রাবিতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি

Send
রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২০:০৪, জুলাই ২১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:১৩, জুলাই ২১, ২০১৯

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)-এর শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক বিষ্ণু কুমার অধিকারীর বিরুদ্ধে দুই ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি।

রবিবার (২১ জুলাই) বিকালে বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও তদন্ত কমিটির প্রধান অধ্যাপক আবুল হাসান চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘আমরা অভিযোগকারী দুই শিক্ষার্থী ও অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে কয়েকদফা কথা বলেছি। বিভাগের সব শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সঙ্গে বিষ্ণু কুমার অধিকারীর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আগামীকালের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠাবো। তারা পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে তাকে সব একাডেমিক কার্যক্রম থেকে সাময়িক অব্যাহতির নির্দেশ বলবৎ থাকবে।’

এদিকে তদন্ত কমিটির সদস্য ও তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযুক্ত শিক্ষক বিষ্ণু কুমার অধিকারী।

তিনি বলেন, ‘শুরু থেকে আমি বলেছি, যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হয়। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে, তদন্ত কমিটি প্রথম থেকে অসহযোগিতা করেছে। তিন বার ডেকে নিয়ে প্রথম দুই বার জবানবন্দি নিলেও কোনও কারণ ছাড়াই তা রেকর্ড করেনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরিচালক ছাড়া কমিটির অন্য দুই সদস্যের নাম বাদীর অভিযোগপত্রে উল্লেখ ছিল। তা হলে তাদের তদন্ত কমিটিতে কীভাবে রাখে, সে প্রশ্ন থেকেই যায়।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইনস্টিটিউট পরিচালক আবুল হাসান বলেন, ‘আমরা তিনবার তার জবানবন্দি নিয়েছি। প্রথম দুই বার তিনি জবানবন্দির লিখিত কপিতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান।’

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ২৫ জুন ইনস্টিটিউটের চতুর্থ বর্ষের এক ছাত্রী এবং ২৭ জুন দ্বিতীয় বর্ষের আরেক ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ ইনস্টিটিউটে বিষ্ণু কুমার অধিকারীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির লিখিত অভিযোগ করেন। ২৫ জুন সন্ধ্যায় ইনস্টিটিউটের পরিচালক আবুল হাসানকে আহ্বায়ক করে এবং অধ্যাপক আকতার বানু ও অধ্যাপক রুবাইয়াত জাহানকে সদস্য করে ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

এরপর, অভিযোগকারী দুই শিক্ষার্থীকে অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য শিক্ষক চাপ দিচ্ছেন উল্লেখ করে ২৮ জুন নগরীর মতিহার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।

এরপর ৩ জুলাই ইনস্টিটিউটের স্নাতক পর্যায়ের চারটি বর্ষের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে অব্যাহতি দেয় ইনস্টিটিউটের একাডেমিক কমিটি।

 

 

/এএইচ/

লাইভ

টপ