
হবিগঞ্জের সরকারি অফিসগুলোতে কর্মকর্তাদের গাফলতির কারণে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) প্রায় দুই কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল আটকে রয়েছে। এসব বিদ্যুৎ বিল আদায়ে বার বার তাগিদ দেওয়া হলেও কোনওভাবেই বিল আদায় করতে পারছে না পিডিবি কর্তৃপক্ষ। তবে সরকারি অফিসগুলোর দাবি বরাদ্দ না পাওয়া এবং পিডিবির ‘ভূতুড়ে বিল’-এর কারণেই বিল পরিশোধ করা হচ্ছে না।
হবিগঞ্জ পিডিবি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত মার্চ মাস পর্যন্ত হবিগঞ্জ শহরের সরকারি অফিসগুলোতে প্রায় দুই কোটি টাকা বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আটকে আছে। এ বিষয়ে বার বার চিঠি দেওয়ার পরও সরকারি অফিসগুলো বিল পরিশোধ করছে না।
বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের মধ্যে হবিগঞ্জ পৌরসভায় আটকে আছে ৬৩ লাখ টাকা, বৃন্দাবন সরকারি কলেজে ১৪ লাখ ৮৬ হাজার টাকা, সদর উপজেলা পরিষদে ৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা, হবিগঞ্জ সড়ক ও জনপদ বিভাগে ২ লাখ ৭৪ হাজার টাকা, জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাছে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, রিচি ইউনিয়ন পরিষদে ৩ লাখ ২২ হাজার টাকা, জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ৭ লাখ টাকা, হবিগঞ্জ শিশু ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা, হবিগঞ্জ কোর্ট মসজিদ মার্কেটে ৫ লাখ ৫৬ হাজার টাকা, গণপূর্ত বিভাগে ১ লাখ ৬২ হাজার, নার্স ইউনিস্টিটিউটে সাড়ে ৩ লাখ টাকার বিল আটকে আছে। ইতোমধ্যে বিল পরিশোধ না করায় সরকারি-বেসরকারি গ্রাহকদের বিরুদ্ধে ৬৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বৈষম্যমূলক নীতিমালা ও হয়রানি থেকে মুক্তি চান সুপারমার্কেট মালিকরা
সবচেয়ে বেশি বকেয়া বিল থাকা প্রতিষ্ঠান পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র দিলীপ দাস জানান, ৬৩ লাখ টাকার বকেয়া বিল হতেই পারে না। পিডিবির কর্মকর্তাদের সঙ্গে শিগগিরই বৈঠক করা হবে।
বৃন্দাবন সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর বদরুজ্জামান জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ বিল আটকে থাকার ফলে টাকার পরিমান বেশি হয়ে গেছে। আমরা পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করার চেষ্টা করছি।
রিচি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিয়া মোহাম্মদ ইলিয়াস জানান, আমি নির্বাচিত হওয়ার আগেই বকেয়া বিল ছিল। যে কারণে আমি নির্বাচিত হওয়ার পর সেই বিলগুলো আর পরিশোধ করা হয়নি।
হবিগঞ্জ শিশু পরিবারের উপ-তত্ত্বাবধায়ক এ কে এম সাইফুল ইসলাম জানান, বরাদ্দ না থাকায় বকেয়া বিল পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। বরাদ্দ পেলে বিল পরিশোধ করা হবে। একই কথা বলেছেন হবিগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাহমুদুল হক।
আরও পড়ুন: রংপুরে পাওনা টাকা আদায়ে মামলা করায় ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম
হবিগঞ্জ পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলি রুস্তম আলী হাওলাদার জানান, বিল পরিশোধের ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানগুলোকে বারবার তাগিদ দেওয়ার পর অফিসগুলো কোনও কর্ণপাত করেনি। বিষয়টি বিদ্যুতের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
/এমও/টিএন/








