‘সুখবর’ নিয়ে আসছে ইউটিউব

Send
আসির আহবাব নির্ঝর
প্রকাশিত : ২০:৩২, নভেম্বর ১৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৩২, নভেম্বর ১৪, ২০১৯

ইউটিউবব্যস্ত বাবা-মায়েদের জন্য ইউটিউব কখনও কখনও আশীর্বাদ হয়ে দেখা দেয়। হঠাৎ শিশু কান্না শুরু করলে ইউটিবের সাহায্য নিয়ে তা বন্ধ করেন অনেক অভিভাবক। আবার কোনও বাবা-মা শিশুকে ইউটিউব দেখতে দিয়ে তাদের হাতের কাজগুলো সেরে নেন। এখানেই শেষ নয়, বর্তমানে শিশুরা ইউটিউব থেকে অনেক কিছুই শিখছে। বেশকিছু ইউটিউবার এখন শুধু শিশুদের টার্গেট করেই কনটেন্ট বানাচ্ছেন। ফলে লাভবান হচ্ছে শিশু এবং তাদের অভিভাবকরা। কিন্তু ইউটিউব শিশুদের জন্য কতটা নিরাপদ? তারা কি ইউটিউবে সুরক্ষিত? 

বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এর উত্তর হবে ‘না’। কারণ, বাংলাদেশে এখনও শিশুদের ইউটিউবের সংস্করণ ‘ইউটিউব কিডস’ চালু হয়নি। ইউটিউব কিডস হলো বিশেষভাবে শিশুদের জন্য তৈরি ইউটিউবের একটি ভার্সন। এখানে থাকা সব কনটেন্ট তাদের উপযোগী করেই তৈরি করা। ফলে তাদের সামনে কোনও ‘অ্যাডাল্ট কনটেন্ট’ বা ‘অ্যাডাল্ট বিজ্ঞাপন’ আসার সম্ভাবনা কম।

অবশ্য ইউটিউব কিডসেও অনেক অ্যাডাল্ট কনটেন্ট ও বিজ্ঞাপন চলে আসে বলে অভিযোগ রয়েছে। ইউটিউব কর্তৃপক্ষও এটা স্বীকার করেছে। সঙ্গে এটা বলেছে, তারা বেশ কয়েকটি পক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছে। দ্রুতই এসব সমস্যার সমাধান হবে।

এ বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের ৬৯টি দেশে ইউটিউব কিডস চালু আছে। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে এটি অবমুক্ত করা হলেও বাংলাদেশের এখন পর্যন্ত ইউটিউবের কিডস অ্যাপ চালু হয়নি। ফলে যেখানে ইউটিউব কিডস ব্যবহারকারী শিশুরাই সুরক্ষিত নয়, সেখানে উন্মুক্ত ইউটিউবে শিশুরা কতটা নিরাপদ তা সহজেই অনুমেয়।

বাংলাদেশে যেহেতু ইউটিউব কিডস চালু হয়নি সে কারণে ইউটিউবের কমন প্ল্যাটফর্মটিই শিশুরা ব্যবহার করে থাকে। আর এখানে অ্যাডাল্ট কনটেন্ট বা বিজ্ঞাপন চলে আসা খুবই স্বাভাবিক এবং এটি অহরহই ঘটছে। এগুলো একটি শিশুর মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

অবশ্য অভিভাবকদের জন্য বড় একটি সুখবর হলো, আগামী বছর থেকে কমন ইউটিউব প্ল্যাটফর্মে অনেক বড় একটি সুবিধা পেতে যাচ্ছেন তারা। বাংলাদেশে ইউটিউব কিডস অ্যাপ না থাকায় এটি বাংলাদেশি ব্যবহারকারীদের জন্য বেশ কার্যকর হবে।

প্রযুক্তিভিত্তিক গণমাধ্যম দ্য ভার্জ এক প্রতিবেদনে জানায়, ইউটিউবে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এই নীতিমালা ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে চালু হওয়ার কথা রয়েছে।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, একজন কনটেন্ট নির্মাতাকে কনটেন্ট তৈরির পরই সেটি শিশুদের জন্য উপযোগী কিনা তা মার্ক করে দিতে হবে। আর এমন মার্ক করার পর নির্দিষ্ট কনটেন্টটি শিশুদের জন্য উপযোগী বলে বিবেচিত হবে। ফলে বিজ্ঞাপনের জন্য এই কনটেন্ট থেকে কোনও তথ্য সংগ্রহ করতে দেওয়া হবে না। এমনকি ইউটিউবের অনেক ফিচারও এই কনটেন্টে কার্যকর থাকবে না।

চিলড্রেনস অনলাইন প্রাইভেসি প্রোটেকশন অ্যাক্ট অনুযায়ী, অভিভাবকদের অনুমতি ছাড়া ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের সম্পর্কে কোনও তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে না ইউটিউব। ফলে এমন ব্যবহারকারীদের টার্গেট করে কোনও বিজ্ঞাপনও ছাড়তে পারবে না তারা।

ইতোমধ্যে এসব নিয়মাবলী কনটেন্ট নির্মাতাদের কাছে পাঠানো হচ্ছে যেন তারা আগে থেকেই সচেতন হয়ে যেতে পারেন। নতুন নীতিমালার কারণে আগামী বছর থেকে ইউটিউবে শিশুরা আগের চেয়ে নিরাপদ থাকতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

/এইচএএইচ/

লাইভ

টপ