behind the news
Rehab ad on bangla tribune
 
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

তানোর পৌর মেয়রের সাক্ষাৎকার‘৮০ ভাগ পারবো, শতভাগ নয়’

দুলাল আব্দুল্লাহ, রাজশাহী১৩:২৮, মার্চ ১২, ২০১৬

তানোর পৌর মেয়র মিজানুর রহমান মিজানরাজশাহীর তানোরে মাত্র ১৩ ভোটের ব্যবধানে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী ও উপজেলা যুবদলের সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান। কিন্তু মেয়র হিসেবে শপথ নিতে যাওয়ার পথে গত ২০ জানুয়ারি তাকে গ্রেফতার করে রাজশাহীর বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ। এরপর গত ৩১ জানুয়ারি সকাল ১০টায় প্যারোলে মুক্তি পেয়ে হাইকোর্টের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তানোর পৌরমেয়র হিসেবে শপথ নেন তিনি। অবশেষে জামিনে মুক্ত হয়ে ২৩ ফেব্রুয়ারি তানোর পৌরসভার দায়িত্ব নেন নবনির্বাচিত এই মেয়র।
আট হাজার ৮৫৬ ভোট পেয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন মিজানুর রহমান। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইমরুল হক নৌকা প্রতীকে ভোট পেয়েছেন আট হাজার ৮৪৩। সম্প্রতি একান্ত সাক্ষাৎকারে বাংলা ট্রিবিউনের মুখোমুখি হয়েছেন এই মেয়র।

বাংলা ট্রিবিউন: সবার শপথ নেওয়ার দিনে আপনাকে জেলে যেতে হয়েছে। আগামীতে মামলা বা কোনও হয়রানির আশঙ্কা করছেন কি?

মিজানুর রহমান মিজান: এখন বিএনপি করাটা বিপদ হয়ে গেছে। কষ্ট করে নির্বাচন করেছি, জনগণের ভালোবাসা ও ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। অথচ শপথের দিন ভিত্তিহীন মামলায় আমাকে কারাগারে যেতে হয়েছে। যেদিন ঘটনা ঘটেছিল সেদিন আমি দেশের বাইরে ছিলাম। অথচ আমাকে হয়রানি করা হয়েছে। প্রতিদিনই আমাকে বিভিন্ন হুমকির ভেতর থাকতে হচ্ছে। যেকোনও মুহূর্তে কারাগারে আবার প্রবেশ করতে হতে পারে। এরপরও মানুষকে পাশে নিয়ে নিজের মতো করে কাজ করতে হবে।

বাংলা ট্রিবিউন: সরকারের কাছ থেকে কেমন সহযোগিতা আশা করেন?

মিজানুর রহমান মিজান: আমি এই পৌরসভার নতুন মেয়র। আগের মেয়রের কাজগুলো ধারাবাহিকভাবে করে যেতে চাই। অন্য পৌরসভায় সরকার বাজেট পাঠালে আমার পৌরসভাতেও পাঠাবে। প্রকল্প নির্ধারিত করে পৌর উন্নয়নের কাজ করার চেষ্টা করব। আমার একার পক্ষে সম্ভব নয়, কারণ ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। এমপি সাহেব (সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী) সরকারদলীয় ব্যক্তি। তানোর তো ওনারও এলাকা। উনিও উন্নয়নের জন্য চেষ্টা করবেন। ওনার সহযোগিতা প্রয়োজন। তানোরের উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা আমি যেমন উপলব্ধি করি, উনিও করেন। তাকে তো আবার ভোটে দাঁড়াতে হবে। পৌরসভার ভোটও তার নির্বাচনি এলাকার বাইরে নয়। আশা করছি, সময় এলে সহযোগিতা করতে তিনি আসবেন।তানোর পৌর মেয়র মিজানুর রহমান মিজান

বাংলা ট্রিবিউন: গোদাগাড়ী ও তানোর পৌরসভার একসঙ্গে যাত্রা শুরু করে। কিন্তু এখনও তানোর ‘গ শ্রেণির’ পৌরসভার মর্যাদা নিয়ে চলছে। এ নিয়ে আপনার মন্তব্য জানতে চাই।

মিজানুর রহমান মিজান: পৌরসভার রাজস্ব তেমন নেই। প্রতিবেশী মুণ্ডুমালা পৌরসভা পরে হয়েও খ শ্রেণির হয়ে গেছে। ক শ্রেণির অপেক্ষায় রয়েছে তারা। আর আমরা এখনও গ শ্রেণি নিয়ে পড়ে আছি। এটা লজ্জার। আগের মেয়র রাজস্ব বাড়িয়ে গেছেন। আশা করছি আগামী এক বছরের মধ্যে খ শ্রেণিতে উন্নীত করতে পারব তানোর পৌরসভাকে।

বাংলা ট্রিবিউন: যেকোনও অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য আপনার পৌরসভায় আইন ও সালিশ কেন্দ্রের জন্য কক্ষ আছে। কিন্তু আগের মেয়াদে এগুলো ব্যবহৃত হয়নি।

মিজানুর রহমান মিজান: আইন ও সালিশ কেন্দ্র আগামী বৈঠকে চালু করবো। এই ঘরটা যে উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছে যথাযথভাবে তা পালিত হবে।

বাংলা ট্রিবিউন: ৯টি ওয়ার্ডে বিদ্যুৎ ও পানি নিষ্কাশনসহ বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। সমাধানে কী কী পদক্ষেপ নেবেন?

