কান কথা-৯ কানে সিনেমার টানে

Send
জনি হক, কান (ফ্রান্স) থেকে
প্রকাশিত : ১০:১৯, মে ২৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩৩, মে ২৫, ২০১৯

কান উৎসব থেকে দেওয়া প্রতিবেদকের এবারের আইডি কার্ডসিনেমা ক্যালেন্ডারের সবচেয়ে বড় আয়োজন কান উৎসব। প্রতি বছরের মতো এবারও মে মাসে বসেছে এর ৭২তম আসর। তারকা সমাবেশ, লালগালিচা, বাহারি পোশাক, ফটোকল, সংবাদ সম্মেলন, বিলাসবহুল প্রমোদতরী, মাঝরাত অবধি পার্টি, শ্যাম্পেন, নতুন সব চলচ্চিত্র দেখা, ছবি বেচাকেনার আলোচনা, গান-বাজনা, খানাপিনাসহ দক্ষিণ ফরাসি উপকূলে অফুরান আয়োজন।
শৈল্পিক আবহ ও জৌলুস হাত ধরাধরি করে হাঁটে সাগরপাড়ে।
উৎসব চলে এসেছে শেষের দিকে। তাই এখন সকাল থেকে দুপুর অবধি ভিড় একটু কম থাকে। বিকাল হলেই শোরগোল পড়ে যায় পালে দে ফেস্তিভাল ভবনের চারপাশে। কারণ এ সময় লালগালিচায় পা মাড়ান তারকারা।
বৃহস্পতিবার (২৩ মে) হলিউড হার্টথ্রব লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও গাড়ি থেকে নেমে সড়কের ধারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকা ভক্ত-দর্শকদের অনেককে অটোগ্রাফ দেন। তাকে সামনে দেখে এশিয়ান এক নারী ভক্ত তো আনন্দে কেঁদেকুটে একাকার!
কানাঘুষা চলছে, ডিক্যাপ্রিও অভিনীত ‘ওয়ান্স আপন অ্যা টাইম ইন...হলিউড’ ছবির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারের জন্য ব্যালকনি টিকিট নাকি ১ হাজার ডলার করে বিক্রি হয়েছে! তবুও নাকি শতাধিক দর্শক-সাংবাদিক সেদিন ঢুকতে পারেননি। কারণ আসন পূর্ণ হয়ে গেছে। তবে উৎসবের প্রেস অফিস সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ইনভাইটেশন কোনোভাবেই বিক্রির জন্য দেওয়া হয় না। যদিও নির্ধারিত আসনের চেয়ে বেশি টিকিট কীভাবে অতিথিদের হাতে গেলো তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
১২ দিনের এত বড় একটি আয়োজনে একটু এদিক-সেদিক হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। সব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আয়োজকরা কিন্তু চেষ্টার ত্রুটি রাখেন না। সশরীরে সব অনুষ্ঠানে অংশ নিলেই তা বোঝা যায়। বিশেষ করে সংবাদকর্মীদের জন্য স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ রাখতে কত্তো কিছুই না আছে! কান কথার আগের কিস্তিগুলোতে সেসব জানিয়েছি। আলাদা করে বললে, কান উৎসবের পরিচালক থিয়েরি ফ্রেমো এবার সংবাদকর্মীদের একটা করে দারুণ ব্যাগ উপহার দিয়েছেন। এটি চাইলে দুই কাঁধে পেছন দিকে ঝুলিয়ে রাখা যায়। গত চার আসরে তাদের দেওয়া ব্যাগ সেভাবে রাখার সুযোগ ছিল না।
সৌজন্য ব্যাগটা নিয়ে চলাফেরা করা সুবিধা। এবার আরেকটু সুবিধা হয়েছে উৎসবের ভেন্যুর কাছাকাছি অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়ায়। মাঝরাত অবধি লেখালেখি করে, ছবি দেখে ও ঘোরাফেরা করে বাসায় যাওয়া যাচ্ছে। কানপ্রবাসী চট্টগ্রামের মানুষ সেজান ভাইকে এজন্য দেখা হলেই ধন্যবাদ দেই।
অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বেরিয়ে পালে দে ফেস্তিভাল ভবনের দিকে যেতে কয়েকটি ছোট ছোট বাসস্ট্যান্ড পড়ে। সেগুলোতে কান উৎসবে ইতিপূর্বে আসা তারকাদের রঙিন ছবি শোভা পায়। গার দো কান রেলস্টেশনের সামনের বাসস্ট্যান্ডেও তারকাদের ছবি। স্টেশনের মূল ফটকের বহির্ভাগে একটি প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচিতে নির্বাচিতদের ছবি এঁটে রাখা হয়েছে। এর কাছাকাছি একটি ফিটনেস সেন্টার। এর দেয়ালে সুঠাম দেহের তারকা আর্নল্ড শোয়ার্জনেগারের একটি পেশীবহুল ছবি চোখে পড়ে। এটিও তিনি কান উৎসবে অংশ নেওয়ার সময় সাগরপাড়ে তোলা। বিশাল ছবিটির ঠিক নিচেই পাবলিক টয়লেট। এটি ব্যবহার করতে জনপ্রতি লাগে ৫০ পয়সা (ইউরো)।
চাঁদপুরের ছেলে রুবেলের সঙ্গে শহরের এদিক-ওদিক ঘুরছিলাম। তার মতো কয়েকজন বাঙালি বিকালে কাজের বিরতিতে পালে দে ফেস্তিভাল ভবনের সামনের সড়কে এসে উৎসবের বিভিন্ন আয়োজন উপভোগ করেন। লালগালিচায় প্রচুর ভিড় থাকে। তাই সাধারণ দর্শকদের সুবিধার্থে ভবনের একপাশে বড় পর্দায় ও সড়কের ধারে পর্দায় পুরো অনুষ্ঠান দেখানো হয়।
সংবাদকর্মীরা চাইলে প্রেস রুমের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়েই লালগালিচার জৌলুস উপভোগ করতে পারেন। অনেক তারকার মাঝে ফরাসি সৌরভ নিয়ে হাজির হওয়া মারিয়ন কঁতিয়ার কথা বলি। অবশ্য তার রূপ নিয়ে বললে হাজার কবিতা লেখা হয়ে যাবে! সবুজ চোখজোড়ায় কী দারুণ সৌন্দর্য ঠিকরে পড়ছে। ৪২ বছর বয়সী এই তারকার কোনও ছবি নেই এবারের আসরে। তবুও তিনি সিনেমার টানে এসেছেন। কানসৈকতের প্রতি মানুষের ভালোলাগা এই একটা কারণেই।

/এমএম/

লাইভ

টপ