কাঁদিয়ে গেলেন হাসির নায়ক টেলি সামাদ

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৩:২২, এপ্রিল ০৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৪৪, এপ্রিল ০৭, ২০১৯

কাঁদছেন নায়িকা অঞ্জনাআজীবন অভিনয় দিয়ে মানুষকে হাসিয়েছেন, মুগ্ধ করেছেন গান গেয়েও। সেই হাসির নায়ক টেলি সামাদ শেষ বিদায় নিলেন সবাইকে কাঁদিয়ে।
যে এফডিসিতে টেলি সামাদের উপস্থিতি মানে ছিল সবার জন্য আনন্দ আর মজার ঘটনা, সেখানে আজ (৭ এপ্রিল) তিনি এলেন নিথর দেহ নিয়ে। আনন্দের বদলে তিনি প্রিয় এফডিসিতে ছড়িয়ে দিলেন নীল বেদনা।
এফ‌ডি‌সির প্র‌যোজক স‌মি‌তির সাম‌নে আজ (৭ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে আনা হয় টেলি সামাদের মরদেহ। প্রিয় সহকর্মী‌কে শেষ বিদায় জানাতে ছু‌টে এসেছেন চলচ্চিত্রের প্রায় সর্বস্তরের মানুষ। এ সময় তার মর‌দেহে ফুল দি‌য়ে শু‌ভেচ্ছা জানায় তথ্য মন্ত্রণালয়, বাংলা‌দেশ চল‌চ্চিত্র ‌শিল্পী স‌মি‌তি, বাংলা‌দেশ চল‌চ্চিত্র প‌রিচালক স‌মি‌তি, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটসহ বেশ ক‌য়েকটি সংগঠন।
টেলি সামাদের ছোট ছেলে দিগন্ত সামাদ ব‌লেন, ‘আমার বাবা সব সময় চে‌য়ে‌ছেন মানুষ‌কে হাসা‌তে। কাউ‌কে কষ্ট দি‌য়ে কোনও কথা বল‌তেন না। বাবার কোনও কথায় য‌দি কেউ কষ্ট পে‌য়ে থাকেন, তা‌কে ক্ষমা ক‌রে দেবেন। সবাই আমার বাবার জন্য দোয়া কর‌বেন।’
এদিকে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ব‌লেন, ‘তি‌নি আমাদের চলচ্চিত্রের গুণী শিল্পী ছি‌লেন। তার অভিনয়ে মুগ্ধ ছিলাম আমরা সবাই। তার এই চলে যাওয়া আমাদের জন্য বেদনার।’
নায়ক ও এমপি ফারুক বলেন, ‘টেলি সামাদের অনেক গুণ ছিল। অনেকে হয়তো জানেন না তিনি স্টেজে ভালো গান গাইতে পারতেন। গান গেয়েও মানুষকে হাসাতে পারতেন। তিনি ছিলেন আপাদমস্তক একজন শিল্পী। এমন শিল্পী খুব বেশি জন্মায় না।’
টেলি সামাদকে বিদায় জানাতে এফডিসিতে আরও আসেন আলমগীর, ইলিয়াস কাঞ্চন, অঞ্জনা, আলিরাজ, জা‌য়েদ খান, অমিত হাসান, সম্রাট, জায়েদ খান,  ড্যানি সিডাক, র‌ফিকুল আলম, ফ‌কির আলমগীর, মুশ‌ফিকুর রহমান গুলজারসহ অনেকে।
এদিন দুপুর সা‌ড়ে ১২টায় অনু‌ষ্ঠিত হয় তার নামা‌জে জানাজা। জানাজা শে‌ষে বেলা ১টায় মর‌দেহ বহনকারী গা‌ড়ি‌টি ছেড়ে যায় টেলি সামাদের জন্মগ্রাম মু‌ন্সীগ‌ঞ্জের নয়াগাঁওর উদ্দেশে। সেখানেই তাকে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হবে।
এফডিসিতে জানাজাপ্রসঙ্গত, চার দশকের জনপ্রিয় অভিনেতা টেলি সামাদ ৬ এপ্রিল বেলা ১টা ৩০ মিনিটের দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। টেলি সামাদের চার ছেলেমেয়ে। দুই মেয়ের নাম কাকলি ও বিন্দু। দুই ছেলে সুমন ও দিগন্ত। এরমধ্যে বড় ছেলে সুমন থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে।
টেলি সামাদের জন্ম ১৯৪৫ সালের ৮ জানুয়ারি মুন্সীগঞ্জের নয়াগাঁও গ্রামে। তার আসল নাম আবদুস সামাদ হলেও সিনেমায় এসে হয়ে যান টেলি সামাদ।
তিনি পড়াশোনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায়। সংগীতেও রয়েছে এই গুণী অভিনেতার পারদর্শিতা। ‘মনা পাগলা’ ছবির সংগীত পরিচালনা করেছেন তিনি।
নজরুল ইসলামের পরিচালনায় ১৯৭৩ সালের দিকে ‘কার বৌ’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে এই অঙ্গনে পা রাখেন তিনি। তবে দর্শকের কাছে যে ছবিটির মাধ্যমে সর্বাধিক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন সেটি হলো ‘পায়ে চলার পথ’।
অভিনয়ের বাইরে ৫০টির বেশি চলচ্চিত্রে তিনি গানও গেয়েছেন। অভিনয় করেছেন প্রায় ছয়শ চলচ্চিত্রে। যদিও এই অভিনেতার আজীবন আক্ষেপ ছিল জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার না পাওয়ার কারণে।
২০১৫ সালে টেলি সামাদ অভিনীত সর্বশেষ ছবি মুক্তি পায় অনিমেষ আইচের ‘জিরো ডিগ্রি’।টেলি সামাদ

/এম/এমএম/এমওএফ/

লাইভ

টপ