান্ড সংযোগ পৌঁছেনি।

ইন্টারনেট সেবাদাতার সংগঠন আইএসপিএবির সভাপতি এম এ হাকিম বলেন, আইএসপিএবি নীতিমালা তৈরির পরে ব্রডব্যান্ড নীতিমালা হালনাগাদ করা হবে। কারণ আমাদের টিকে থাকতে হলে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের কোনও বিকল্প নেই। আমরা দেখেছি সৃজনশীল ও উৎপাদনমুখী কাজের জন্যই ব্যবহার করা হয় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট।

ইন্টারনেটভিত্তিক সেবাপণ্য ও দেশের চাকরি বিষয়ক ওয়েব পোর্টাল বিডিজবসের প্রধান নির্বাহী ফাহিম মাশরুর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,ঢাকার বাইরে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট একেবারে নেই বললেই চলে। থাকলেও তা অনেক দামি। গ্রামের একজন তরুণের থ্রিজি ব্যবহার করতে তার মাসে খরচ হয় ৫০০-৬০০ টাকা যা তার আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। ফলে সে ইন্টারনেটের ব্যবহার কমিয়ে দেয়। হয়তো শুধু ফেসবুক ব্যবহার করে। কিন্তু ইন্টারনেট মানেই তো এসব নয়, ই-কমার্স, কনটেন্টকেও বোঝায়; কিন্তু ইন্টারনেট দামের কারণে সেসব পিছিয়ে যাচ্ছে।

ফাহিম মাশরুর মনে করেন, সারাদেশে ব্রডব্যান্ড হলে, পাবলিক  প্লেসে ওয়াইফাই হট স্পট হলে তরুণরা সেখানে এসে বিনামূল্যে ইন্টারনেট ব্যবহার করবে। ফলে সব মিলিয়ে ইন্টারনেট খরচ কমবে। তরুণরা উৎপাদনমুখী কাজের প্রতি এগিয়ে যাবে।

ইন্টারনেট পণ্যের (কনটেন্ট ও অ্যাপস) নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এমসিসি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী আশ্রাফ আবীর জাতীয় ব্রডব্যান্ড নীতিমালার লক্ষ্যমাত্রার কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রত্যাশা অনুযায়ী আমরা এখন ব্রডব্যান্ডের ব্যবহার থেকে প্রায় ২৪ শতাংশ পিছিয়ে আছি। দ্রুত এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে। তিনি বলেন, ইন্টারনেট তথা ব্রডব্যান্ড জনপ্রিয় হলে শুধু মানুষ উপকৃত হবে তা নয়, অর্থনীতিতেও তা প্রভাব ফেলবে। স্থানীয় পর্যায়ে ইন্টারনেটকে জনপ্রিয় করা গেলে এর ব্যবহারকারীর সংখ্যাও বাড়বে। তিনি বলেন, আজকের শিক্ষার্থীদের হাতে যদি ইন্টারনেট দিয়ে দেওয়া যায় তাহলে ১০ বছর পরে আমরা একটা ইন্টারনেট জেনারেশন (প্রজন্ম) পাব। ভাবা যায় আমরা কী পাব তাদের কাছ থেকে। তাদের ইন্টারনেটভিত্তিক কার্যক্রম বাড়াতে হবে, অ্যাসাইনমেন্ট দিতে হবে ইন্টারনেটের মাধ্যমে, শিক্ষকদের দক্ষ করে তুলতে হবে, কনটেন্ট বাড়াতে হবে, তাহলেই আমরা দীর্ঘমেয়াদে সুফল পাবো। কিন্তু সবার আগে চাই ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট।

আরও পড়ুন: ফেসবুকের অতি গুরুত্বপূর্ণ কিছু কৌশল

/এমএসএম/      

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম