কাউন্টারপয়েন্টের প্রতিবেদন

দেশের শীর্ষ মোবাইল ব্র্যান্ড শাওমি, মার্কেট শেয়ারে সিম্ফনি

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৭:৩৯আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৭:৩৯

২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে বাংলাদেশে স্মার্টফোন আমদানি ২৩ শতাংশ কমেছে। মূল্যস্ফীতি, ডলার সংকট, বৈশ্বিক সরবরাহে ব্যাঘাত, আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি এবং নতুন আরোপিত মূল্য সংযোজন করের (ভ্যাট) কারণে এমনটি হয়েছে। বৈশ্বিক শিল্প বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্টের সর্বশেষ মার্কেট মনিটর সার্ভিসের গবেষণায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

সার্বিকভাবে স্মার্টফোন আমদানি কমলেও শাওমি এবং নকিয়ার ক্ষেত্রে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। উল্লিখিত দুটি ব্র‍্যান্ডের স্মার্টফোন আমদানি ব্যাপকভাবে বেড়েছে। স্থানীয়করণে গুরুত্ব দেওয়ায় এবং দাম নির্ধারণে কৌশলী হওয়ায় এদের স্মার্টফোন মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে স্মার্টফোন আমদানিতে।

এখন পর্যন্ত ২০২২ সালে সবচেয়ে বেশি স্মার্টফোন আমদানি করেছে শাওমি। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের এক নম্বর স্মার্টফোন ব্র্যান্ড হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে প্রায় দ্বিগুণ স্মার্টফোন আমদানি করেছে তারা। ২০২১ সালে শাওমির অবস্থান ছিল ৬। অন্যদিকে ২০২২ সালে ১৩ শতাংশ মার্কেট শেয়ার নিয়ে স্মার্টফোন ব্র‍্যান্ডের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছে স্যামসাং। আর ১১ শতাংশ মার্কেট শেয়ার নিয়ে তিন নম্বরে নেমে গেছে রিয়েলমি। ভিভো এবং অপো তাদের মার্কেট শেয়ার ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। তবে আগের বছরের তুলনায় ২০২২ সালে তাদের আমদানি কমেছে যথাক্রমে ১৭ শতাংশ এবং ২৮ শতাংশ।

বাংলাদেশে ২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে সব ধরনের মোবাইল হ্যান্ডসেটের (স্মার্টফোন এবং ফিচার ফোনের সমন্বিত বাজার) বাজার কমেছে ৮ শতাংশ। সমন্বিত এই বাজারের শীর্ষে রয়েছে দেশের স্থানীয় ব্র্যান্ড সিম্ফনি। প্রতিষ্ঠানটির অধীনে আছে ২৬ শতাংশ মার্কেট শেয়ার। ফিচার ফোন মার্কেটেও শীর্ষে রয়েছে সিম্ফনি৷ এক্ষেত্রে তাদের মার্কেট শেয়ারের পরিমাণ ৩৭ শতাংশ।

সার্বিকভাবে স্মার্টফোন আমদানি কমে যাওয়া সম্পর্কে গবেষক অক্ষয় আরএস বলেন, ‘ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির কারণে ক্রেতাদের চাহিদা কম নিয়েই বছর শুরু হয়। এরপর সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়া প্রান্তিকে আমদানি শুল্ক বেড়ে যাওয়ায় এবং ডিসেম্বরে শেষ হওয়া প্রান্তিক মূল্য সংযোজন কর আরোপ হওয়ায় ৭ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের স্মার্টফোন আমদানি হ্রাসের হার দুই অংকের ঘরে পৌঁছেছে। পাশাপাশি রিজার্ভ কমে যাওয়ায় বিভিন্ন যন্ত্রপাতির জন্য ঋণপত্র (এলসি) খোলার বিষয়টি কঠিন হয়ে পড়ে। এতে স্থানীয় হ্যান্ডসেট উৎপাদনকারীদের উৎপাদনও কমে যায়।

অবশ্য ২০২২ সালে স্মার্টফোন মার্কেটে একটি মাইলফলক অর্জন করেছে বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো দেশে ফাইভজি স্মার্টফোন আমদানি ১০ লাখের ঘরে পা রাখলো। ২০২১ সালের চেয়ে এই পরিমাণ ১৫১ শতাংশ বেশি। এতে বাংলাদেশের স্মার্টফোন বাজারে ফাইভজি স্মার্টফোনের শেয়ার ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০২১ সালে এই শেয়ারের পরিমাণ ৯ শতাংশ থাকলেও ২০২২ সালে তা ১৭ শতাংশে পৌঁছায়।

আগামীর অবস্থা সম্পর্কে ২০২৩ সালের আউটলুকে সিনিয়র অ্যানালিস্ট করণ চৌহান বলেন, ‘বাংলাদেশের স্মার্টফোন মার্কেট একটি চ্যালেঞ্জিং বছর পেরিয়ে ২০২৩ সালে আগের অবস্থায় ফিরে আসবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। ফিচারফোন থেকে স্মার্টফোনের ব্যবহার আবারও শুরু হলে এবং ফাইভজি স্মার্টফোনের ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে বাজার সম্প্রসারিত হবে। তবে মূল্যস্ফীতিজনিত ঝুঁকি এবং মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় সম্পর্কিত সংকট মোকাবিলায় দেশটি কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে তার ওপরই নির্ভর করবে বাজার সম্প্রসারণের মাত্রা।’

/এইচএএইচ/আরআইজে/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
কৃষিকে আধুনিক ও জলবায়ু-সহিষ্ণু করতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা জরুরি: প্রধানমন্ত্রী
কৃষিকে আধুনিক ও জলবায়ু-সহিষ্ণু করতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা জরুরি: প্রধানমন্ত্রী
শিক্ষা ক্যাডারে বড় পদায়ন, ৩১ শিক্ষককে বদলি
শিক্ষা ক্যাডারে বড় পদায়ন, ৩১ শিক্ষককে বদলি
খলিলুর রহমানকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন
খলিলুর রহমানকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী