মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলায় আরও দুইজনের সাক্ষ্যগ্রহণ

Send
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৭:০০, জুন ২০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:১৪, জুন ২০, ২০১৯

আদালতে ফারুক হত্যা মামলার প্রধান আসামি (ছবি- প্রতিনিধি)

টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদ হত্যা মামলায় আরও দুইজনের সাক্ষ্য নিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২০ জুন) দুপুরে এ মামলার অন্যতম আসামি টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আমানুর রহমান খান রানার উপস্থিতিতে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক রাশেদ কবির এ সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। পরে বিচারক আগামী ৪ জুলাই এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন। এর আগে বুধবার (১৯ জুন) কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সাবেক এমপি রানাকে টাঙ্গাইল কারাগারে আনা হয়।

আদালত পুলিশের পরিদর্শক তানভীর আহাম্মেদ বলেন, ‘আজ (বৃহস্পতিবার) অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ফারুক হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। এদিন চিকিৎসকসহ দুইজনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে এ মামলায় মোট ১৬ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, টাঙ্গাইল যুবলীগের দুই নেতা হত্যা মামলায় সাবেক এমপি রানাকে স্থায়ী জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। রানার জামিনের বিষয়ে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে বুধবার (১৯ জুন) বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। আদালতে রানার জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. বশির উল্লাহ।

অপরদিকে, ওই মামলায় সাবেক এমপি রানাকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি। হাইকোর্টের জামিনাদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনে বৃহস্পতিবার (২০ জুন) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান ওই আদেশ দেন। এদিন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. বশির উল্লাহ। রানার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী।

মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদ হত্যা

২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তার কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার তিনদিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। প্রথমে মামলাটি টাঙ্গাইল মডেল থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরবর্তী সময়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ এ মামলা তদন্ত করে এবং ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি এমপি রানা ও তার তিন ভাইসহ মোট ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। দীর্ঘ ২২ মাস পলাতক থাকার পর এমপি রানা গত ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর এই আদালতেই আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

দুই যুবলীগ নেতা হত্যা

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা শামীম ও মামুন ২০১২ সালের ১৬ জুলাই বাড়ি থেকে টাঙ্গাইল শহরে এসে নিখোঁজ হন। ঘটনার পরদিন শামীমের মা আছিয়া খাতুন এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। একবছর পর ২০১৩ সালের ৯ জুলাই নিখোঁজ মামুনের বাবা টাঙ্গাইল আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে তদন্ত করে পুলিশ ওই বছর ২১ সেপ্টেম্বর মামলাটি তালিকাভুক্ত করে। এই মামলায় গ্রেফতার হওয়া খন্দকার জাহিদ, শাহাদত হোসেন এবং হিরন মিয়া আদালতে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তারা বলেন, এমপি রানার নির্দেশে যুবলীগ নেতা শামীম ও মামুনকে হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।

 

/এমএ/

লাইভ

টপ