সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনও পোস্টের রিচ বাড়ানো এবং নির্দিষ্ট শ্রেণির ব্যবহারকারীদের কাছে কনটেন্ট পৌঁছে দিতে হ্যাশট্যাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে, বেশি হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করলেই পোস্ট বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাবে এমন নয়। কোন হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটি সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম ও পোস্টের বিষয়ের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তার ওপরও এর কার্যকারিতা নির্ভর করে। সঠিকভাবে হ্যাশট্যাগের ব্যবহার প্ল্যাটফর্ম ভেদে কনটেন্টকে অ্যালগোরিদমে এগিয়ে রাখার পাশাপাশি নতুন দর্শকের কাছে পৌঁছাতে সাহায্য করে।
ট্রেন্ডি হ্যাশট্যাগ ব্যবহারের আগে অর্থ জেনে নিন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনও হ্যাশট্যাগের চল শুরু হলেই সেটি পোস্টে ব্যবহার করার আগে এর প্রাসঙ্গিকতা যাচাই করা জরুরি। হ্যাশট্যাগটি কী বোঝায়, কোনও ব্যক্তি বা ঘটনার সঙ্গে এর সংশ্লিষ্টতা আছে কি না কিংবা কোনও সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে এটি সম্পৃক্ত কি না, তা আগে জেনে নেওয়া উচিত। এতে পোস্টের বিষয়বস্তুর সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি পর্যায়ে ভাবমূর্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হ্যাশট্যাগ ব্যবহার এড়ানো সম্ভব।
প্ল্যাটফর্ম অনুযায়ী হ্যাশট্যাগ বাছাই করুন
ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, এক্স, লিংকডইনসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হ্যাশট্যাগ ব্যবহারের ধরন প্ল্যাটফর্ম ভেদে ভিন্ন। কোনও প্ল্যাটফর্মে অল্পসংখ্যক গুরুত্বপূর্ণ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করাই কার্যকর হতে পারে, আবার অন্য প্ল্যাটফর্মে প্রাসঙ্গিক একাধিক হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা যায়। যেমন, ফেসবুকে হ্যাশট্যাগের সংখ্যা নিয়ে নির্দিষ্ট সীমা না থাকলেও সাধারণত কমসংখ্যক ও প্রাসঙ্গিক হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করাই কার্যকর। অন্যদিকে, ইনস্টাগ্রামে পোস্টে সর্বোচ্চ পাঁচটি হ্যাশট্যাগ ব্যবহারের সীমা রয়েছে, তাই বিষয়সংশ্লিষ্ট ও নির্দিষ্ট হ্যাশট্যাগ বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তাই একই তালিকা সব প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার না করে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের ধরন ও হ্যাশট্যাগভিত্তিক গাইডলাইন অনুযায়ী হ্যাশট্যাগ নির্বাচন করা উচিত।
সহজ, ছোট ও নির্দিষ্ট হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করুন
হ্যাশট্যাগ খুব দীর্ঘ বা জটিল হলে ব্যবহারকারীর জন্য মনে রাখা ও খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়। তাই পোস্টের বিষয়, পণ্য বা সেবার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত ছোট ও সহজ শব্দ ব্যবহার করা উচিত। একই সঙ্গে জনপ্রিয় হ্যাশট্যাগের পাশাপাশি নিজস্ব বা নির্দিষ্ট বিষয়ের হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করলে সংশ্লিষ্ট দর্শকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ বাড়ে।
হ্যাশট্যাগ লেখার নিয়ম ঠিক রাখুন
হ্যাশট্যাগের শুরুতে অবশ্যই ‘#’ চিহ্ন থাকতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় যতিচিহ্ন ব্যবহার করা যাবে না। হ্যাশট্যাগ সংক্ষিপ্ত, সহজপাঠ্য এবং পোস্টের বিষয়সংশ্লিষ্ট হওয়া জরুরি। সংখ্যার সঙ্গে অক্ষর ব্যবহার করা গেলেও শুধু সংখ্যা দিয়ে হ্যাশট্যাগ তৈরি না করাই ভালো। পোস্ট করার আগে হ্যাশট্যাগটি কোনও চলতি প্রবণতার সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, সেটিও যাচাই করে নেওয়া উচিত।
নিজস্ব হ্যাশট্যাগ তৈরি করে দর্শকের অংশগ্রহণ বাড়ান
কোনও পণ্য, প্রচারণা বা বিশেষ আয়োজনকে কেন্দ্র করে আলাদা হ্যাশট্যাগ তৈরি করা যেতে পারে। এরপর সংশ্লিষ্ট সব পোস্ট ও প্রচারসামগ্রীতে একই হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা হলে ব্যবহারকারীরা সহজেই সংশ্লিষ্ট পণ্য, প্রচারণা বা আয়োজনসংক্রান্ত পোস্টগুলো খুঁজে পেতে পারেন। একই হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে ব্যবহারকারীদের তৈরি পোস্টও একত্রে প্রদর্শিত হওয়ায় নির্দিষ্ট বিষয়কে ঘিরে দর্শকের অংশগ্রহণ ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়।
চাবি-পাসপোর্ট কোথায় রেখেছেন মনে থাকে না? গুগলের এই সুবিধা জানলে ভুলে যাওয়ার দিন শেষ