বাংলা ট্রিবিউনকে কর্মসংস্থান ব্যাংকের এমডি অকৃষি খাতে ঋণ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে

Send
শফিকুল ইসলাম
প্রকাশিত : ০০:৩৭, জুলাই ১৪, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:৫৬, জুলাই ১৪, ২০১৬


কর্মসংস্থান ব্যাংকের এমপি ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদদেশে শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত, দক্ষ ও অদক্ষ মিলিয়ে বেকারের সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ বলে জানিয়েছেন কর্মসংস্থান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ। তিনি বলেন, এই বিপুল সংখ্যক বেকারের মধ্যে প্রতিবছর মাত্র ৪০ হাজার বেকারের কর্মসংস্থান করার সক্ষমতা রয়েছে বাংলাদেশ কর্মসংস্থান ব্যাংকের। ছোট ব্যাংক, পেইড আপ ক্যাপিটালের পরিমাণ খুবই কম। তাই ইচ্ছা ও পরিকল্পনা থাকলেও অধিক সংখ্যক বেকারকে সহায়তা বা পুনর্বাসন করা যাচ্ছে না। এর জন্য মূলধনের পরিমাণ বাড়ানো প্রয়োজন। ব্যাংক পরিচালনার ক্ষেত্রে এটি একটি অতৃপ্তির বিষয়। কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে বেকার যুবকদের কৃষি সংশ্লিষ্ট কিছু সীমিত খাতে ঋণ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে খাত বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে অকৃষি খাতে ঋণ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে। মঙ্গলবার (১২ জুলাই) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে নিজ দফতরে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে একান্তে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ জানান, কর্মসংস্থান ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত দেশের প্রায় ১৪ লাখ বেকারকে ঋণ দিয়ে পুনর্বাসন করতে পেরেছে। যে ঋণের ৯৪ শতাংশেরও বেশি আদায় করা সম্ভব হয়েছে। পরিকল্পনামাফিক বেকারদের পুনর্বাসন করার জন্য কমপক্ষে আড়াই হাজার কোটি টাকার মূলধন প্রয়োজন। তিনি বলেন, ব্যাংকের অথরাইজড ক্যাপিটালের পরিমাণ ৭০০ কোটি টাকা এবং পেইড আপ ক্যাপিটালের পরিমাণ ৫২০ কোটি টাকা। এর ৭৫ শতাংশ সরকার এবং বাকি ২৫ শতাংশ সরকারি অন্যান্য ব্যাংক থেকে পাওয়া। তিনি জানান, কর্মসংস্থান ব্যাংকের ঋণের স্থিতির পরিমাণ ৭শ কোটি টাকা। শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ ৫৯ কোটি টাকা, যার হার ৯ শতাংশ। শ্রেণিকৃত ঋণের ৫৯ কোটি টাকার মধ্যে এ বছর আদায় করা হয়েছে ৯ কোটি টাকা।
জানতে চাইলে মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ বলেন,  অকৃষি খাতে ঋণ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে। এর জন্য দেশের প্রতিটি উপজেলায় অন্তত একটি করে কর্মসংস্থান ব্যাংকের শাখা খোলা প্রয়োজন। না হলে দেশের শতভাগ বেকার জনগোষ্ঠীকে সেবা দেওয়া কঠিন হবে। যে উদ্দেশ্যে এই ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, সরকারের সেই উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। তিনি বলেন, পৃথিবীতে এ ধরনের ব্যাংক প্রতিষ্ঠা বিরল ঘটনা।

কর্মসংস্থান ব্যাংকের এমডি বলেন, বর্তমানে দেশের ৬৪টি জেলায় ব্যাংকের শাখা থাকলেও প্রতিটি উপজেলায় শাখা খোলা সম্ভব হয়নি। এই মুহূর্তে দেশের ১৬৮টি উপজেলাসহ মোট শাখার পরিমাণ ২৩২টি।

বর্তমানে কর্মসংস্থান ব্যাংকের মোট জনবলের সংখ্যা ১ হাজার ৩০৭ জন দাঁড়িয়েছে জানিয়েছে তিনি  বলেন, যদিও প্রতিবছর সরাসরি ৪০ হাজার বেকার জনগোষ্ঠীকে কাজ দিতে পারছি। কিন্তু এর মাধ্যমে উপকারভোগী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কিন্তু কমপক্ষে এর তিনগুণ। সর্বোচ্চ ৫ গুণ। ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, একজন ঋণগ্রহিতা তার প্রকল্প পরিচালনা করতে কমপক্ষে ২ থেকে ৫জন লোক নিয়োগ দেন। বেতন দিয়ে তাদের কাছ থেকে সার্ভিস নেন। সেই বিবচনায় কর্মসংস্থান ব্যাংক প্রতিবছর দেড় লাখ থেকে ২ লাখ লোকের কর্মসংস্থান করছে। এটি একটি সম্ভবানার দিক বলে জানান তিনি।

ব্যাংকের নিজস্ব ভবন সম্পর্কে কর্মসংস্থান ব্যাংকের এমডি  ইতোমধ্যেই ট্রাস্ট অবলুপ্ত করা হয়েছে। রাজধানীর মতিঝিল ও পল্টন মোড়ের মধ্যখানে দৈনিক বাংলা মোড় নামে খ্যাত স্থানে সাবেক দৈনিক বাংলা পত্রিকার ভবনসহ বিদ্যমান জায়গা কর্মসংসংস্থান ব্যাংকের নামে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখানে গড়ে তোলা হবে কর্মসংস্থান ব্যাংকের বহুতল ভবন। এ ভবন নির্মাণের জন্য ২৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর নকশা ও ড্রয়িং সম্পন্ন হয়েছে। অবিলম্বেই এই ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে এমডি বলেন, বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ শেষ হলে ভবনের সব ফ্লোর হয়তো ব্যাংক পরিচালনায় প্রয়োজন হবে না। ভবনের অনেক ফ্লোরই ভাড়া দেওয়া যাবে। যে ভাড়া পাওয়া যাবে, তা দিয়েও এই ব্যাংকের অনেক কর্মসূচি পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।  

আরও পড়তে পারেন: সার আমদানি: নৌবন্দরে রিসিভার্স ও পরিবহন এজেন্ট নিয়োগে ব্যয় ২৯১ কোটি

/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