প্রাণিদের বন্ধু এমিল ও তার ‘প’

হাসনাত নাঈম
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৫:৪৫আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৫:৫৭

 

এমিল

আমাদের আশেপাশে কুকুর, বিড়াল, পাখিসহ অনেক প্রাণি দেখা যায়, মানুষের কাছে এদের চাহিদাও রয়েছে। অনেকে নিজ সন্তানের মতো প্রাণি লালন-পালন করেন। এক এক জনের পছন্দ ভিন্ন, তাই প্রাণির চাহিদাও আলাদা। শখের বসে অনেকে বাজার থেকে কিনে ঘরে তুলে নেন নিজের পছন্দমত প্রাণিকে। তবে কজন বাড়ির আশেপাশে অবহেলায় অনাদরে পরে থাকা প্রাণিকে কোলে তুলে নেন?  অনেকে হয়তো দেখা সত্ত্বেও পাশ কাটিয়ে গিয়েছেন, অথবা কখনও লাঠি হাতে তাড়া করেছেন। যদি অবহেলিত সেই প্রাণিকে তাড়িয়ে না দিয়ে আদর করে কাছে ডেকে নেওয়া যেত, তবে খুব কি খারাপ হতো? তারাও তো আমাদের পরিবেশের একটি অংশ।

পরিবেশের এই অংশকে সযতনে লালনের লক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন এক তরুণ। এই ঢাকা শহরের অবহেলিত, নির্যতিত ও আহত প্রাণিদের নিয়ে কাজ করেন রাকিবুল হক এমিল। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থাপত্যকলায় স্নাতক এমিল নিজের আর্কিটেকচার ফার্মের পাশাপাশি কাজ করছেন প্রাণিদের নিয়ে। শুধু সেবাদান নয় এনিমেল হসপিটিলিটির উপর বাংলাদেশে প্রথম থিসিস করেছেন তিনি।

এমিলের প্রাণিপ্রীতির গল্পটা বেশ পুরানো। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুর দিকের কথা। সেসময় একটি আহত কুকুর রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে মায়া হয় তার। পরবর্তীকালে তিনি কুকুরটিকে তুলে বাসায় নিয়ে যান। সেই থেকে শুরু। পরে তিনি অনেক আহত কুকুর আশ্রয় দেন। কিন্তু চিকিৎসা জানা না থাকার কারণে জীবিত রাখতে পারেননি। পরে অবশ্য শ্যামলী পশু হাসপাতাল থেকে তিনি নিজে নিজে অনেক কিছু শিখে নেন।

এমিল নিজেই বলেন, প্রাণির প্রতি স্বাভাবিক ভালোবাসা থেকেই তিনি গড়ে তুলেছেন ‘পিপল ফর এনিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন’ (প ফাউন্ডেশন)। নিজের মতো করে কুকুর, বিড়াল, পাখি উদ্ধার করতে গিয়ে পাশে পেয়েছেন কয়েকজন সমমনা মানুষকে। বিছিন্নভাবে তিন বছর কাজ করতে করতে পরিকল্পিতভাবে কিছু করার চিন্তা মাথায় ভর করে।

ক্ষুধার্ত বানরকে খাবার দিচ্ছেন এমিল

স্ত্রী ডাঃ তারানা হোসেন ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাবিতা আরেফিনকে সাথে নিয়ে ২০১৫ সালের মার্চে নেমে পড়েন আসহায় প্রাণিদের জন্য কিছু করতে। একটি খালি জায়গা ভাড়া করে নির্মান করেন রেস্কিউ প্রতিষ্ঠান। পেশায় স্থাপতি হওয়ায় নকশার কাজটা নিজেই করেন। প্রাথমিকভাবে সেখানে ১০টি বেওয়ারিশ কুকুরের চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করেন। বর্তমানে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সরকারি রেজিষ্টেশনকৃত এনিমেল ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন।

প্রথমে নিজ অর্থায়নে ‘প ওয়েলফেয়ার’ পরিচালনা করলেও বর্তমানে ফেসবুকের কল্যাণে অনেক প্রাণি প্রেমীরা আর্থিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। কোনও প্রকার বিদেশি ও সরকারি অনুদান ছাড়াই ‘প ওয়েলফেয়ার’ এগিয়ে চলেছে নির্দিষ্ট গতিতে।

শুধুমাত্র কুকুর-বিড়াল নয়, মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকা সকল প্রাণিকূলের অবস্থার উন্নয়নের উদ্দেশ্যে কাজ করছে ‘প ওয়েলফেয়ার’। ফাউন্ডেশনটি প্রাণিকল্যাণের সকল কাজকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। এমিল মনে করেন, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি না হলে, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব না।

সংগঠনের কয়েকটি লক্ষ্যও ঠিক করে নিয়েছেন তিনি। চেষ্টা করছেন যাতে প্রাণি কল্যাণ বিষয়ে সচেতনতা ও গবেষণার সুযোগ পায় সাধারণ মানুষ। প্রাণি কল্যাণে আগ্রহীদের সঙ্গে নিয়িমিত মিথস্ক্রিয়ার সুযোগও থাকছে এখানে। থাকবে স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। সর্বোপরি, সকল ক্ষেত্রে নির্যাতিত প্রাণিদের নিয়ে কাজ করবে, এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এগিয়ে যাচ্ছে ‘পিপল ফর এনিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন’ তথা প ফাউন্ডেশন, সঙ্গে থাকছেন এমিল। চোখ ভরা তার প্রাণি রক্ষার স্বপ্ন।

প-এর প্রাণি আশ্রয়কেন্দ্র

/এফএএন/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মাজার ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের সুযোগ দেবো না: মন্ত্রী
মাজার ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের সুযোগ দেবো না: মন্ত্রী
বিশ্ব মোটরসাইকেল দিবসে রাজধানীতে ইয়ামাহা রাইডার্স ক্লাবের র‌্যালি
বিশ্ব মোটরসাইকেল দিবসে রাজধানীতে ইয়ামাহা রাইডার্স ক্লাবের র‌্যালি
কর আপিলেট ট্রাইব্যুনালে ঝুলে থাকা মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ
কর আপিলেট ট্রাইব্যুনালে ঝুলে থাকা মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ
২৫ শীর্ষ নেতাকে বিদায় জানিয়ে নতুন কমিটি করলো জাতীয় পার্টি
যশোর জেলা জাতীয় পার্টি২৫ শীর্ষ নেতাকে বিদায় জানিয়ে নতুন কমিটি করলো জাতীয় পার্টি
সর্বাধিক পঠিত
স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা পোশাক কারখানা, একসঙ্গে বেকার ১৮০০ শ্রমিক
স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা পোশাক কারখানা, একসঙ্গে বেকার ১৮০০ শ্রমিক
মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা
মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা
মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন বিষয়ে সতর্ক করলো বিআরটিএ
মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন বিষয়ে সতর্ক করলো বিআরটিএ
‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন’ জানেন না অনেকেই, সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ
‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন’ জানেন না অনেকেই, সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ
১৩ বছর পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরলেন ওয়াহিদুজ্জামান
১৩ বছর পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরলেন ওয়াহিদুজ্জামান