X
সোমবার, ০৪ জুলাই ২০২২
২০ আষাঢ় ১৪২৯

দোলা এবার কথা বলেছে হোয়াইট হাউসের ওয়েবিনারে

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২১, ১৬:৫৪

এবারের এইচএসসি পরীক্ষার্থী রেবা আক্তার দোলা। অনেক দিন ধরেই কাজ করছে বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে। যোগাচ্ছে অনুপ্রেরণা। বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে চলমান এক যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে জোরকদমে। দেশে-বিদেশে তাকে নিয়ে হয়েছে অনেক প্রতিবেদন। কদিন আগে হোয়াইট হাউসের ওয়েবিনারে অংশ নিয়ে বক্তব্যও দিয়েছিল দোলা।

 

এ অভিযানের শুরু কীভাবে?

রাজধানীর ফিরোজা বাশার আইডিয়াল কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী রেবা আক্তার দোলা বাংলা ট্রিবিউনকে জানালো, ‘জাতীয় শিশু ফোরামে যখন যুক্ত হই, তখন আমার বয়স ১০। ওই সময় একদিন মায়ের কাছ থেকে তার কৈশোরের মজার স্মৃতি জানতে চেয়েছিলাম। মা বললেন, একটা মেয়ের যখন তেরো বছর বয়সে বিয়ে হয়ে যায় এবং বিয়ের পর একগাদা দায়িত্ব নিতে হয়, তখন তার কৈশোরের মজার স্মৃতি থাকে না। সেদিনই ধাক্কা লাগে মনে। বুঝতে পারি বাল্যবিয়ে কতটা ভয়ানক হতে পারে। মায়ের কথা শোনার পর মনে হলো আমার ক্ষেত্রেও যদি এমনটা ঘটে! তবে তো জীবনের সেরা স্মৃতি বলে কিছু থাকবে না। আমার মা বাল্যবিবাহের শিকার, তাই তিনিও কোনওদিন চাননি আমার শৈশব নষ্ট হোক। আর ওই দিন থেকেই ঠিক করি, একটা কিছু করতে হবে। তখনই যুক্ত হই জাতীয় শিশু ফোরামে।’

দোলা আরও জানালো, ‘আন্তর্জাতিক মানবিক সাহায্য সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশনের সঙ্গে থেকে শিশু ফোরামের পক্ষ হতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিয়ে বাল্যবিয়ের কুফল ও সচেতনতা করার পদ্ধতি নিয়ে অনেক কিছু শিখি।’

এ নিয়ে বিশেষ কোনও ঘটনা আছে কিনা জানতে চাইলে দোলা বলে, ‘একদিন খবর পাই রাজধানীর এক এলাকায় অপ্রাপ্তবয়স্ক এক মেয়ের মতের বিরুদ্ধে বিয়ে হচ্ছে। আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। নজর পড়ে বাচ্চা মেয়েটার অসহায় মুখে। তাকে দেখেই বোঝা যাচ্ছিল সে কতটা বিপদে আছে। আমরা সবার আগে মেয়েটির অভিভাবককে বোঝাই। ওই মুহূর্তে দ্বিধায় ছিলাম এ কাজে সফল হবো কি না। তবে হয়েছিলাম। মেয়ের মাকে সিদ্ধান্ত থেকে সরিয়ে আনি। বাবা-মা দুজনই আমাদের কথা দিলেন, মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেবেন না। ওই মেয়ের সঙ্গে আমার এখনও যোগাযোগ আছে। আমাদের কাজের ধরনটা এমনই। প্রথমে শিশু ফোরামের সেন্ট্রাল মেম্বাররা মিলে অভিভাবককে বোঝানোর চেষ্টা করি। তাতে কাজ না হলে স্থানীয় প্রতিনিধি ও পুলিশ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বিয়ে আটকানোর ব্যবস্থা করি।’

এসব কাজে দোলা পরিবারের পক্ষ থেকে কতখানি সমর্থন পেয়েছে জানতে চাইলে বলে, ‘প্রথমে নিরাপত্তার কথা ভেবে বড়রা মানতে চাননি। মাকে বোঝাতে শুরু করি। তাকে ওয়ার্ল্ড ভিশনের কিছু প্রোগ্রামে নিয়ে গেলাম। তখন তিনি বুঝতে পারেন। এখন আমি আনন্দের সঙ্গেই বলি যে আমাকে নিয়ে মা কিন্তু খুব গর্ব করেন।’

জানা গেছে, ২০১৮-২০১৯ এ দুই বছরের মধ্যে জাতীয় শিশু ফোরামের পক্ষ হতে ৬০০ বাল্যবিবাহ রোধ করা হয়েছে। সারাদেশের ৫৪টি উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার শিশু কাজ করছে বাল্যবিবাহ রোধে। এক লাখ ৩০ হাজার শিশুর প্রতিনিধিত্ব করছেন সেন্ট্রাল কমিটির ১৫ জন সদস্য। আর তাদের মহাসচিবই হলো রেবা আক্তার দোলা। 

 

হোয়াইট হাউসের ওয়েবিনার

সম্প্রতি লিঙ্গ সমতাকে ‘জেন্ডার পলিসি কাউন্সিল’ চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। লিঙ্গ সমতা বিকাশে ধারাবাহিকভাবে এ সংক্রান্ত কনফারেন্স আয়োজন করে আসছে হোয়াইট হাউস প্রতিনিধিরা।

