ভারতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদমের প্রভাবে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের কনটেন্ট ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা হালনাগাদ (এসআইআর) কর্মসূচির বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও বিরোধী দলগুলোর আন্দোলনে সাধারণ ব্যবহারকারীদের টাইমলাইন ভেসে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান মেটাকে কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে দেশটির ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।
গত ১০ অক্টোবর দিল্লিতে সিজেপির বিক্ষোভের দিন এই নির্দেশনা জারি করা হলেও গত রবিবার (১৮ অক্টোবর) গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে তা প্রকাশ্যে আসে। মেটাকে পাঠানো নির্দেশনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সংক্রান্ত স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর অ্যালগরিদমভিত্তিক প্রচার ও সুপারিশ (রিকমেন্ডেশন) পর্যালোচনার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সরকারের অভিযোগ, পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ ও পরিপ্রেক্ষিত ছাড়াই এ ধরনের পোস্ট অতিরিক্ত ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি, আশঙ্কা ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক বিক্ষোভে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর প্রমাণ পেয়েছে সরকার। বহু ক্ষেত্রে পুরনো এবং ভিন্ন ঘটনার ভিডিও নতুন বলে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে মেটাকে কোনও ছবি বা ভিডিও প্রচারের ক্ষেত্রে এর সত্যতা, তারিখ, স্থান ও প্রেক্ষাপট স্পষ্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে একক কোনও প্রচারণাকে অতিরিক্ত হাইলাইট না করে ভারসাম্যপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য তথ্য তুলে ধরতে বলা হয়েছে।
এর আগে গত ৮ অক্টোবর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি কনটেন্টে স্পষ্ট লেবেল লাগানো এবং সরকারি বার্তা অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য সব প্ল্যাটফর্মকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে ১০ অক্টোবরের কড়া চিঠিটি বিশেষভাবে মেটার অ্যালগরিদম ব্যবস্থা লক্ষ্য করে পাঠানো হয়। গত জুনে মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা (নিট-ইউজি) প্রশ্ন ফাঁসের দাবিতে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে চলা আন্দোলনের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ভিডিও ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়া নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে মেটার গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স প্রধান জোয়েল কাপলান স্বয়ংক্রিয় ফিল্টারের ভুল স্বীকার করে দেশটির তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের কাছে ক্ষমা চান।
ডিজিটাল অধিকার রক্ষা সংস্থা ইন্টারনেট ফ্রিডম ফাউন্ডেশন (আইএফএফ) সরকারের এই পদক্ষেপকে পরোক্ষ সেন্সরশিপ বলে সমালোচনা করেছে। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক অপার গুপ্তা বলেন, এই নির্দেশ আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক না হলেও এটি একধরনের সেন্সরশিপ। এটি প্রত্যাহার করা উচিত এবং মেটারও স্পষ্ট করা উচিত তারা কী পরিমাণ কনটেন্ট সরিয়েছে।
তবে সরকার ও দিল্লি পুলিশ এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, জালিয়াতি ও ভুয়া তথ্য প্রতিরোধেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দিল্লিতে অনুমতি ছাড়া ডাকা ১০ অক্টোবরের সমাবেশের আগে সাইবার ক্রাইম ইউনিট প্রায় ২০০টি লিংক অপসারণের নির্দেশ দিয়েছিল। কর্তৃপক্ষের মতে, অ্যালগরিদমের সুবিধা নিয়ে অসন্তোষকে ভুলভাবে উসকে দেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে এর পেছনে ভুয়া অ্যাকাউন্ট এবং পাকিস্তানকেন্দ্রিক কিছু নেটওয়ার্কের জড়িত থাকার প্রমাণও মিলেছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি রক্ষায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
সূত্র: উইয়ন নিউজ
প্রতারকরা কাজে লাগাচ্ছে এআই, নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন যেভাবে
প্রেমিকার টানে সব বিক্রি করে ২ হাজার কিলোমিটার পাড়ি, শেষে জানলেন এআই