মিজানুর রহমান মিজান: আমাদের এখানে মূল সমস্যা পানি। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে পানি সরবরাহের জন্য আবেদন করব। সংশ্লিষ্টদের সহায়তা পেলে প্রত্যেক ওয়ার্ডে সড়কে বাতির ব্যবস্থা করব।

বাংলা ট্রিবিউন: তানোর পৌরসভায় সুবিধাবঞ্চিত অনেক আদিবাসীর বসবাস। তাদেরকে ঘিরে আলাদা কোনও পরিকল্পনা আছে?

মিজানুর রহমান মিজান: আমাদের পৌরসভায় আদিবাসীরা ধীরে ধীরে শিক্ষিত হয়ে উঠছেন। শিক্ষাকে তাদের মাঝে আরও বিস্তৃত করতে মিশনারিসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে কাজ করার পরিকল্পনা আছে।

তানোর পৌর মেয়র

বাংলা ট্রিবিউন: এই পৌরসভাকে মডেল পৌরসভায় উন্নীত করতে কী উদ্যোগ নেওয়া যায় বলে মনে করেন?

মিজানুর রহমান মিজান: পানি, বিদ্যুৎ ও রাস্তাসহ সমস্যাগুলোর সমাধানই মডেল পৌরসভায় উন্নীত হওয়ার ধাপ। আমাদের যেটুকু সম্পদ আছে তা সুষ্ঠুভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করব। যাতে করে দুর্নীতিমুক্ত উপায়ে পৌর নাগরিকদের পাশে নিয়ে এলাকার উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখতে পারি। মানুষের পাশে থেকে তাদের চাহিদা অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। সর্বোপরি সরকারের সহায়তা পেলে মডেল পৌরসভার পথে তানোরকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব বলে মনে করি।

বাংলা ট্রিবিউন: পৌরসভাগুলোর উন্নয়নে সরকার প্রতিবছর যে বাজেট পাঠায় তা কতখানি কার্যকর?

মিজানুর রহমান মিজান: আমি তো এবারই প্রথম দায়িত্ব পেলাম। এখনও জানি না প্রতিবছর সরকার থেকে কত টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায়। পৌরসভার উন্নয়নের জন্য তা যথেষ্ট নাও হতে পারে। তবে যত টাকায় পাই না কেন, চেষ্টা করবো পৌরসভার উন্নয়নে সেটা ব্যয় করতে। কাউকে অপচয় অথবা দুর্নীতি করার সুযোগ দেওয়া হবে না।

বাংলা ট্রিবিউন: একই সড়ক নির্মাণে অব্যবস্থাপনা থাকে চোখে পড়ার মতো।

মিজানুর রহমান মিজান: আমি আগেই বলেছি এই পৌরসভায় মেয়রের চেয়ারে এখন নতুন ব্যক্তি এসেছে। শতভাগ করতে পারব না। তবে ৮০ শতাংশ কাজ ঠিকভাবে করার চেষ্টা করব। একদিনে সব পরিবর্তন করে দিতে পারব না। তবে আমার পরিষদ নিয়ে কাজগুলো ঠিকভাবে তদারকি করার চেষ্টা করব।

বাংলা ট্রিবিউন: টেন্ডার বিষয়ক জটিলতা কী করে সামাল দেবেন বলে ভাবছেন?

মিজানুর রহমান মিজান: তানোরে টেন্ডারবাজী নিয়ে খুব একটা ঝামেলা নেই। লাটারির মাধ্যমে টেন্ডার ছাড়া হবে। কোনও দলই চাপ সৃষ্টি করতে পারবে না। উন্নয়নের জন্য যোগ্য ঠিকাদাররাই লটারিতে অংশ নেবেন।

তানোর পৌরসভা বিষয়ক তথ্য ১৯৯৫ সালের ১ ডিসেম্বর ২৭ দশমিক ৪৩০ বর্গকিলোমিটার আয়তন নিয়ে রাজশাহীর তানোর পৌরসভা গঠিত হয়। তানোরকে ‘গ’ শ্রেণির পৌরসভার মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। ৯টি ওয়ার্ডে তানোর পৌরসভার মোট জনসংখ্যা ৫০ হাজার ৯৩০ জন। পৌরভোটারের সংখ্যা ২১ হাজার ৬৭৪ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ১১ হাজার ৬৪০ জন এবং নারী ১০ হাজার ৭ জন।

/এইচকে/এফএস /এএইচ/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