প্রায় ১৫ বছর আগে, আমরা তিনজন অন্য একজনের অফিসের এক কোণে বসেছিলাম, স্মৃতিচারণ করে বললেন জো কুঞ্চরিয়া। তিনি বলেন, আমরা যখন যাত্রা শুরু করি, আমাদের নিজেদের কোনও জায়গা পর্যন্ত ছিল না। অথচ আজ সেই ছোট প্রতিষ্ঠানটিই কর্মী বাড়িয়ে ১৫০০-এর বেশি মানুষের কর্মসংস্থান করেছে, ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে নির্মাণ করছে ড্রোন এবং নিউ ইয়র্কের বিখ্যাত ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (আরএফআইডি)-ভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় চেকআউট সিস্টেম পরিচালনা করছে।
ভারতের প্রযুক্তির গল্প বলতেই সাধারণত বেঙ্গালুরু বা পুনের নাম উঠে আসে। তবে এএক্সএল সিস্টেমসের সূচনা হয়েছিল কেরালায়, একদম নিজস্ব কোনও অফিস ছাড়াই। ভারতে কোম্পানিটি এক্সেলড্রোন প্রাইভেট লিমিটেড এবং আন্তর্জাতিকভাবে এএক্সএল সিস্টেমস নামে পরিচিত। তারা প্রধানত দুটি ভিন্ন পণ্য তৈরি করে, একটি হলো ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি দূরপাল্লার নজরদারি ড্রোন এবং অন্যটি আরএফআইডি ভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় চেকআউট সিস্টেম।
প্রযুক্তি হাব বেছে নেওয়ার বদলে প্রতিষ্ঠাতা দল যেখানে একসাথে বসার সুযোগ পেয়েছে, সেখানেই কাজ শুরু করেছে। কুঞ্চরিয়া বলেন, আমরা শুধু জিজ্ঞেস করেছিলাম কোথায় আমরা সবাই একসাথে বসতে পারি। ঘরের কাছের এক টেবিলে শুরু করা সেই ছোট দলটি ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে কোচিতে নিজেদের অফিস স্থাপন করে। ২০১৩ সালে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে শুরু হওয়া কোম্পানিটি ২০১৫ সালে প্রাইভেট লিমিটেড প্রতিষ্ঠানে রূপ নেয়। কেরালায় প্রযুক্তি হাব না থাকায় যাতায়াত সহজ হলেও খুচরা যন্ত্রাংশ পাওয়া ও কর্মী নিয়োগে বেশ বেগ পেতে হয়। তাই প্রতিষ্ঠানটি সেবা খাতের বদলে গবেষণা ও উন্নয়ন নির্ভর ছোট ও দক্ষ দল নিয়ে কাজ পরিচালনা করে।
হার্ডওয়্যার ও ড্রোন তৈরির যাত্রাও ছিল চমৎকার। গ্রাহকদের ইলেকট্রনিক্স সমস্যার সমাধান দিতে গিয়ে তারা নিজস্ব হার্ডওয়্যার তৈরিতে মনোযোগী হয়। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব আরএফআইডি প্রযুক্তি নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে নিউ ইয়র্ক নিক্স দলের ভক্তদের সুবিধার্থে স্বয়ংক্রিয় কেনাকাটার স্টেশনে ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে, সেতু পরিদর্শন কিংবা এলাকা নজরদারির জন্য থ্রিডি পদ্ধতির কথা চিন্তা করে শুরু হয় ড্রোন তৈরির কাজ। চীনা উপাদান এড়াতে গিয়ে কোম্পানিটি নিজেই পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন বোর্ড, জিপিএস মডিউল, ফ্লাইট কন্ট্রোলার, রিমোট কন্ট্রোল এবং ব্যাটারি তৈরি করে ফেলে। এএক্সএলের আরেক নির্বাহী জর্জ কানাত বলেন, এটি আমাদের জন্য একটি ভালো চ্যালেঞ্জ ছিল।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য তৈরি তাদের তৈরি ড্রোনগুলোতে এএক্সএল ও সেনাবাহিনী উভয়ের নামই রয়েছে। এ ছাড়া তাদের আরএফআইডি সিস্টেম প্রতি সেকেন্ডে ৩০০টি পর্যন্ত ট্যাগ পড়তে পারে এবং সরাসরি পয়েন্ট-অব-সেল সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কেনাকাটার গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে কুঞ্চরিয়া বলেন, আগামী প্রায় পাঁচ বছরের মধ্যে আমরা সম্ভবত এই দুটি ক্ষেত্রকে (ড্রোন ও আরএফআইডি) সম্পূর্ণ আলাদা করে ফেলব।
নতুন উদ্যোক্তাদের পরামর্শ দিতে গিয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, আমি কাউকে একই সঙ্গে তিনটি ভিন্ন কাজ করার পরামর্শ দিই না। নিজস্ব প্রযুক্তি তৈরির দীর্ঘ পথ বেছে নেওয়ার কারণেই চার-পাঁচ বছর পর আজ সফলতা পাচ্ছে এএক্সএল।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
প্রথমবার আর্কটিক, অ্যান্টার্কটিকা ও ছিংহাই-তিব্বত মালভূমিকে স্যাটেলাইট ইন্টারনেটে যুক্ত করলো চীন
অ্যালগরিদমচালিত ‘আন্দোলন’ রুখতে তৎপর ভারত, মেটাকে কঠোর বার্তা
প্রতারকরা কাজে লাগাচ্ছে এআই, নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন যেভাবে