হোয়াইট হাউসের ওয়েবিনারে দোলা

গত ১০ আগস্ট সেই মিটিংয়ে দোলাকে আমন্ত্রণ জানানো হয় একজন বক্তা হিসেবে। বিশ্বের ১৯৩টি দেশের মধ্যে নির্বাচিত ১০ কিশোরী-নেতাকে নিয়ে হোয়াইট হাউসের ওই ওয়েবিনারে যোগ দিয়েছিল দোলা। ওই মিটিংয়ে দোলা বলেছে ‘যৌন হয়রানি দূর করতে শৈশব থেকে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং বাল্যবিয়ে বন্ধের উপায় ও এর ক্ষতি সম্পর্কে সবাই বিস্তারিত জানাতে সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নিতে হবে। এ ছাড়া এ বিষয়ে সরাসরি পরামর্শ পেতে সরকারি ব্যক্তিদের সঙ্গে নির্দিষ্ট একটা সময়ে আলোচনা করার ব্যবস্থাও রাখা উচিৎ বলে সে জানায়।’

দোলা বললো, ‘তারা (হোয়াইট হাউস কর্মকর্তারা) আমাদের কাজের প্রশংসা করলেন। আমার প্রস্তাবগুলোও গুরুত্ব দিয়ে শুনেছেন। ওই মুহূর্তটা যে কতটা গর্বের তা প্রকাশ করা সম্ভব নয়।’

 

দোলার যত ব্যস্ততা

বাল্যবিয়ে বন্ধের পাশাপাশি জাতীয় শিশু ফোরামের সদস্যরা কিছু মানুষের মুখে হাসি ফোটানোরও দায়িত্ব নিয়েছিল। দোলা জানালো ‘প্রথম ও দ্বিতীয় দফার লকডাউনের শেষের দিকে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অবস্থা যখন শোচনীয়, তখন ঈদের আগমুহূতে ফোরামের সদস্যরা কিছু তহবিল সগ্রহ করে রাজধানীর হাজারীবাগের ৩৫টি পরিবারের কাছে পৌঁছে দিয়েছিল ঈদ উপহার।

চার বছর পর পর ইউএন গ্লোবাল এডুকেশন সামিট হয়। এ বছরের ২৯ জুলাই সেই কনফারেন্সে দোলাও বিশ্বের সকল মেয়েদের অবস্থা তুলে ধরেছিল।

২০১৯ সালেও সুইজারল্যান্ডে বক্তব্য দিয়েছিল দোলা। জেনেভা সফর সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে সে জানায়, দেশের কিশোরীদের সার্বিক চিত্র তুলে ধরতে ওয়ার্ল্ড ভিশনের পক্ষ হতে আমাকে নির্বাচিত করা হয়েছিল। সেখানে গিয়ে যথাসম্ভব বাল্যবিয়ের ক্ষেত্রে দেশের অবস্থা তুলে ধরেছি।

উল্লেখ্য, গার্লস নট ব্রাইডস সংস্থাটি বলেছে, জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) এর তথ্য অনুসারে বাংলাদেশে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক শিশুবধূ রয়েছে। যার সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৪৪ লাখ!

মহামারি পরিস্থিতি এ সংখ্যা আরও বেড়েছে জানিয়ে জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) অনুমান করছে, ২০৩০ সালের মধ্যে আরও প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ কিশোরী বাল্যবিয়ের শিকার হবে।

দোলার পরিকল্পনা হচ্ছে তাদের কাজ ও বার্তা বাংলাদেশের সকল জেলায় ছড়িয়ে দেওয়া। পাশাপাশি পাঁচ বছরের মধ্যেই দেশের কোনও একটি জেলাকে বাল্যবিয়েমুক্ত ঘোষণা করা। আপাতত এ লক্ষ্যেই কাজ করে যাবে তার টিম।

/এফএ/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
‘সিম আছে, তবে চালু হবে না’
‘সিম আছে, তবে চালু হবে না’
হ্যাকিংয়ের কবলে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর ইউটিউব ও টুইটার অ্যাকাউন্ট
হ্যাকিংয়ের কবলে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর ইউটিউব ও টুইটার অ্যাকাউন্ট
রাজশাহীতে ছুরিকাঘাতে কিশোর নিহত
রাজশাহীতে ছুরিকাঘাতে কিশোর নিহত
ইতালিতে হিমবাহে ধস, নিহত ৫
ইতালিতে হিমবাহে ধস, নিহত ৫
এ বিভাগের সর্বশেষ
বন্যার্তদের জন্য কনসার্ট
বন্যার্তদের জন্য কনসার্ট
ব্যাংককে অ্যাওয়ার্ড পেলেন সীমা হামিদ
ব্যাংককে অ্যাওয়ার্ড পেলেন সীমা হামিদ
বন্যার্তদের সহায়তায় চলচ্চিত্র প্রদর্শনী
বন্যার্তদের সহায়তায় চলচ্চিত্র প্রদর্শনী
এসডিজি ইয়ুথ সামিটের নিবন্ধন শুরু
এসডিজি ইয়ুথ সামিটের নিবন্ধন শুরু
যেখানে বিনামূল্যে ইফতার করেন হাজার মানুষ
যেখানে বিনামূল্যে ইফতার করেন হাজার মানুষ